Advertisement
E-Paper

ভুয়ো পরিচয়ে বিয়ে করে ধৃত

কিন্তু প্রতারণার খবর পেতে পেতে অনুপম বসু নামে ওই যুবক জানুয়ারিতে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করে ফেলেছে। পাত্রীর ভাই বলেন, ‘‘বোনের সঙ্গে অনুপমের বিচ্ছেদের ব্যাপারে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলব।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ০২:৩৪

ভুয়ো পরিচয় দিয়ে বিয়ে করার পরে কোমরে দড়ি পড়ল এক যুবকের।

শিক্ষিকা পাত্রীকে বিয়ে করার লোভে নিজের ওজন বাড়ানোর কোন কসুরই ছাড়েনি বছর আঠাশের ‘পাত্র’৷ নিজের পরিচয় দিয়েছিল ‘শিক্ষক’ বলে। সেই সঙ্গে নিজেকে খোদ জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যানের আত্মীয় বলতেও ছাড়েননি৷ কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাত্রীর বাড়িতে মাইনের নকল পে-স্লিপ দেওয়াই কাল হল৷ প্রতারণার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।

কিন্তু প্রতারণার খবর পেতে পেতে অনুপম বসু নামে ওই যুবক জানুয়ারিতে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করে ফেলেছে। পাত্রীর ভাই বলেন, ‘‘বোনের সঙ্গে অনুপমের বিচ্ছেদের ব্যাপারে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলব।’’ অনুপম নিজের পছন্দ মতো আসবাব বানাবে বলে পাত্রীর বাড়ি থেকে এক লক্ষ টাকাও নিয়েও ফেলেছে৷ পাশাপাশি কপালে জুটে গিয়েছে সোনার চেন ও ঘড়ি থেকে শুরু করে ভাল ভাল জামা-কাপড়, জুতো৷

পুলিশ জানিয়েছে, অনুপমের বাড়ি কোচবিহারের পাটাকুড়ার কালিকাদাস রোডে৷ প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বছর কয়েক ধরে জলপাইগুড়িতেই থাকে৷ আট-নয় মাস আগে মুহুরি পাড়ায় জলপাইগুড়ি পুরসভার চেয়ারম্যান মোহন বসু যে আবাসনের ফ্ল্যাটে থাকেন, তার ঠিক নীচের ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেয় সে৷ স্থানীয় একজন ঘটকের মাধ্যমে গত বছর পুজোর ঠিক আগে শিববাড়ি-বেগুনটারি এলাকার বাসিন্দা পেশায় শিক্ষিকা-পাত্রীর বাড়িতে নিজের বিয়ে সম্বন্ধ নিয়ে যায় সে৷

পাত্রীর বাবা-মা জানান, ‘‘অনুপম নিজেকে পাতকাটা জুনিয়ার হাই স্কুলের শিক্ষক বলে পরিচয় দিয়েছিল৷ বলেছিল, তার বাবা-মা নেই৷ জ্যাঠা-জেঠিমার কাছে মানুষ৷ পঞ্চমীর দিন মেয়েকে দেখতে বাড়িতে এসে মেয়ের একটি ছবিও নিয়ে যায়৷ পুজো শেষ হতেই জানায় বাড়ির লোকেদের পছন্দ৷ তারপর আমরাও ছেলের বাড়িতে যাই৷ কিন্তু একবারের জন্যও কেউ বলেনি যে ছেলেটি শিক্ষক নয়৷’’

পাত্রীর বাড়ির লোকেরা জানিয়েছেন, ছেলের বাড়ির চাপে নভেম্বরের শেষের দিকে কোচবিহারে গিয়ে দেনাপাওনা লিখে ‘পাটিপত্র’ করেন তাঁরা। বিয়ের দিন ঠিক হয় ৩০ এপ্রিল৷ কিন্তু তার আগে ১৮ জানুয়ারি রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেন। তারপর থেকে তাড়াহুড়োয় রান্না করতে পারেননি অজুহাতে মাঝে মধ্যেই ‘স্কুলে’ যাওয়ার সময় শ্বশুরবাড়িতে পাত পেড়ে ভাতও খায় অনুপম৷

পাত্রীর ভাই বলেন, ‘‘বোন ছেলেটির স্কুলে যেতে চাইলে এড়িয়ে যেতো৷ কোন বন্ধের সময় স্কুলের ময়দানে পাড়ার অনুষ্ঠান হলে বোনকে নিয়ে যেত৷ ক্লাস রুমও দেখাতো৷ কিন্তু দিন কয়েক আগে আচমকাই ছেলেটি বোনকে ফোন করে জানায় কিছু ছেলে তাকে আটকে রেখেছে৷ পঁচিশ হাজার টাকা দরকার৷ তখনই আমাদের সন্দেহ হয়, একজন শিক্ষকের কাছে পঁচিশ হাজার টাকা নেই! চেপে ধরতেই নিজেকে শিক্ষক বলে প্রমাণ করতে কম্পিউটারে ছাপানো একটি মাইনের পে-স্লিপ আমায় দেয়৷ কিন্তু স্কুলে গিয়ে জানতে পারি অনুপম নামে সেখানে কোন শিক্ষক নেই৷ পে-স্লিপটিও ভুয়ো৷ তারপরই পুলিশে খবর দেওয়া হয়৷’’

চেয়ারম্যান মোহনবাবু বলেন, ‘‘একই আবাসনে ঘর ভাড়া নিলেও ছেলেটিকে কোনও দিন দেখিনি৷ ওর শাস্তি পাওয়া উচিত৷’’ পাশাপাশি ঘর ভাড়া দেওয়ার আগে শহরবাসীরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন মোহনবাবু৷ জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার বলেন, যুবক আর কাউকে প্রতারণা করেছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷

অনুপম স্বীকার করে নিয়েছেন, তিনি ভুয়ো পরিচয় দিয়েছিলেন।

Arrset গ্রেফতার Youth fake identity
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy