Advertisement
E-Paper

ফের সংঘর্ষ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে! কানের পর্দা ফাটল পড়ুয়ার, কমিটি গঠন কর্তৃপক্ষের

বিজ্ঞপ্তি জারি করে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, কোনও কারণ ছাড়া রাত ৮টার পর কাউকে ক্যাম্পাসে ঘুরতে দেখতে গেলে, তাঁকে বহিরাগত হিসাবে চিহ্নিত করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নে‌ওয়া হবে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:০২
প্রতীকী চিত্র।

প্রতীকী চিত্র।

ফের ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুক্রবার শিক্ষক নিগ্রহের পর সোমবার দু’দলের মধ্যে আরও একবার উত্তেজনা তৈরি হয়। কালেক্টিভ সংগঠনের সঙ্গে এসএফআইয়ের সংঘর্ষ বাঁধে। ঘটনায় স্নাতকোত্তর ইংরেজি প্রথম বর্ষের ছাত্র প্রিয়ম চট্টোপাধ্যায়ের কানের পর্দা ফেটে গিয়েছে। একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। এরই মধ্যে ক্যাম্পাসের জন্য বিধি নিষেধ জারি করলেন কর্তৃপক্ষ।

জানা গিয়েছে, শুক্রবার যখন শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছিল, তখন প্রিয়ম সেখানে ছিলেন। উন্মত্ত পড়ুয়ার মারের হাতে থেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেছিলেন তাঁদের। এসএফআইয়ের অভিযোগ, তারই জেরে সোমবার ১০-১২ জন কালেক্টিভ ছাত্র তাঁকে ঘিরে মারধর করেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএফআইয়ের আঞ্চলিক কমিটির সহ-সম্পাদক কৌশিকী ভট্টাচার্য বলেন, “প্রিয়ম সে দিন শিক্ষকদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সে কারণেই তাঁর উপর হামলা করা হল। কানের পর্দায় আঘাত লেগেছে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।”

এ দিকে, ২০ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি তুলেছেন শিক্ষকদের একাংশ। দাবি পূরণ না হলে তাঁরা কর্মবিরতি পালন করবেন বলে জানাচ্ছেন।

সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক সমিতির তরফ থেকে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। তাঁদের বৈঠক স্থির হয়েছে, উপযুক্ত ব্যবস্থা না হলে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি কর্মবিরতি পালন করবেন তাঁরা। ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেবেন। তার পরও সুরাহা না হলে, পাশাপাশি ২ মার্চ থেকে সমস্ত প্রশাসনিক কাজ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেবেন শিক্ষকরা।

যদিও সোমবার সকালেই কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। গড়া হয়েছে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি। ২০ ফেব্রুয়ারি যাদবপুরে শিক্ষক হেনস্থার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করলেন উপাচার্য। ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই কমিটি মুখ বন্ধ করা খামে রিপোর্ট জমা দেবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

এই কমিটির চেয়ারপারসন করা হয়েছে, প্রাক্তন আইএসআই ডিরেক্টর বিমল রায়কে। এ ছাড়া রয়েছেন কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তন উপাচার্য শ্যামল রায়, বোস ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন রেজিস্ট্রার শম্পা দাস ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সহ-উপাচার্য অমিতাভ দত্ত। আধিকারিক হিসাবে থাকছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবুল হাসনাথ।

সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় তরফে আরও একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে একাধিক বিধি-নিষেধের কথা জানানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক। গাড়ি বা বাইক রাখার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দেওয়া পার্কিং স্টিকার থাকা বাধ্যতামূলক। ক্যাম্পাসে মদ, গাঁজা বা কোনও নেশার দ্রব্য নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না।

রাত ৮টার পর জমায়েত করা যাবে না। সব ক্লাস শেষ করতে হবে রাত ৯টার মধ্যে। কোনও কারণ ছাড়া রাত ৮টার পর কাউকে ক্যাম্পাসে ঘুরতে দেখতে গেলে, তাঁকে বহিরাগত হিসাবে চিহ্নিত করা হবে এবং তার বিরুদ্ধে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নে‌ওয়া হবে।

Jadavpur University
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy