প্রায় তিন মাস ধরে এক নাবালিকাকে বাড়িতে বন্দি করে বারংবার ধর্ষণ এবং ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ের অভিযোগ শিলিগুড়ির মাটিগাড়া থানা এলাকায়। মূল অভিযুক্ত দু’জন। তাঁরা সম্পর্কে সহোদর এবং তৃণমূল নেতার পুত্র। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়়িয়েছে এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের মাটিগাড়ায় দীর্ঘ তিন মাস ধরে এক নাবালিকাকে বাড়িতে আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মূল অভিযুক্তেরা মাটিগাড়ার এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের দুই পুত্র। ১৫ বছরের এক নাবালিকাকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাঁরা আটকে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ। দিনের পর দিন বন্ধুদের নিয়ে মেয়েটিকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। তার পর মামলা থেকে বাঁচতে নাবালিকাকে লোকদেখানো বিয়ে করেছিলেন পঞ্চায়েত সদস্যের এক পুত্র। এখানেই শেষ হচ্ছে না অভিযোগ।
বিয়ের পরেও নাবালিকার উপর অত্যাচার শুরু করেন তৃণমূল নেতার পুত্রেরা। পঞ্চায়েত সদস্যের পুত্রদ্বয়ের সঙ্গে তাঁদের বন্ধুরাও ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করতেন বলে অভিযোগ। ‘নির্যাতিতা’র পরিবারের লোকজন পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ি গিয়ে মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা করেছেন। তখন তাদের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
গত তিন মাস ধরে ওই নাবালিকা একাধিক বার পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ি থেকে পালিয়েছেন। কিন্তু তাঁকে আবার তুলে নিয়ে গিয়েছেন অভিযুক্তেরা!
‘নির্যাতিতা’র পরিবারের দাবি, তারা পুলিশের সাহায্য চেয়েও পায়নি। একাধিক বার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ নিতেই অস্বীকার করে পুলিশ। রাজ্যে নতুন সরকারের আমলে ওই তৃণমূল নেতা এবং তাঁর পুত্রদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তারা। সম্প্রতি মেয়েকে উদ্ধার করে তারা বাড়ি নিয়ে গিয়েছে। মাটিগাড়া থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার পঞ্চায়েত সদস্যের দুই পুত্রকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু বুধবার ওই কথা লোক জানাজানি হতেই শুরু হয়েছে উত্তেজনা। তৃণমূল নেতা এবং তাঁর পুত্রদের শাস্তির দাবি জানিয়ে এবং পুলিশের উপর ক্ষোভ উগরে মাটিগাড়া থানা ঘেরাও করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আরও পড়ুন:
‘নির্যাতিতা’র দাবি, মাস তিনেক ধরে পঞ্চায়েত সদস্যের দুই পুত্র তাকে ধর্ষণ করেছেন। তাঁদের বন্ধুরাও একেক দিন তাঁকে যৌন হেনস্থা করেছেন। ওই নাবালিকার কথায়, ‘‘আমার মা আমাকে একাধিক বার ওই বাড়ি থেকে বার করে আনার চেষ্টা করেছে, কিন্তু পারেনি। মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমার ভাইয়ের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ভয় দেখানো হয়েছে। তাই পরিবার সব জেনেও কিছু করতে পারেনি। এ বার কোনও মতে আমি পালিয়ে আসতে পেরেছি। পুলিশের কাছে অভিযোগও করেছি।’’
এ নিয়ে পুলিশ এখনই বিস্তারিত ভাবে কিছু বলেনি। তবে মঙ্গলবার ধৃতদের শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে বাল্যবিবাহের মামলা-সহ ধর্ষণ এবং পকসো আইনে মামলা রুজু হয়েছে। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে পুরো ঘটনা জানতে চাইছেন তদন্তরকারীরা।