মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের বাংরুয়ায় বিদায়ী মন্ত্রী তজমুল হোসেনের বুথে তৃণমূলের শিবির ভাঙচুর। ছেঁড়া হল পোস্টার ও ব্যানার। অন্য দিকে, চাঁচলে বিজেপি নেতাকে মারধর করে গাড়ি ভাঙচুর। বৃহস্পতিবার দুই ঘটনাকে ঘিরে সারাদিন তেতে রইল হরিশ্চন্দ্রপুর ও চাঁচল। হরিশ্চন্দ্রপুরে মন্ত্রীর ছেলে ও অনুগামীরা কংগ্রেসকে সঙ্গে নিয়ে তৃণমূলের শিবির ভাঙচুর করে কর্মীদের তাড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ। চাঁচলে বিজেপি নেতার উপরে হামলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল-আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।
এ বার টিকিট না মেলায় প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মন্ত্রী। ইঙ্গিত দিলেও তিনি দল ছাড়েননি। হরিশ্চন্দ্রপুরের তুলসীহাটায় ভোট প্রচারে এসে সেই দ্বন্দ্ব মেটানোর চেষ্টা করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দ্বন্দ্ব যে মেটেনি— এ দিনের ঘটনায় তা স্পষ্ট, দাবি তৃণমূলের একাংশের। অভিযোগ, এ দিন মন্ত্রীর এক ছেলে কংগ্রেসীদের নিয়ে তৃণমূল শিবিরে চড়াও হন। যদিও পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা মকরম আলি ও জেলা পরিষদ সদস্য মার্জিনা খাতুনের উস্কানিতে এ দিন গন্ডগোল হয় বলে দাবি মন্ত্রীর ছেলে ইমরান আলির। তাঁদের উস্কানিতে পুলিশ সেখানে লাঠি চালায় ও এক জনকে গ্রেফতার করে। তাতেই মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বলে দাবি।
যদিও মকরম বলেন, “মন্ত্রীর এক ভাই ও ঘনিষ্ঠ দুই নেতাকে পুলিশ থানায় ডেকে হেনস্থা করছে বলে কমিশনে নালিশ করেছেন কংগ্রেস প্রার্থী মোস্তাক আলম। এতেই স্পষ্ট, কংগ্রেসের হয়ে ভোট করছেন মন্ত্রী ও তার অনুগামীরা। এ দিন মন্ত্রীর নির্দেশেই তারাই একযোগে তৃণমূল শিবিরে চড়াও হয়।” তৃণমূল প্রার্থী মতিবুর রহমান বলেন, “আমাকে হারিয়ে কংগ্রেসকে জয়ী করতে মন্ত্রী প্রচুর টাকা খরচ করেছেন। দলকে তা জানিয়েছিলাম।” অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে তজমুল বলেন, “আমরা দলের হয়েই ভোট করেছি। নিজেরাই ভাঙচুর করে আমার বদনাম করছে।”
এ দিকে চাঁচলের ধুমসাডাঙি বুথে তৃণমূলের বাইক বাহিনী ভোট দিতে বাধা দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। প্রতিবাদ করায় বিজেপি প্রার্থী রতন দাসের নির্বাচনী প্রতিনিধি লক্ষ্ণণ পাণ্ডেকে মারধর-সহ তার গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। চাঁচল ১ ব্লক তৃণমূল সভাপতি আফসার আলি বলেন, “ওদের দলের দ্বন্দ্বে এমনটা ঘটেছে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)