Advertisement
১৫ জুন ২০২৪

প্রার্থী তালিকা নিয়ে শিলিগুড়িতে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে

প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগেই প্রচারে নেমে পড়েছিলেন। কিন্তু দল তাঁকে প্রার্থী করেনি। সেই বিতর্ক পিছু ছাড়তে না ছাড়তেই এ বার শিলিগুড়ি পুরভোটে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে দলের একটি অংশের ক্ষোভের মুখে পড়লেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব। এমনকী তাঁর বাড়িতে গিয়েও বিক্ষোভ দেখিয়ে এসেছেন দলের একটি গোষ্ঠী।

শিলিগুড়ই পুরসভায় তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে অসন্তোষে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী গৌতম দেবের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ। ছবি: বিশ্বরূপ বসাক।

শিলিগুড়ই পুরসভায় তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে অসন্তোষে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী গৌতম দেবের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ। ছবি: বিশ্বরূপ বসাক।

সৌমিত্র কুণ্ডু ও কৌশিক চৌধুরী
শিলিগুড়ি শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০১৫ ০৩:০১
Share: Save:

প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগেই প্রচারে নেমে পড়েছিলেন। কিন্তু দল তাঁকে প্রার্থী করেনি। সেই বিতর্ক পিছু ছাড়তে না ছাড়তেই এ বার শিলিগুড়ি পুরভোটে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে দলের একটি অংশের ক্ষোভের মুখে পড়লেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব। এমনকী তাঁর বাড়িতে গিয়েও বিক্ষোভ দেখিয়ে এসেছেন দলের একটি গোষ্ঠী।

গৌতমবাবুর অবশ্য বক্তব্য, “আপনাদের দূরবিনে বিক্ষোভ ধরা পড়েছে। কোনও ক্ষোভ বিক্ষোভ হয়নি।” তাঁর কথায়, “জেলা সভাপতি হিসাবে দলের অভিভাবক আমি। তাই দলের কারও কিছু বলার থাকলে তাঁরা আসতেই পারেন।”

শুক্রবার বেলা ১টা নাগাদ হিলকার্ট রোডে তৃণমূল ভবনে শিলিগুড়ি পুরভোটে দলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন গৌতমবাবু। তারপরেই ক্ষোভ আরও ছড়ায়। শহরের চম্পাসারি এলাকার ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে বিতর্ক সব থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী করেছে জয়প্রকাশ চহ্বাণ ওরফে হিম্মত সিংহ চহ্বাণ। ওই ওয়ার্ডের তৃণমূলের সভাপতি দিলীপ বর্মণের অনুগামীরা এই সিদ্ধান্তে রাগে ফেটে পড়েন। দুপুরেই তাঁরা ওই ওয়ার্ডের তৃণমূলের দলীয় দফতরটি দখল করে নেন। দফায় দফায় সেখানে বৈঠক করতে থাকেন তাঁরা। সন্ধ্যায় তাঁরা ঘোষণা করে দেন, দিলীপবাবু নির্দল প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাঁড়াবেন। তৃণমূলের ওই দফতরই তাঁদের কার্যালয় বলেও ঘোষণা করে দেন বিক্ষুব্ধেরা। দিলীপবাবু বলেন, “দল এমন একজনকে প্রার্থী করল, যাঁর বিরুদ্ধে জমিজমা সংক্রান্ত অনেক অভিযোগ রয়েছে। ওই ব্যক্তি টাকা দিয়ে দলের টিকিট পেয়েছেন।” হিম্মতবাবু অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা বা পুলিশের কাছে কোনও অভিযোগ নেই। তিনি বলেন, “প্রার্থী হতে না পেরে হতাশায় কিছু লোক আমার বদনাম করছেন।” হিম্মতবাবুর অনুগামীরা সন্ধ্যায় ওই এলাকায় মিছিলও করেছেন।

শহরের ডাঙ্গিপাড়ার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময়েই তৃণমূল নেতা আলম খানের অনুগামীরা পার্টি অফিসের সামনে এসে বিক্ষোভ দেখান। রাতে তৃণমূলের পতাকা নিয়ে জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে হিলকার্ট রোডে মিছিলও করেছেন। এই ওয়ার্ডে তৃণমূল প্রার্থী করেছে জেলা আইএনটিটিইউসি সভাপতি অরূপরতন ঘোষকে। এই ওয়ার্ডে সিপিএমের প্রার্থী প্রাক্তন পুরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য।

শহরের ৩, ৩৯ এবং ২৯ নম্বর ওয়ার্ডেও প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসে পড়েছে। ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে রিনা দাস সরকারকে প্রার্থী করা হচ্ছে না বলে চাউর হয়ে যায় সকালে। তারপরেই মন্ত্রীর বাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান রিনাদেবীর স্বামী স্বপন দাস এবং তাঁদের অনুগামীরা। বেলা পৌনে ১০টা নাগাদ একাধিক গাড়ি করে লোক নিয়ে তাঁরা হাজির হন কলেজপাড়ায় মন্ত্রীর বাড়িতে। প্রার্থী করা নিয়ে দুর্নীতি হচ্ছে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। মন্ত্রী বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাসি মুখে বিক্ষুব্ধদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও কেউ কোনও কথা শুনতে চাননি। তা দেখে মন্ত্রী ফের বাড়ির ভিতরে চলে যান। সংগ্রাম সিংহ, বেদব্রত দত্ত, মধুসূদন অধিকারীর মতো দলের নেতারা বিক্ষোভকারীদের শান্ত করতে চেষ্টা করেন। তা নিয়ে দুই পক্ষের ধস্তাধস্তিও হয়। মিনিট ২৫ ক্ষোভ বিক্ষোভের পরে স্বপনবাবুরা চলে যান। পরে তালিকা ঘোষিত হলে দেখা যায়, রিনাদেবীকেই ওই ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। তবে দলেরই একটি সূত্র দাবি করেছে, মন্ত্রীর বাড়িতে বিক্ষোভের পরই রাজ্য নেতৃত্বের কাছে বিষয়টি জানানো হয়, তারপরেই রিনাদেবীকে প্রার্থী করা হয়।

৩ নম্বর ওয়ার্ডে সঞ্জয় পাঠককে প্রার্থী করায় অসন্তুষ্ট বিরোধী গোষ্ঠী গোপাল সাহার অনুগামীরা। সঞ্জয়বাবু ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। সে কারণে বহিরাগত কাউকে প্রার্থী করা যাবে না দাবি করে গোপালবাবুর হয়ে ময়দানে নামে তাঁর অনুগামীরা। ২৯ নন্বর ওয়ার্ডে অসীমকুমার রায়কে প্রার্থী করা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে এলাকায়।

ক্ষোভ রয়েছে অন্য ওয়ার্ডেও। মন্ত্রী যে ওয়ার্ডের বাসিন্দা সেই ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছেন তাঁর স্ত্রী শুক্লাদেবী। কিন্তু তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরদের মধ্যে কয়েকজনকে এ বার প্রার্থী করা হয়নি। মেয়র পদেও কাউকে তুলে ধরতে পারেনি তৃণমূল। তবে গৌতমবাবু জানান, প্রার্থীদের মধ্যে অনেক যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন। জয়ের পরে রাজ্য নেতৃত্ব ঠিক করবেন মেয়র পদ কাকে দেওয়া হবে।

কিন্তু তালিকা প্রকাশের পরেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হয়ে যাওয়ায় ভোটে তার প্রভাব পড়বে কি না জিজ্ঞাসা করা হলে গৌতমবাবু জানান, বড় দল হওয়ায় অনেকেরই প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশা থাকে। তাঁর কথায়, “সেটা ভাল। না হলে দল মজে যাওয়া নদীর মতো হয়ে যাবে।”

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:
Advertisement

Share this article

CLOSE