মুর্শিদাবাদের বেলডাঙাকাণ্ডে ধৃত ৩১ জনকে বৃহস্পতিবার বিচার ভবনে পেশ করা হল। তাঁদের মধ্যে সাত জনকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। কেন্দ্রীয় সংস্থাটি এই ঘটনার তদন্ত করতে পারে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের আইনজীবী। আবারও এনআইএ অভিযোগ করে, রাজ্য পুলিশ কেস ডায়েরি হস্তান্তর করছে না। কেন কেস ডায়েরি হস্তান্তর করা হচ্ছে না, তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত।
অন্য দিকে, অভিযুক্তদের আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, কে তদন্ত করবে, তা এখনও স্থির হল না। অথচ তাঁর মক্কেলকে হেফাজতে থাকতে হচ্ছে। এই বিষয়টি বিবেচনার জন্য আবেদন করেন তিনি। প্রসঙ্গত, ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবরে অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা। গত ১৬ জানুয়ারি আলাউদ্দিনের দেহ সেখানে পৌঁছোতেই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামেন। ভিন্রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই বিক্ষোভ থেকেই অশান্তি ছড়ায়। পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নেমে বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতারও করে। তবে হাই কোর্ট জানায়, কেন্দ্র যদি চায়, তবে এই ঘটনার তদন্ত এনআইএ করতে পারে। তার পরই মামলা যায় এনআইএ-র হাতে। যদিও তারা বার বার অভিযোগ করছে, কেস ডায়েরি দিচ্ছে না রাজ্য পুলিশ। কয়েক দিন আগে বিচার ভবনে এই মামলার শুনানিতেও একই দাবি করেছিল এনআইএ। কেন সেই কেস ডায়েরি হস্তান্তর করা হয়নি, সেই নিয়ে আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়েন বেলডাঙাকাণ্ডের তদন্তকারী অফিসার।
বেলডাঙার অশান্তির ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা হয়। তার মধ্যে একটি মামলা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। সেই মামলায় হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, কেন্দ্রীয় সরকার যদি চায়, তবে এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করাতে পারে। একই সঙ্গে রাজ্যকে বলেছিল, প্রয়োজনে কেন্দ্রের থেকে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইতে পারে তারা। হাই কোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে যায় রাজ্য। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ জানায়, তারা এনআইএ তদন্তে হস্তক্ষেপ করবে না।