আচমকাই যেন বদলে গিয়েছে হাওয়া। শাসকদলে গুঞ্জন, ঠিক কী করতে পারেন নিশীথ প্রামাণিক? পুলিশ-প্রশসানেও কান পাতলে তেমনই ফিসফাস— এ বার তাঁদের ভূমিকা কী হতে পারে? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নিশীথকে কি আরও বেশি গুরুত্ব দিতে হবে? যে পার্টি অফিস ভোটের পর থেকে বন্ধ হয়ে পড়েছিল, তার আশপাশ দিয়েও ঘোরাঘুরি করছেন এক-দু’জন বিজেপি কর্মী। বলছেন, “দাদা এ বারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। পুলিশকেও তাঁর কথা শুনতে হবে।” যদিও ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে রাজ্য পুলিশ পড়ে না। কিন্তু আধাসেনা অবশ্যই আসে।
দল সূত্রে খবর, তৃণমূলে থাকার সময় থেকেই নিশীথের একটি ‘রবিনহুড’ ভাবমূর্তি রয়েছে। যুব তৃণমূলের কোচবিহারের জেলার সাধারণ সম্পাদক থাকার সময়ে জেলা তৃণমূলের মন্ত্রী-বিধায়কদের কার্যত কোণঠাসা করে দিয়েছিলেন তিনি। দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে বিজেপিতে যোগদানের পরেও সেই ভাবমূর্তি বদলায়নি। এ বার তাঁকেই কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি। বিধানসভা ভোটের পরে কোচবিহার থেকে শুরু করে রাজ্য জুড়েই শাসকদলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। বিজেপির একাধিক দলীয় অফিস, কর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, অনেকেই দীর্ঘ সময় ঘরছাড়া হয়ে ছিলেন। যে গ্রামে এক ডাকে বিজেপির শতাধিক মানুষ জমা হয়ে যেতেন, সেখানে এখন এক জনকেও দেখা যায় না। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, একটা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে চারদিকে। তা নিয়ে রাজ্য প্রশাসনকে পাল্টা চাপে ফেলতেই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে নিশীথকে।
বিজেপি নেতৃত্বের মতে, কোচবিহার একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। জেলার বেশিরভাগ অংশ বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে ঘেরা। যে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পাশেই পড়শি রাজ্য অসম। ভুটান সীমান্ত জয়গাঁ-ও খুব বেশি দূর নয়। শিলিগুড়ি থেকে চিন সীমান্তও খুব বেশি দূরে নয়। ‘চিকেন্স নেক’ নিয়ে বারবার নানা তথ্য ও প্রশ্ন উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের কাছে। দলীয় নেতৃত্ব আরও মনে করছে, সীমান্ত নিশীথের হাতের তালুর মতো চেনা। কোথায়, কী সমস্যা সবই তাঁর প্রায় জানা। নিশীথের বাড়ি বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ভেটাগুড়িতে। স্বাভাবিক ভাবেই সেই সমস্যা বা অবস্থার কথা তিনি খুব সহজেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে তুলে ধরতে পারবেন।
বিজেপির কোচবিহার জেলার সভানেত্রী মালতী রাভা বলেন, “প্রথম এক জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পেয়েছি। তিনি সবার জন্য কাজ করবেন।” তৃণমূলের রাজ্যের সহ-সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “বিজেপির সাংসদকে কখনও মানুষের কাজে পাওয়া যায়নি।”