Advertisement
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

পরিচয়পত্র ঘিরে অশান্তি গৌড়বঙ্গে

মাস দুয়েক ধরে লাগাতার ছাত্র আন্দোলন হয়েছে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর জেরে মাসখানেক আগেই উপাচার্য পদ থেকে ইস্তফা দেন গোপালচন্দ্র মিশ্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা
মালদহ শেষ আপডেট: ২২ ডিসেম্বর ২০১৭ ০২:৫৫
Share: Save:

কখনও ফলাফল প্রকাশের দাবিতে, আবার কখনও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে লাগাতার ছাত্র আন্দোলন হয়েছে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাই পরিচয়পত্র না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন কর্তৃপক্ষ। আর বৃহস্পতিবার এই পরিচয়পত্র দেখানোকে ঘিরেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর।

Advertisement

অভিযোগ, পরিচয়পত্র না থাকলেও এক যুবক নিজেকে ছাত্র বলে দাবি করে জোর করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করলে বাধা দেন নিরাপত্তারক্ষীরা। পরবর্তীতে ওই যুবক দলবল নিয়ে এসে নিরাপত্তারক্ষীদের উপরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। জখম তিনজনকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশও।

মাস দুয়েক ধরে লাগাতার ছাত্র আন্দোলন হয়েছে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর জেরে মাসখানেক আগেই উপাচার্য পদ থেকে ইস্তফা দেন গোপালচন্দ্র মিশ্র। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে রয়েছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদত্যাগী সহ উপাচার্য স্বাগত সেন। তারপরেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। গত, বুধবারও ভর্তির ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সমর্থিত একদল ছাত্র। এ দিন বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন মোহন ঘোষ নামে এক যুবক। তাঁর কাছে পরিচয় পত্র না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দেন। অভিযোগ, তারপরেই ওই যুবক দলবল জুটিয়ে এনে লোহার রড, ভোজালি সহ নিরাপত্তা রক্ষীদের উপরে হামলা চালায়। মুরশেদ শেখ এবং শিব চৌধুরী নামে দুই নিরাপত্তা রক্ষী আহত হন। ঘটনায় পাল্টা মোহনকে মারধরের অভিযোগ ওঠে নিরাপত্তা রক্ষীদের বিরুদ্ধে।

আক্রান্ত নিরাপত্তা রক্ষী মুরশেদ বলেন, “ওই ছাত্রের কাছে পুরনো একটি পরিচয়পত্র ছিল। তাই আমরা তাকে প্রবেশের অনুমতি দিইনি। তারপরেও সে দলবল নিয়ে হামলা চালায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।” অপরদিকে অভিযুক্ত মোহনের পাল্টা অভিযোগ, “আমি এ বার বিশ্ববিদ্যালয়ে লাইব্রেরি সায়েন্স বিভাগে ভর্তি হয়েছি। সেই ভর্তির প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে নতুন করে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি। তারপরেও আমাকে আটকে মারধর করা হল।” তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি প্রসূন রায় বলেন, “আক্রান্ত মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ই ছাত্র। তারপরেও কেন তাকে মারধর করা হল বুঝতে পারছি না।” বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্বাগত সেন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে গোলমালের ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, এখনও কোন অভিযোগ হয়নি। তবে ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)
Follow us on: Save:
Advertisement
Advertisement

Share this article

CLOSE
Popup Close
Something isn't right! Please refresh.