ভোটের আগেই রাজ্যে আসছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এ দিকে স্কুল-কলেজগুলিতে এখনও শেষ হয়নি পরীক্ষা। ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় আসবে আধাসামরিক বাহিনী। সাধারণত তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয় কলেজগুলিতে। এ দিকে স্নাতকস্তরে তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা থাকবে ওই সময়, ফলে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ অধ্যক্ষদের কপালে।
জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বিভিন্ন কলেজে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বলা হয়েছে, পরীক্ষার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকার বন্দোবস্ত করতে হবে। কিন্তু কলেজগুলির দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় চিঠি পাঠালেও প্রশাসনের তরফে তেমন সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। বেশির ভাগ কলেজেই স্থানাভাব। ফলে পরীক্ষা এবং আধাসেনার থাকার ব্যবস্থা একসঙ্গে করার ক্ষেত্রে তাদের সমস্যায় পড়তে হবে।
আরও পড়ুন:
সিটি কলেজের অধ্যক্ষ শীতলকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, “লোকসভা নির্বাচনের অভিজ্ঞতা ভাল নয়, তার ফলে এ বার ভয় পাচ্ছি। সে বার প্রায় ৫২ দিন কলেজের সব ঘর দখল করে রেখেছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। এ বার স্নাতক তৃতীয় সেমেস্টারের পরীক্ষা চলবে এই সময়। কী করে সব দিক সামাল দেওয়া যাবে জানি না।” তিনি দাবি করেছেন অন্তত তিন কোম্পানি জওয়ান আসবেন তাঁদের কলেজে, এমনই জানিয়েছে পুলিশ। প্রায় ৩০০ জনের থাকার বন্দোবস্ত করার পর পরীক্ষা পরিচালনা করার মতো পরিস্থিতি থাকবে না কলেজে।
২০২৫ স্নাতক স্তরের অনার্স ও মেজর তৃতীয় ও পঞ্চম সেমেস্টারের পরীক্ষা চলবে ৬ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত। এরই সঙ্গে থাকবে বৃত্তিমূলক বিষয়ের পরীক্ষাও। যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজের অধ্যক্ষ পঙ্কজকুমার রায় বলেন, “পরীক্ষা এবং ভোট— দু’টোই জরুরি। কিন্তু এ ভাবে আমরা সামাল দেব কী করে? পুলিশকে জানিয়ে কোনও লাভ হচ্ছে না।”
কলকাতার অনেক কলেজেই দিবা, সন্ধ্যা মিলিয়ে তিনটি কলেজ চলে। সেখানে পরিস্থিতিত আরও সঙ্গীন হতে চলেছে। বঙ্গবাসী সান্ধ্য বা বিদ্যাসাগর কলেজের অধ্যক্ষেরা জানাচ্ছেন স্থানাভাবের কারণে তাঁরা বড় সমস্যায় পড়তে চলেছেন।
সমস্যা বেশি মহিলা কলেজগুলির ক্ষেত্রে। লেডি ব্রেবোর্ন কলেজের অধ্যক্ষা শিউলি সরকার জানিয়েছেন, তাঁদের পক্ষে বাহিনী রাখা সম্ভব নয়। একে মহিলা কলেজ, তার উপর ১০টি বিষয়ে স্নাতকোর পড়ানো হয় সেখানে। শিউলি বলেন, “বেনিয়াপুকুর থানায় আমরা চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। কিন্তু এখনও কোনও উত্তর পাইনি।”