তৃণমূল নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে অবশেষে চারদিনের মাথায় অনশন আন্দোলন প্রত্যাহার করলেন জলপাইগুড়ি আনন্দচন্দ্র কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ পরিচালিত ছাত্র সংসদ নেতৃত্ব। সোমবার দুপুর নাগাদ প্রদেশ তৃণমূলের অন্যতম সম্পাদক তথা কলেজ পরিচালন কমিটির সদস্য কল্যাণ চক্রবর্তী ওই ছাত্র নেতাদের হাতে জল ও সরবত তুলে দেন।
কল্যাণবাবু বলেন, “আমরাও চাই প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর ভর্তির ব্যবস্থা হোক। এখনও ভর্তি চলছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে। ছাত্রদের বলেছি আগামী ২৯ অগস্ট পরিচালন সমিতির সভায় ছাত্রদের দাবি নিয়ে আলোচনা হবে। ওঁরা অনশন তুলে নিয়েছেন।”
আসন সংখ্যা বাড়িয়ে আবেদনকারী সমস্ত ছাত্রছাত্রীর ভর্তির দাবিতে গত শুক্রবার বিকেল থেকে কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের একটি গোষ্ঠীর ন’জন অধ্যক্ষের ঘরের সামনে অনশনে বসেন। রবিবার রাতে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক-সহ চারজন অসুস্থ হলে তাঁদের সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তাঁরা খাবার নিতে অস্বীকার করেন। বাকি পাঁচজন কলেজে অনশন চালিয়ে যান। এর আগে গত বুধবার ওই গোষ্ঠীর সমর্থকরা অধ্যক্ষের ঘরে অবস্থান করেন। অন্য গোষ্ঠীর সদস্যরা খালি পায়ে মিছিলে সামিল হয়। ঘটনা নিয়ে বিরোধী ছাত্র সংগঠন সহ বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে সমস্যার কথা শিক্ষামন্ত্রীকে না জানিয়ে ভর্তি চলাকালীন কেন ওই আন্দোলন! রবিবার বিজেপি-র ছাত্র সংগঠন এবিভিপি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের অনশন আন্দোলনকে বিবৃতি দিয়ে সমর্থন জানালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। অবশেষে গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব সামাল দিতে প্রবীণ তৃণমূল নেতা কল্যাণবাবুকে আসরে নামতে হয়।
ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক বিজু সূত্রধর বলেন, “কল্যাণবাবুর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন ছাত্র ভর্তির সমস্যা নিয়ে ২৯ অগস্ট পরিচালন সমিতির সভায় আলোচনা হবে। এর পরেই অনশন তুলে নেওয়া হয়েছে। আমরা ২৯ অগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করব। সমস্যা না মিটলে ফের আন্দোলন শুরু হবে।”
ছাত্র সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে, টানা তিন দিন অনশনের পরে রবিবার রাতে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও অসুস্থ হয়ে পড়েন সহ সম্পাদক সঞ্জয় দে, সংসদ সদস্য উত্তরণ চক্রবর্তী এবং অনিকেত ঘোষ। হাসপাতাল তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বাকি পাঁচজন শিবা দে, অংশুমান দাস, কৌশিক বসাক, পাপ্পু শীল এবং গৌরব দে কলেজে অনশন চালিয়ে যান। রবিবার বিকেল থেকে তৃণমূল নেতা কল্যাণবাবু অনশন তুলে নেওয়ার জন্য ছাত্র সংসদ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন। সোমবার সটান কলেজ এবং হাসপাতালে হাজির হন। কল্যাণবাবুর আশ্বাসে এ দিন দুপুর নাগাদ ছাত্র সংসদ সম্পাদক অনশন তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদ সভাপতি অভিজিৎ সিংহকে অবশ্য এদিন হাসপাতালে দেখা যায়নি। তিনি বলেন, “সাংগঠনিক কজে বাইরে আছি। কল্যাণবাবুর সঙ্গে রবিবার কথা হয়েছে। সমস্যা মিটিয়ে নিতে তিনি সব ব্যবস্থাই নিয়েছেন।”