বিজেপি নেতাদের জন্য দলে যোগদানের দরজা ছ’মাসের জন্য বন্ধ করল তৃণমূল। আপাতত বিজেপি নেতাদের দলে যোগদানের যেসব আবেদন জমা পড়েছে অথবা অনুরোধ এসেছে, সেগুলি ‘ওয়েটিং লিস্টে’ রাখছে তৃণমূল। জলপাইগুড়ি জেলার একাধিক প্রথমসারির বিজেপি নেতা তৃণমূলে যোগ দিতে চেয়ে আবেদন করেছেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি। তাঁদের সকলকে জানানো হয়েছে, আপাতত দলে নেওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। ছ’মাস পর আবেদন বিবেচনা করা হবে।
তৃণমূল সূত্রের দাবি, বিজেপির একাধিক নেতা এমনকী জেলা কমিটির শীর্ষপদে থাকা নেতারাও তৃণমূলে যোগ দিতে চেয়েছেন। কেউ লিখিত আবেদন করেছেন, কেউ বা সপ্তাহে একাধিকবার ফোন করে দলে নেওয়ার অনুরোধ করছেন। জেলা তৃণমূল সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণীর কথায়, “রাজ্য নেতৃত্ব পরিষ্কার জানিয়েছেন, আগামী ছ’মাস বিজেপি থেকে কাউকে দলে নেওয়া যাবে না। তা ছাড়া, যাঁকেই নেওয়া হবে খুব ভেবেচিন্তেই নেওয়া হবে। রাজ্য নেতৃত্বের সম্মতি ছাড়া কিছুই হবে না।”
যদিও ব্যতিক্রমের সম্ভাবনাও থাকছে। তেমন কোনও গুরুত্বপূর্ণ নেতা আবেদন করলে অথবা সে রকম কোনও পরিস্থিতি তৈরি হলে সেই বিশেষ ক্ষেত্রে ছয়মাসের সিদ্ধান্ত মানা নাও হতে পারে। তৃণমূলের এক নেতার কতায়, “সে ক্ষেত্রে কেস টু কেস বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত হবে।”
জলপাইগুড়িতে কোন কোন বিজেপি নেতা আবেদন করেছেন তৃণমূলে যোগ দেওয়ার?
জেলা তৃণমূলের কোর টিম সূত্রের খবর, তালিকার ওপর দিকে রয়েছেন এক শিক্ষক নেতা। যিনি তৃণমূল ছেড়েই বিজেপিতে নাম লিখিয়েছিলেন। তিনি আবার দলে ফিরতে চাইছেন। রয়েছেন এক পুরনো বিজেপি নেতাও। যিনি নিজেকে ‘বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার’ বলে মনে করেন। রয়েছেন বিজেপির জেলা কমিটির চার পদাধিকারী। তৃণমূলের দাবি, বিজেপির একাধিক যুব নেতা রয়েছেন তালিকায়।
জলপাইগুড়ির পুরসভার অন্তত পাঁচটি ওয়ার্ডের বিজেপি নেতা-নেত্রী, যাঁদের উপরে বিধানসভা ভোট পরিচালনার দায়িত্ব ছিল তাঁরাই তৃণমূলে যোগ দিতে চাইছেন বলে দাবি। গোটা জেলা জুড়ে অন্তত ২৫ জন প্রভাবশালী বিজেপি নেতা এই তালিকায় রয়েছেন বলে দাবি তৃণমূল সূত্রের। দলীয় সূত্রের খবর, হঠাৎ করে বিজেপি থেকে যোগ দেওয়া কাউকে যদি বড় পদে বসানো হয়, তবে পুরনো তৃণমূলীদের মনোবল ধাক্কা খেতে পারে। সেই কারণে আগামী ছ’মাসে সব সরকারি আধা সরকারি কমিটি, বোর্ডে রদবদলের পরেই বিজেপি নেতাদের দলে নেওয়া হবে বলে খবর।
জেলা বিজেপি সভাপতি বাপি গোস্বামীর মন্তব্য, “যাঁরা মন থেকে বিজেপি করেন, পদ বা অন্য কিছুর লোভে রাজনীতি করেন না, তাঁরা বিজেপিতেই থাকবেন।”