তৃণমূল নেতা খুনের মামলায় প্রধান সাক্ষীকে খুনের চেষ্টা হয়েছিল। সে মামলায় তৃণমূলেরই এক পঞ্চায়েত সদস্যকে রবিবার রাতে ধরেছিল পুলিশ। কিন্তু সোমবার সে গ্রেফতার অন্য মাত্রা পেল ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় ধৃতের ‘অবাঞ্ছিত’ ভূমিকার দৌলতে। ধৃত জাকির শেখের কাছে তাঁদের গণনাপত্র রয়েছে জানিয়ে ও সে সবের কী হবে চিন্তায় মালদহের ইংরেজবাজারের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশ রাজ্য সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান।
গত ১১ জুলাই লক্ষ্মীপুরে নিহত হন মানিকচকের গোপালপুরের তৃণমূল নেতা আবু কালাম আজাদ। সে ঘটনায় আগেই পুলিশ চার জনকে ধরেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর তৃণমূল নেতা খুনের অন্যতম সাক্ষী আতিকুল মোমিন গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণে বেঁচে যান। সে হামলায়
জড়িত অভিযোগে রবিবার রাতে লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা, কাজিগ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য জাকিরকে ধরা হয়। মালদহের পুলিশ সুপার প্রদীপকুমার যাদব এ দিন বলেন, “আদালত ধৃতকে দু’দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে।”
ঘটনা জানাজানি হতেই হইচই শুরু হয় লক্ষ্মীপুরে। বাসিন্দাদের দাবি, রবিবার বিকেলে এসআইআর-এর গণনাপত্র বাড়ি-বাড়ি বিলি করেন জাকির। তাঁর কাছে অনেকে গণনাপত্র পূরণের জন্য জমা দেন। গ্রামবাসী বাবলি বিবি, রাকিব শেখ বলেন, “আমাদের গণনাপত্র জাকিরের কাছে রয়েছে। এখন পুলিশ তাঁকে ধরেছে! আমাদের গণনাপত্রের কী হবে, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।”
এ দিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে এক ঘণ্টা চলে বিক্ষোভ। যদিও জাকিরের স্ত্রী আলিয়ারা বিবি বলেন, “স্বামীকে বিনা অপরাধে পুলিশ ধরেছে। তাই মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছেন।”
বিজেপির দক্ষিণ মালদহের জেলা সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য, “গণনাপত্র বিলি এবং পূরণের কাজ বিএলও-দের। অথচ, ধৃত তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়িতে গণনাপত্র রয়েছে বলে গ্রামবাসীরা অভিযোগ করছেন।”
জেলা প্রশাসনের কর্তারা জানিয়েছেন,সংশ্লিষ্ট বিএলও-র সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সীর দাবি, “ফর্ম পূরণের জন্য অনেকে দলের কর্মীদের সাহায্য চাইছেন। তাতেই গায়ে জ্বালা ধরছে বিরোধীদের। পদ্ধতিগত কোনও ত্রুটি হয়েছে কি না, পুলিশ-প্রশাসন দেখছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)