বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দলে উত্তপ্ত শিলিগুড়ির ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকা। জলপাইগুড়ি জেলার ওই এলাকায় তৃণমূল বনাম তৃণমূলের যুদ্ধে পুড়ল দোকান। এলাকাছাড়া স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য।
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভার পোড়াঝাড় এলাকায় আগেও রাজনৈতিক গন্ডগোল দেখা গিয়েছে। এ বার
পোড়াঝাড়ের তৃণমূলের এক গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য রাজু মণ্ডলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন তৃণমূলেরই একাংশ। সরকারি জমি দখল করে বিক্রি, বেআইনি বালি কারবার ইত্যাদিতে নাম জড়িয়েছে ওই তৃণমূল নেতার। অন্য দিকে, তৃণমূল নেতা তপন বর্মণ, জ্যোতিষ বর্মণ প্রমুখের বিরুদ্ধে গোষ্ঠী নদী থেকে পাথর ও বালি তোলার অভিযোগ করেছে রাজুর গোষ্ঠী। শনিবার রাতে অবৈধ ভাবে বালি-পাথর তোলা নিয়ে দুই পক্ষের বচসা শুরু হয়। তখনকার মতো অশান্তি মিটেও যায়। কিন্তু রাজুর কথায় তৃণমূল নেতা জ্যোতিষের দোকান ভেঙে কয়েক জন আগুন ধরিয়ে দেন বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে দমকলের একটি ইঞ্জিন সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।
ওই ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছাড়া পঞ্চায়েত সদস্য। তৃণমূলের অন্যান্য কর্মী ওই পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, ‘‘এই পঞ্চায়েত সদস্য জমি মাফিয়া। জাতপাতের রাজনীতি করেন।’’ এলাকার বাসিন্দা তথা তৃণমূল সমর্থক রঞ্জনা বর্মণ বলেন, ‘‘জমি দখল থেকে কালোবাজারি, দুর্নীতি সবেতেই আমাদের পঞ্চায়েত সদস্য জড়িত। গতকাল একটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দিল। এই পঞ্চায়েত সদস্যের অপসারণ চাই।’’ দোকানমালিক তথা তৃণমূল নেতা জ্যোতিষ বলেন, ‘‘বালি-পাথর ফেলা নিয়ে সমস্যার সূত্রপাত। ওখানে পঞ্চায়েতের কেউ ছিল না। রাতে সমস্যা মিটে যাওয়ার পর পঞ্চায়েত সদস্য গিয়ে আমার দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ ভাবেই অত্যাচার করছে ও।’’ অভিযুক্তের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তাঁর খোঁজও পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:
গোষ্ঠীকোন্দল নিয়ে ফুলবাড়ি অঞ্চলের তৃণমূলের এসসি-ওবিসি সেলের অঞ্চল সভাপতি তপন বর্মণ বলেন, ‘‘দীর্ঘ দিন ধরে এই ঘটনা ঘটে আসছে। গতকাল রাতে বচসার কথা পুলিশপ্রশাসনকে জনাই। পুলিশ যায়। কিন্তু তারা চলে যাওয়ার পরই পেট্রল ঢেলে দোকানে আগুন লাগিয়ে দেয়। সরকারি জমি দখল থেকে একাধিক অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। দেখা হচ্ছে বিষয়টি।’’