নিজেদের বাড়িতে থাকার উপায় নেই। তাই মুরগির খাঁচাই এখন ওঁদের ঘর।
আলিপুরদুয়ার-২ ব্লকের পশ্চিম চেপানি গ্রামে কেরল থেকে ফেরা তিন শ্রমিককে হোম কোয়রান্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। কিন্তু ওই তিনজনের বাড়িতে হোম কোয়রান্টিন করার মতো ব্যবস্থা নেই। তাই গ্রামের ফাঁকা জায়গায় এক গ্রামবাসীর মুরগির ফার্মেই ওঁদের নিভৃতবাসের ব্যবস্থা হয়েছে। ১৪ দিন সেখানেই থাকবেন তাঁরা। তবে মুরগির খাঁচায় এ ভাবে তিন শ্রমিককে রাখার ঘটনায় সমালেচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ভিন রাজ্য থেকে ফেরা শ্রমিকদের সরকারি কোয়রান্টিনে রাখার কথা প্রশাসনের। কিন্তু কেরল-ফেরত তিন শ্রমিককে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। সংক্রমণ রুখতে এরপর গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য এবং গ্রামবাসীরা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের ওই মুরগির ফার্মে রাখা হয়েছে। গত তিনদিন ধরে সেখানেই রয়েছেন তাঁরা। পঞ্চায়েত এবং গ্রামবাসীরা মিলে তাঁদের দেখাশোনা করছেন। তাঁরাই চাল-ডাল, তেল, নুন, আনাজ এবং অন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে দিচ্ছেন। ওই তিন শ্রমিক সেখানে উনুন বানিয়ে রান্না করে খাচ্ছেন। ফার্মের মালিক ভবেন বর্মণ জানান, তাঁর ফার্মে কোনও মুরগি নেই বলেই সেখানে ওই তিন যুবককে থাকতে দিয়েছেন।
গ্রামবাসীরা জানান, গত ১১ জুন শ্রমিক ট্রেনে চেপে নিউ কোচবিহার স্টেশনে নামেন ওই গ্রামের নীলকমল বর্মণ, পবিত্র বর্মণ এবং মনিরুল হক নামে তিন নির্মাণ শ্রমিক। সেখান থেকে ব্লকের ট্রানজ়িট পয়েন্টে আনা হলেও কোয়রান্টিন কেন্দ্রে না পাঠিয়ে তাঁদের হোম কোয়রান্টিনে চলে যেতে বলা হয়। মনিরুল বলেন, ‘‘আমাদের সবার বাড়িতে মাত্র একটি করে ঘর। তাই পরিবার ও গ্রামবাসীদের স্বার্থে অসুবিধা সত্ত্বেও মুরগির ফার্মে থাকতে বাধ্য হয়েছি।’’
এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য বিজয় দেবনাথ বলেন, ‘‘ব্লক প্রশাসন ভিনরাজ্য থেকে ফেরা তিন শ্রমিকের কোয়রান্টিন কেন্দ্রে রাখার মতো ব্যবস্থা করতে পারেনি। এ ভাবে তিন শ্রমিককে মুরগির ফার্মে রাখা অন্যায় হচ্ছে জানি। কিন্তু বাধ্য হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’’