সপ্তাহের প্রথম দিন, সোমবার সকাল থেকে যাত্রীদের কাছে ‘বিভীষিকা’ হয়ে উঠেছে মেট্রো! ধুঁকতে ধুঁকতে চলছে পরিষেবা। সময়সূচি মানার কোনও বালাই নেই। স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকছে তো থাকছেই। কখনও আবার স্টেশনে ট্রেন খালি করে দিতে বলছেন মেট্রোকর্মীরা। সোমবার কলকাতা মেট্রোর ব্লু লাইনের (শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বর) পরিষেবা বার বার ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে যাত্রীরা।
সোমবার সকাল থেকেই অনিয়মিত ব্লু লাইনের পরিষেবা। স্টেশনে গিয়ে মেট্রো না-পাওয়ার অভিযোগ তোলেন যাত্রীরা। স্টেশনে লাগানো টাইম বোর্ডে জ্বলজ্বল করছে আপ-ডাউন মেট্রোর সময়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও মেট্রোর দেখা নেই। কিছু ক্ষণ পর দেখা যায় টাইম বোর্ডে আবার পাল্টে যায় মেট্রো আসার সময়। সেই সময়েও আসে না ট্রেন। ক্রমেই ভিড় বাড়তে থাকে স্টেশনগুলিতে। প্রত্যেকেই দিশাহারা! কোনও যাত্রীর ধারণা নেই কেন আসছে না মেট্রো। স্টেশনে লাগানো ঘোষণা করার মাইকগুলোও নীরব! উত্তর নেই মেট্রোকর্মীদের কাছেও।
যাত্রীদের অভিযোগ, কখনও একটা আবার কখনও পর পর দু’টি মেট্রো বাতিল। কেউ কেউ আবার এ-ও অভিযোগ করেন, স্টেশনে আসার পর থেকে তিন বার টাইম-বোর্ডে সূচি বদলেছে কিন্তু একটা মেট্রোও সময়ে আসেনি। কেউ আধ ঘণ্টা, কেউ ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করেছেন মেট্রোর জন্য। অনেকে অপেক্ষা করতে করতে মেট্রোর আশা ছেড়ে সড়কপথে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
একে সময় না-মানার সমস্যা, তার সঙ্গে দোসর ভিড়! সময়ে মেট্রো না-আসায় একটা ট্রেনেই গাদাগাদি করে ওঠার চেষ্টা করেন যাত্রীরা। ভিড়ের কারণে অনেক যাত্রীই মেট্রোয় উঠতেও পারেননি এমন অভিযোগও রয়েছে। যাত্রীদের কথায়, ‘‘দুটো বা তিনটে ট্রেনের যাত্রীরা এক ট্রেনে উঠলে এমনই হবে।’’ কিন্তু মেট্রো কর্তৃপক্ষ নীরব। কোনও ঘোষণা নেই! কী কারণে মেট্রো বিভ্রাট, তা জানেন কেউ। অনেক পরে মেট্রো কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, অনিবার্য কারণে ব্লু লাইনের সম্পূর্ণ অংশে মেট্রো পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মেট্রো চলছে দক্ষিণেশ্বর থেকে মহানায়ক উত্তম কুমার (টালিগঞ্জ) পর্যন্ত। তবে যাত্রীদের দাবি, দক্ষিণেশ্বর-টালিগঞ্জের মধ্যেও পরিষেবা স্বাভাবিক নয়। সময়ে মেট্রো আসছে না।
সকাল পেরিয়ে বেলা গড়ালেও পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার কোনও লক্ষণ নেই মেট্রোর। কী কারণে পরিষেবা ঘাঁটল? শেষমেশ মেট্রো জানায়, যান্ত্রিক গোলযোগই আসল কারণ! তবে দুপুরের মধ্যেই পুরোপথে অর্থাৎ শহিদ ক্ষুদিরাম থেকে দক্ষিণেশ্বর থেকে পরিষেবা স্বাভাবিক! আদৌ কি স্বাভাবিক? যাত্রীদের কথায়, ‘‘মেট্রো সবসময়ই দাবি করে পরিষেবা স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। দুর্ভোগ, ভোগান্তি অব্যাহত।’’ যাত্রীদের প্রশ্ন, কেন প্রায় প্রতিদিন কেবল ব্লু লাইনে কোনও কোনও সমস্যা লেগেই আছে?
মানিকতলার বাসিন্দা অমিতাভ মজুমদারের আক্ষেপ, ‘‘মেট্রোর এই লাইন (ব্লু লাইন) সবচেয়ে পুরনো। তার পরে একে একে জালের মতো কলকাতা এবং তার আশেপাশে ছড়িয়ে পড়েছে মেট্রোর লাইন। আর এখন সেই প্রাচীন লাইনই অবহেলিত!’’ একই সুর শোনা গেল শ্যামবাজারের বাসিন্দা কানাই দাসের গলাতেও। তিনি রোজ শ্যামবাজার থেকে মেট্রো ধরে এসপ্ল্যানেড যান অফিসে। তবে সোমবার সকালে মেট্রো ধরতে এসে বিপদে পড়েন। প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষা করার পর মেট্রো না-পেয়ে শেষপর্যন্ত এসপ্ল্যানেড যাওয়ার জন্য বাস ধরেন।
শোভাবাজার স্টেশনে দাঁড়িয়ে এক যাত্রীর দাবি, ‘‘সকাল-বিকেল-রাত, কখনই মেট্রো ঠিক সময়ে পাওয়া যায় না। কখনও শুনি রেক খারাপ, কখনও বলে সিগন্যাল আজ আবার শুনছি যান্ত্রিক গোলযোগ।’’
চাঁদনি চক স্টেশন থেকে বার হওয়া এক যাত্রী দাবি, তিনি কালীঘাট স্টেশনে আধ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলেন। কোনও মেট্রো ছিল না। তার পরে যে মেট্রো এল, তাতে এতই ভিড় যে উঠতেই পারলেন না। আরও ১০ মিনিট পর যে মেট্রোটি আসে তাতে কোনও রকমে ঠেলেঠুলে উঠে চাঁদনি পৌঁছেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘কখন বেরিয়েছি, তাও সময়ে পৌঁছোতে পারলাম না!’’