বহু পর্যটকের পছন্দের তালিকায় সিকিম। অনেকে বার বার সিকিম ঘুরতে যান। কখনও উত্তর সিকিম, কখনও আবার পূর্ব বা দক্ষিণে পাড়ি দেন। তবে দিন দুয়েক আগে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একাধিক বার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠা সিকিম নিয়ে এখন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে পর্যটকদের মধ্যে। যদিও সিকিম প্রশাসনের তরফে বিবৃতি জারি করে আতঙ্কিত না-হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে দফায় দফায় সিকিমের বিভিন্ন অংশে ভূমিকম্প হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৩ বার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। সোমবার আরও এক বার ভূমিকম্প অনুভূত হয় সিকিমে। ভূমিকম্পের উৎসস্থল রাবাংলা থেকে ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে। জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেল ৫টা নাগাদ আবার ভূমিকম্প হয় পশ্চিমবঙ্গের উত্তরের ওই ছোট্ট রাজ্যে। রিখটার স্কেলে মাত্রা ৩.৭। তার পরেই নড়েচড়ে বসেন সিকিম কর্তৃপক্ষ।
‘সিকিম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’র তরফে ভূমিকম্প নিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় বিবৃতি জারি করা হয়। সেই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ‘সিসমিক জ়োন-৬’ হিসাবে দেখানো হয়েছে সিকিমকে। তবে আতঙ্কিত না-হয়ে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে জনগণকে। সিকিম প্রশাসনের কথায়, ‘‘ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। কখন কোথায় হবে তা আগে থেকে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।’’
আরও পড়ুন:
যদিও এই পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না-হয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। জনগণে উদ্দেশে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘গুজবে কান দেবেন না। গুজব ছড়াবে না। কোনও ভিত্তিহীন খবরে বিশ্বাস করবে না। সরকার বা সরকার অনুমোদিত সংস্থার দেওয়া তথ্যের উপর ভরসা রাখুন।’’ সরকারের পরামর্শ, ‘‘বাড়ি বা কর্মক্ষেত্র— যেখানেই থাকুন না কেন, তা নিরাপদ কি না তা নিশ্চিত করে নিন। যদি কম্পন অনুভূত হয়, তবে ভূমিকম্পের সতর্কতা অবলম্বন করুন।’’
ইতিমধ্যেই সিকিম প্রশাসন থেকে বিভিন্ন জায়গায় ভূমিকম্প সম্পর্কিত মহড়া (মকড্রিল) আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে জানানো হচ্ছে, ভূমিকম্পে কী করা উচিত, কী নয় তার প্রশিক্ষণও দেওয়া। হবে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা করতে প্রস্তুত বিপর্যয় মোকাবিলা-সহ বিভিন্ন দফতর।