ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে রাজ্যের চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। নির্দেশের পর প্রায় ৭২ ঘণ্টা কাটল, কিন্তু তার পরেও এখনও কোনও পদক্ষেপ হয়নি! এ বার সেই বিষয়েই স্টেটাস রিপোর্ট চাইল কমিশন। সংশ্লিষ্ট দুই জেলার জেলাশাসক তথা জেলা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককের (ডিইও) কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার তালিকার কাজ যাঁদের তত্ত্বাবধানে চলছিল, সেই দুই ইআরও (নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক) এবং দুই এইআরও-র (সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক) বিরুদ্ধে কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগকে কেন্দ্র করে শোরগোল শুরু হতেই পদক্ষেপ করে কমিশন। তাঁদের সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাজ্যের তৎকালীন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশও দেয় কমিশন। এ বিষয়ে দু’বার মনোজকে চিঠিও দেওয়া হয়। কিন্তু তার পরেও নির্দেশ কার্যকর করা না-হওয়ায় গত শুক্রবার সংশ্লিষ্ট দুই জেলার জেলাশাসককে একই নির্দেশ দেয় কমিশন।
যদিও সোমবার দুপুর পর্যন্ত ওই চার আধিকারিকের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। তার পরেই কমিশন আবার দুই জেলাশাসকের কাছ থেকে রিপোর্ট চাইল। কমিশনের নির্দেশ মেনে এফআইআর দায়ের হয়েছে কি না, তার স্টেটাস রিপোর্টও চাওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর।
আরও পড়ুন:
শুধু ওই চার আধিকারিক নন, সুরজিৎ হালদার নামে এক কর্মীর বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। ওই কর্মী ডেটা এন্ট্রির কাজে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে কি না, তা-ও জানতে চেয়েছে কমিশন।
বারুইপুর পূর্বের ইআরও এবং এইআরও হিসাবে কাজ করছিলেন দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী এবং তথাগত মণ্ডল। ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য ওই দুই দায়িত্বে ছিলেন বিপ্লব সরকার ও সুদীপ্ত দাস। উল্লিখিত চার আধিকারিকই ডব্লিউবিসিএস অফিসার। দেবোত্তম দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর হিসাবে কাজ করেন। তথাগত জয়নগর-১ ব্লকের ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, বিপ্লব পূর্ব মেদিনীপুরের সংখ্যালঘু বিষয়কের জেলা অফিসার, সুদীপ্ত তমলুক ব্লকের পঞ্চায়েত অ্যাকাউন্ট এবং অডিট অফিসার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।