দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। মঙ্গলবার থেকে শুরু হল একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির ‘যোগ্য’ চাকরিহারা ও নতুন চাকরিপ্রার্থীদের সুপারিশপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া। মঙ্গল ও বুধবার প্রথম দফায় ১৮২ জনকে সুপারিশ পত্র দেবে স্কুল সার্ভিস কমিশন। এসএসসি সূত্রে খবর, সূত্রের খবর, এ দিন ৬৪ জনের হাতে সুপারিশ পত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। বাকি তিনজন অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল শ্রেণির প্রার্থী। কিন্তু সে সংক্রান্ত প্রামাণ্য় নথিতে কিছু গরমিল থাকায় সুপারিশপত্র দেয়নি এসএসসি।
প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির দায়ে ২০১৬ এসএসসি-র প্যানেল বাতিল হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চাকরি বাতিল হয়েছিল ২৬০০০ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর। অবশেষে ফের পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগ পত্র হাতে পেলেন চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
আরও পড়ুন:
কৃষ্ণবৃত্তিকা নাথ এর আগে পড়াতেন রায়গঞ্জের একটি স্কুলে। কৃষ্ণবৃত্তিকার দাবি, সে বার তিনি নিজের বিষয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন। তবু চাকরি গিয়েছিল। এ বছর মেধাতালিকায় তিনি প্রথম স্থানে রয়েছেন। কিন্তু এখনও যেন ঘোর কাটেনি তাঁর। রয়ে গিয়েছে সংশয়, বলেন, “শংসাপত্র হাতে পেয়েছি কিন্তু আগামী দিনে কী হবে, তা জানা নেই। আট বছর চাকরি করার পর নতুন করে পরীক্ষা দিয়ে চাকরি পাব কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় ছিল।” তবে তিনি এ বার বাড়ির কাছে উত্তর ২৪ পরগনার স্কুলে সুযোগ পেয়েছেন।
নতুন চাকরিপ্রার্থীদের অনেকের চোখেই জল। কেউ অপেক্ষা করছেন দশ বছর। রাজারহাটের বাসিন্দা নাদিরা কালাম বলেন, “আমার বিষয় নৃতত্ত্ববিদ্যা। এই প্রথম পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু চাকরি পাব কি না, তা জানতাম না। তবে আজ সুপারিশপত্র হাতে পেয়ে খুশি। নিয়োগপত্র পাওয়া বাকি রইল।” আর এক নতুন প্রার্থী সঞ্চারী মালি সুপারিশপত্র পেয়েছেন গলসি হাইস্কুলে। তিনি বলেন, “এমএ, বিএড করার পর দীর্ঘ দিন কর্মহীন বসে রয়েছি। রাজ্যে কোনও নিয়োগ ছিল না। সুপারিশপত্র হাতে পেয়ে খুশি। কিন্তু মামলা এখনও সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। শেষ পর্যন্ত সব ঠিক থাকে নাকি এটাই এখন দেখার বিষয়। ততদিন পর্যন্ত চাকরি নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছি না।”
নতুন প্রার্থীরা চাকরি পেয়ে খুশি। বার বার দাবি উঠেছিল নতুন প্রার্থীদের জন্য আসনসংখ্যা বৃদ্ধি করার। এমনকি চাকরিহারা প্রার্থীদের অভিজ্ঞতার ১০ নম্বর নিয়েও অনেক বিরুদ্ধ মত পোষণ করেছিলেন নতুন প্রার্থীরা। কিন্তু এ দিন অনেকেই মুখেই মানবিক ছায়া। নতুন চাকরিপ্রার্থী তমালিকা কর্মকার বলেন, “আমি প্রথমবার পরীক্ষা দিয়ে এই জটিল পরিস্থিতিতে চাকরি পাব এটা ভাবতে পারেনি। আমি চাই নতুনদের সঙ্গে তাঁরাও চাকরি যেন পান, যাঁরা ‘যোগ্য’-যাঁদের দুর্নীতির সঙ্গে কোনও যোগ।”
স্কুল সার্ভিস কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির সুপারিশপত্র দেওয়া শুরু হয়েছে। মোট ১২,৪৪৫ শূন্যপদের মধ্যে প্রথম ধাপে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফ থেকে ৫০০টি শূন্যপদ পাঠানো হয়েছে। তার মধ্যে দু’দিনে সাতটি বিষয়ের ১৮২ জন প্রার্থী সুপারিশপত্র দেওয়া হবে।