ঘুম থেকে ওঠার পরেই যেন শরীর জুড়ে ক্লান্তি। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও আলস্য কাটে না। চিকিৎসার ভাষায় এরই নাম ‘ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম’ (সিএফএস)। শরীর ক্রমশ তার তরতাজা ভাব হারিয়ে ফেলে। সারাদিন থাকে মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি, ঘুমঘুম ভাব। হাঁটাচলা করার সময়ে সারা শরীরে ব্যথাও অনুভূত হয়। চিকিৎসকেরা বলেন, সিএফএস নির্দিষ্ট কোনও রোগ নয়, বেশ কয়েকটি রোগের উপসর্গের সমষ্টি। সমস্যাটি ক্রনিক, তাই দীর্ঘ সময় ধরে ভুগতে হয়। শরীরে ক্যালশিয়ামের ঘাটতি, নানা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের কারণেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এর সমাধানে ওষুধ নয়, বরং এমন কিছু খেতে হবে যা পেশির জোর বৃদ্ধি করতে পারে, ভিটামিন ও নানা খনিজের ভারসাম্যও বজায় রাখতে পারে।
এনার্জি ড্রিঙ্ক নিয়ে এখন খুব আলোচনা হয়। যাঁরা জিমে গিয়ে নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাঁদের হাতে প্রায়ই দেখা যায় এমন পানীয়। এর যেমন ভাল দিক আছে, তেমন আছে খারাপও। চটজলদি শরীরে শক্তির জোগান দেয় ঠিকই, তবে রক্তে শর্করার মাত্রাও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই কেনা এনার্জি ড্রিঙ্ক নয়, বাড়িতে তৈরি করে নিন এনার্জি স্মুদি। এর উপকার অনেক। এটি অতিরিক্ত ক্লান্তি কাটাতে পারে। খুব তাড়াতাড়ি শরীরে বল ফিরিয়ে আনে। মাইগ্রেন বা তীব্র মাথার যন্ত্রণায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁরা চা বা কফির বদলে সকালে এই পানীয়ে চুমুক দিলে উপকার পাবেন। আবার ক্যালশিয়ামের ঘাটতি মেটাতেও এই পানীয় উপযোগী।
আরও পড়ুন:
‘এনার্জি স্মুদি’ তৈরির কিছু রেসিপি
ওট্স-আমন্ড এনার্জি স্মুদি
২ চামচের মতো ওট্স ভিজিয়ে রাখতে হবে। ৫-৬টি কাঠবাদামও ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ওট্স ও বাদাম ভাল করে পিষে নিন। এর সঙ্গে মেশান এক গ্লাস দুধ বা সয়মিল্ক। এ বার এতে ২-৩টি খেজুর মিশিয়ে আবারও ভাল করে বেটে নিন। উপরে সামান্য এলাচের গুঁড়ো ছড়িয়ে রোজ সকালে খেলে উপকার পাবেন।
কাঠবাদাম-ডুমুরের স্মুদি
৫-৬টি কাঠবাদাম ভিজিয়ে রাখুন। এর সঙ্গে লাগবে ১টি শুকনো ডুমুর, ১ কাপ দুধ বা কাঠবাদামের দুধ, ১ চামচ চিয়া বীজ, আধ চামচ দারচিনি ও ১ চামচ মধু। সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে ব্লেন্ডারে পিষে নিন। মিহি মিশ্রণ তৈরি হবে। সেটি ফ্রিজে ঘণ্টা দুয়েক রেখে দিন। এই স্মুদি নিয়ম করে খেলে শরীরে ক্যালশিয়ামের অভাব পূরণ হবে। পেশির জোরও বাড়বে।
পালং-কলার স্মুদি
এক কাপ পালং শাক, একটি পাকা কলা, অর্ধেক অ্যাভোকাডো অথবা পেয়ারা, এক কাপ কুচনো আনারস, এক কাপ জল বা কাঠবাদামের দুধ অথবা সয়মিল্ক নিতে হবে। সমস্ত উপকরণ মিক্সারে পিষে নিয়ে মিহি মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। চিনির বদলে এতে খেজুর মেশাতে পারেন। উপর থেকে বিটনুন ছড়িয়ে, পুদিনা পাতা পাতা ও লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন এই স্মুদি। রোজ সকালে খেলে ওজন কমবে, ক্যালশিয়াম ও পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ হবে, মাথার যন্ত্রণাও সেরে যাবে।