সঙ্গীতা কুণ্ডুকে অপহরণের অভিযোগ তুলে নিতে তাঁর দাদা শম্ভু কুণ্ডু সহ পরিবারের লোকজনের উপরে চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠল। সোমবার জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে সঙ্গীতা অপহরণ মামলার শুনানির সময়ে লিখিত ভাবে ওই অভিযোগ পেশ করেন শম্ভুবাবুদের আইনজীবী অর্ণব সেনগুপ্ত। সেই আবেদনে এটাও দাবি করা হয়, পুলিশের পক্ষ থেকেও সে ভাবে নিরাপত্তার আশ্বাস পাচ্ছেন না নিখোঁজের পরিবারের লোকজন। উপরন্তু, ধৃত জিম মালিক পরিমল সরকারের লোকজন যাতে নিখোঁজ তরুণীর পরিবারের উপরে মামলা তোলার চাপ দিতে না পারেন, সে জন্যও আদালতের হস্তক্ষেপ চান অর্ণববাবু।
পরিমলবাবুর দুই আইনজীবী সুদীপ ভট্টাচার্য ও শুভজিৎ ভট্টাচার্য অবশ্য অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে জামিনের আর্জি পেশ করেন। সরকারি আইনজীবী এই মামলার সরকারী আইনজীবী প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় সব অভিযুক্তেরই জমিনের বিরোধিতা করেন৷ দু’পক্ষের সওয়াল শোনার পর ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট শুভদীপ রায় পরিমলবাবু সহ পাঁচ জনের জামিন নামঞ্জুর করে ১৪ দিন বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন৷
এ দিন পরিমলবাবু সহ ধৃত পাঁচ জনকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করানো হয়৷ সুদীপবাবু ও শুভজিৎবাবু তাঁদের জামিনের জন্য সওয়াল করেন৷ তাঁদের যুক্তি, ধৃতরা দশ দিন তদন্তকারী সংস্থার হেফাজতে ছিলেন৷ তারপর থেকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে৷ সুদীপবাবু ও শুভজিৎবাবুর দাবি, তাঁদের মক্কেলদের বিরুদ্ধে নতুন কোনও প্রমাণ তদন্তকারী সংস্থা খুঁজে পায়নি৷ তাই জামিন মঞ্জুর হোক৷ আরেক ধৃত তপন দে-র আইনজীবী কল্লোল ঘোষও তাঁর মক্কেলের শারীরিক অবস্থার কথা আদালতের কাছে তুলে ধরে যে কোনও শর্তে জামিনের আবেদন জানান৷
সরকারি আইনজীবী আদালতে জানান, সঙ্গীতার ক্ষেত্রে কোনও বড় ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে শঙ্কিত তাঁর মা৷ তদন্তে পাওয়া জবানবন্দিতেও তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে বলে সরকারি তরফে দাবি করা হয়েছে। সরকারি আইনজীবী বিচারককে বলেন, ‘‘সাক্ষীদের জবানবন্দিতে যে তথ্য মিলেছে, তাতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগের ধারা প্রয়োগ করা হতে পারে। তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি-ও তরুণীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে৷ সে জন্য বিভিন্ন সোসাল নেটওয়ার্কিং সাইট, অনলাইন শপিং, পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চালাচ্ছে।’’ তাই মামলায় একজনেরও জামিন হলে তদন্তে তার প্রভাব পড়তে বাধ্য বলে বিচারককে তিনি জানিয়ে দেন।
এ দিন পরিমলবাবুর স্ত্রী গার্গীদেবী বলেন, “এটা তো অনেকটা ‘যার বিয়ে তার হুঁশ নেই, পাড়া পড়শির ঘুম নেই—এর মতো অভিযোগ হয়ে গেল৷ ওই তরুণীর বাড়ির লোকেদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা।’’ পরিমলবাবুর আইনজীবী সুদীপবাবুও বলেন, “এটা একটা হাস্যকর অভিযোগ৷ এর কোনও ভিত্তি নেই ৷”
গত ১৭ অগস্ট সঙ্গীতা নিখোঁজ হন বলে দাবি ধৃত পরিমলবাবুর। তিনি ভক্তিনগর থানায় ২৬ অগস্ট মিসিং ডায়েরি করেন। পরে তরুণীর বাড়ির লোকজন ভক্তিনগর থানায় পরিমলবাবুর বিরুদগ্ধে অপহরণের অভিযোগ করতে যান। তাঁদের অভিযোগ, প্রথমে থানা থেকে তা নিতে চাওয়া হয়নি। পরে একটি ক্লাবের সভাপতি তথা এক তৃণমূল নেতার হস্তক্ষেপে পুলিশ অপহরণের অভিযোগ গ্রহণ করে। কিন্তু, পরিমলবাবু ধনী ও প্রভাবশালী বলে তদন্ত এগোচ্ছে না জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে সিবিআই তদন্তের আর্জি জানায় তরুণীর পরিবার। কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে সিআইডি-কে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সঙ্গীতা নিখোঁজ মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।