Advertisement
E-Paper

TMC: ‘পয়া’ ওয়ার্ড থেকেই তরুণ বিরোধীদের টক্করে কৃষ্ণেন্দু

বিরোধীদের অভিযোগে আমল না দিয়ে কালীতলা অফিস থেকে গায়ে কালো কোট চাপিয়ে সওয়াল জবাবের জন্য আদালতে ছুটছেন আইনজীবী কৃষ্ণেন্দু।

অভিজিৎ সাহা

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ০৭:৪৭
দফতরে কৃষ্ণেন্দু।

দফতরে কৃষ্ণেন্দু। নিজস্ব চিত্র।

হাতের আঙুলে জ্বলজ্বল করছে হীরে, চুনি, পোখরাজ পাথর। চুনি, পোখরাজের কাজ কী, প্রশ্ন শুনে মুচকি হেসে কৃষ্ণেন্দুর উত্তর জানি না। তার পরেই তাঁর জবাব, “১৭ বার বোমা, গুলি নিয়ে আমার উপরে হামলা হয়েছে। তখনই বাড়ির লোকেরা এক এক করে পাথর পরিয়ে দিয়েছেন।” সেই কৃষ্ণেন্দুর বিরুদ্ধেই এ বারে বিরোধীদের ইস্যু ‘সন্ত্রাসের’ অভিযোগ।

এ বারও ইংরেজবাজার পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী তিনি। এই ওয়ার্ড থেকেই সিপিআই প্রার্থী ইন্দ্রজিৎ মিত্রকে হারিয়ে জনপ্রতিনিধির দৌড় শুরু করেছিলেন কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। একাধিকবার পুরপ্রধান, মন্ত্রীও হয়েছেন। এ বার তাঁর সামনে সেই ইন্দ্রজিৎ মিত্রের ছেলে সিপিএমের তরুণ মুখ প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক শুভজিৎ মিত্র। কৃষ্ণেন্দুকে রুখতে বিজেপি, কংগ্রেসেরও ভরসা তরুণ মুখের উপরেই। কারণ, ২০১৫ সালের পুরভোটে কৃষ্ণেন্দুর বিরুদ্ধে বিজেপির প্রার্থী ছিলেন ঊষা চক্রবর্তী। এ বারে তাঁর ছেলে সৌনককে প্রার্থী করেছে বিজেপি। ভিন্ন ওয়ার্ড থেকে হলেও প্রার্থী দিয়েছে কংগ্রেসও। পুরভোটে রাজনীতিতে চর্চার বিষয় এখন ১০ নম্বর ওয়ার্ড।

১৯৮১ সাল থেকে শুরু প্রতীক চিহ্নে ভোট। প্রথমবার সিপিআই প্রতীকে ১০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী হন ইন্দ্রজিৎ মিত্র। তিনি ১৯৯০ সাল পর্যন্ত কাউন্সিলর ছিলেন। ওই বছরই কংগ্রেসের টিকিটে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে জয়ী হন কৃষ্ণেন্দু। কালীতলা এলাকায় নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয়ও গড়ে তোলেন তিনি। ১৯৯৫, ২০০০, ২০১০ এবং ২০১৫ সালে পুরপ্রধান হন কৃষ্ণেন্দু। ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হলেও পরে দলবদল করায় উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রতীকে তিনি জয়ী হন। মন্ত্রীও হয়েছিলেন। সংরক্ষণের গেরোয় ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছেড়ে ১৬-তে গিয়ে হেরে গিয়েছিলেন তিনি। পুরভোটে কৃষ্ণেন্দুর জন্য ‘পয়া’ সেই ১০ নম্বর ওয়ার্ডই বাঁধা। এবারের বিধানসভায় বিজেপি হাওয়ার মধ্যেও নিজের ওয়ার্ডে ৭৪৬ ভোটে লিড পান তিনি। তিনি বলেন, “এলাকার অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এ বারে কর্ম সংস্থানের উপরে জোর দেওয়া হবে।”

তাঁর জয়ের পথে এবারে কাঁটা বিরোধীদের তরুণ মুখ। শুভজিৎ বলেন, “সন্ত্রাস, দখল, কাটমানিই এবারে ভোটের ইস্যু। শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট হলে মানুষ এবারে জবাব দেবেন।” পুর-পরিষেবার পাশাপাশি প্রচারে সন্ত্রাসকেই কার্যত ইস্যু করেছেন বিজেপির সৌনকও। তিনি বলেন, “দেওয়াল দখলেও বাধা দেওয়া হচ্ছে।” বিরোধীদের অভিযোগে আমল না দিয়ে কালীতলা অফিস থেকে গায়ে কালো কোট চাপিয়ে সওয়াল জবাবের জন্য আদালতে ছুটছেন আইনজীবী কৃষ্ণেন্দু। এবারে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে জনতার রায় কোন পক্ষে যায় সেটাই এখন প্রশ্ন।

TMC
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy