‘এক ব্যক্তি, এক পদ’। এই ভাবনায় সিলমোহর পড়তে চলেছে তৃণমূলে। দলীয় সূত্রে অন্তত এমন ইঙ্গিত মিলেছে। দলীয় সূত্রে খবর, ৫ জুন কলকাতায় তৃণমূলের সাংগঠনিক বৈঠক ডাকা হয়েছে। বিধায়ক-সাংসদ ছাড়াও দলের একাধিক পদাধিকারীকে ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সঙ্গে কোচবিহার-সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় সাংগঠনিক স্তরে রদবদলও করা হতে পারে। তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায় বলেন, “বৈঠকে ডাক পেয়েছি। ওই বিষয়ে যা বলার রাজ্য নেতৃত্ব বলবেন।” নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক শাসকদলের এক নেতার কথায়, “অনেক জায়গায় সাংগঠনিক কাজকর্ম হচ্ছে না। দলকে শক্তিশালী করতে কিছু পদক্ষেপ বৈঠকে করা হবে।”
এ বারে রাজ্যে ক্ষমতায় ফিরলেও উত্তরবঙ্গের ফল নিয়ে খুশি নয় তৃণমূল। বিশেষত দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে কার্যত উধাও সবুজ রং। কোচবিহার জেলার ৯টি বিধানসভা আসনের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছে মাত্র ২টি আসন। ৭টি আসন গিয়েছে বিজেপির ঝুলিতে। আলিপুরদুয়ারের ৫টি আসনই বিজেপির দখলে। জলপাইগুড়িতে কিছুটা লড়াই দিলেও দার্জিলিং জেলায় একই অবস্থা। এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গের ফল নিয়ে দলীয় স্তরে পর্যালোচনাও শুরু হয়েছে। উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের পরাজয় শুরু হয় লোকসভা নির্বাচন থেকেই। লোকসভায় উত্তরবঙ্গ থেকে খালি হাতে ফিরতে হয় রাজ্যের শাসকদলকে। দফায় দফায় আলোচনায় উত্তরবঙ্গে দলের সাংগঠনিক খোলনলচে বদলানো হয়। একাধিক জেলায় প্রবীণ নেতাদের সরিয়ে নবীনদের সামনে আনা হয়। দুর্নীতিতে অভিযুক্ত নেতাদের সামনের সারি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার পরেও বিধানসভায় দলের হাল খারাপ হয়। লোকসভায় লিড ছিল, এমন বিধানসভার আসনেও হারে তৃণমূল।
এ বারে সেই ‘গলদ’ বের করে ওষুধ প্রয়োগ করতে চাইছে তৃণমূল। দলীয় সূত্রেই খবর, দল এমন নেতৃত্বকে সামনে আনতে চাইছে, যাঁরা বিধানসভা নির্বাচনে তুমুল লড়াই দিতে পেরেছেন। সে ক্ষেত্রে বয়সের পাশাপাশি অভিজ্ঞতার কথাও মাথায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি, দুর্নীতির অভিযোগে রাশ টানতে দল ও প্রশাসন দুটো আলাদা ভাবে দেখা হচ্ছে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এড়াতেও দল কঠিন পদক্ষেপ করতে পারে। দলের অন্দরের খবর, কোচবিহারের মতো জেলায় হারের পিছনে অন্তর্কোন্দলও কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। সে কথা মাথায় রেখেই দলকে এগিয়ে যাওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। দলের এক প্রবীণ নেতা বলেন, “এই সময়ে বিজেপির শক্তি বেড়ে গিয়েছে। বিধায়কের সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেক হয়েছে। নতুন করে সংগঠন শক্তিশালী করা অনেক কঠিন। সবই নির্ভর করবে যাঁরা দায়িত্ব পাবেন তাঁদের উপরে।”