৩৮ বছর আগের কথা। তখন মিঠুন চক্রবর্তী শুধুই তারকা অভিনেতা। প্রিয় নায়ক কোচবিহারে এসেছেন শুনে সব কাজ ছেড়েছুড়ে অনুষ্ঠানে ছুটে গিয়েছিল এক কিশোরী।
সেই প্রথম, সেই শেষ। দূরের তারাকে কাছ থেকে দেখে চোখের জল ধর রাখতে পারেননি মামণি সরকার। আনন্দের কান্না। এখন মামণি প্রৌঢ়া। এত বছর পর আবার এক বার প্রিয় নায়ককে চোখের দেখা দেখতে ছুটে গিয়েছিলেন কোচবিহারের পুরাতন পোস্টঅফিস পাড়ার মাঠে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প’ সভায়। কিন্তু এ বার শুধু দূর থেকে দেখেই খুশি থাকতে হল মামণিকে। ছুঁতে পারলেন না ‘মহাগুরু’কে। প্রিয় নায়কের জন্য ‘উপহার’ নিয়ে গিয়েছিলেন। সেটা তাঁকে না দিতে পারার আক্ষেপে চোখে জল মামণির। দুঃখের কান্না।
মামণির বয়স ৫০। বিজেপির তিনি কর্মী নন। সমর্থক? মামণির কথায়, ‘‘রাজনীতি বুঝি না। আমরা ছোটখাটো মানুষ।’’ শুধু মিঠুনকে দেখার জন্য কাজ ফেলে ছুটে গিয়েছিলেন বিজেপির সভায়। নেতা মিঠুনের ভাষণ নয়, অভিনেতা মিঠুনকে দেখবেন বলে। তাঁর হাতে ৫০০ টাকা তুলে দেবেন বলে।
৫০০ টাকা কেন? মামণি জানান, তাঁর সঙ্গতি ওইটুকুই। পরিচারিকার কাজ করেন। ৫০০ টাকা জমিয়েছিলেন অনেক কষ্টে। সেটাই মিঠুনকে দিতে চেয়েছিলেন যাতে অভিনেতা ফল কিনে খান। কারণ, টিভি-মোবাইলে দেখেন অভিনেতার স্বাস্থ্য খানিক ভেঙেছে!
আরও পড়ুন:
জনসভায় এত লোকের ভিড়ে মামণির আওয়াজ কানে যায়নি মিঠুনের। সভা শেষ হতেই ভিড় ঠেলে হাত নাড়তে নাড়তে মিঠুনোচিত ভঙ্গিতে গাড়িতে উঠে যান ‘মহাগুরু।’ দূর থেকে দেখতে দেখতে মুখ কালো হয়ে যায় মামণির।
কোচবিহারের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের গান্ধী কলোনির বাসিন্দা মামণি বলেন, ‘‘১৯৮৮ সালে কোচবিহারে এসেছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। সেই সময় ওঁর হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়েছিলাম। আজ ৫০০ টাকা নিয়ে এসেছিলাম। দিতেই পারলাম না।’’ দীর্ঘশ্বাস ভক্তের।