পুরসভা ভোট যে কোনও সময় ঘোষণা হতে পারে। তার মধ্যেই পুরসভার ভোটার হলেন তৃণমূলের কোচবিহার জেলার প্রাক্তন সভাপতি তথা প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। বর্তমানে তিনি কোচবিহার পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ওই ওয়ার্ড থেকেই ভোটে নাম তুলেছেন তিনি। স্বাভাবিক ভাবেই দলের মধ্যে গুঞ্জন, কোচবিহার পুরসভায় এবার কি তৃণমূলের মুখ প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ? অবশ্য দলের তরফে এমন কোনও ঘোষণা করা হয়নি। রবীন্দ্রনাথ বলেন, “পরিবার নিয়ে অনেক দিন ধরেই আমি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বসবাস করছি। এত দিন গ্রামের বাড়ির বুথ কেন্দ্রের ভোটার ছিলাম। কাজকর্মে তাতে কিছুটা অসুবিধা হয়। তাই এ বার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছি। অন্য কোনও বিষয় নেই।” তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি গিরীন্দ্রনাথ বর্মণ বলেন, “উনি শহরে বসবাস করছেন। শহরের ভোটার হয়ে ভালই করেছেন। এর মধ্যে কোনও রাজনীতির বিষয় নেই।”
নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের ডাউয়াগুড়ির ভোটার ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর গ্রামের বাড়ি ছিল ডাউয়াগুড়ি। দীর্ঘসময় আগেই তিনি গ্রাম ছেড়ে শহরে বাড়ি করে পরিবার নিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন। কিন্তু তাঁর ভোটার তালিকায় নাম ছিল ডাউয়াগুড়ি থেকেই। তিনি বেশ কয়েকবার নাটাবাড়ি কেন্দ্র থেকে বিধানসভায় লড়াই করেছিলেন। তার মধ্যে পর পর দু’বার ওই কেন্দ্র থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন। এ বার বিধানসভায় নাটাবাড়ি কেন্দ্রেই বিজেপি প্রার্থীর কাছে হেরে যান রবীন্দ্রনাথ। পরে তাঁকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান করা হয়। এই সময়ের মধ্যেই ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য আবেদন করেন তিনি। তাঁর নাম শহরের ভোটার তালিকায় উঠেও যায়। তার পরে তা নিয়ে গুঞ্জন ছড়াতে শুরু করে। দলেরই একটি অংশ তা নিয়ে কটাক্ষ করতেও শুরু করেন রবীন্দ্রনাথকে। তাঁদের বক্তব্য, বিধানসভায় জিততে না পেরে পুরসভায় ভোটে দাঁড়ানোর কথা ভেবেছেন রবীন্দ্রনাথ। নাটাবাড়ির একটি বৈঠক থেকে তৃণমূলের চেয়ারম্যান উদয়ন গুহ ওই বিষয়ে নাম না করে রবীন্দ্রনাথকে কটাক্ষ করেন। উদয়ন অবশ্য পরে তা নিয়ে কিছু বলতে চাননি।
কোচবিহার পুরসভায় দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল। এ বার ভোট না হওয়ায় তৃণমূলেরই প্রাক্তন কাউন্সিলরকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের নিরিখে পুরসভা এলাকায় বিজেপির থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। এই অবস্থায় রবীন্দ্রনাথের মতো হেভিওয়েট নেতা পুরসভার ভোটার হওয়ায় গুঞ্জন ছড়ায়। বিজেপির কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে বলেন, “মুখ যাকেই করা হোক কোনও লাভ হবে না তৃণমূলের।”