শীতের বিদায়ের মধ্যে পর পর তুষারপাত পাহাড়ে। রবিবারের পর সোমবার রাতেও দার্জিলিঙে তুষারপাত হল। সিকিমেও ফের তুষারপাত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে সান্দাকফু থেকে বিস্তীর্ণ এলাকা পুরু বরফের চাদরে মোড়া। একই ছবি সিকিমের ছাঙ্গু ও নাথুলা বেল্টেও। কিন্তু এই মনোরম আবহাওয়ার মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছিল পূর্ব সিকিমে। ‘অপারেশন হিমরাহাত’-এ আটকে পড়া ৪৬ জন পর্যটককেই নির্বিঘ্নে সরিয়ে এনেছে ভারতীয় সেনা।
এমনিতে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে দার্জিলিঙের পরিবেশ অপূর্ব সুন্দর হয়ে ওঠে। রডোডেনড্রন, ম্যাগনোলিয়া ফুলে ভরে যায় রাস্তার দু’পাশ। চা-বাগানগুলোও সজীব হয়ে ওঠে। ফার্স্ট ফ্লাশ চায়ে চুমুক দিয়ে নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করার সেরা সময় এটাই। তার মধ্যে তুষারপাতে আরও উপভোগ্য হয়ে উঠেছে পাহাড়। শীত বিদায়ের পর এমন পরিবেশ বাড়তি পাওনা তো বটেই।
শনিবার বিকেলের পর থেকে সান্দাকফুতে তুষারপাত শুরু হয়। ফলে তাপমাত্রার পারদও খানিক নেমে যায়। একই ভাবে নাথুলাতেও তুষারপাত হয়েছে। সিকিম আবহাওয়া দফতরের ডিরেক্টর গোপীনাথ রাহা বলেন, ‘‘কয়েক দিন এমন আবহাওয়াই বজায় থাকবে দার্জিলিং থেকে সিকিমে। হিমালয়ের উপরিভাগেই মূলত তুষারপাত চলবে৷ তবে সমতল থেকে শীত বিদায় নিয়েছে।’’
সিকিমের পথে। — নিজস্ব চিত্র।
অন্য দিকে, সিকিমের জওহরলাল নেহরু রোডের সিপসু ও ১৬ মাইলের মাঝে বেশ কিছু পর্যটকবাহী গাড়ি আটকে পড়েছিল। বরফের কারণে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি বাড়ছিল। উদ্ধারকাজে নামতে হয় ভারতীয় সেনাকে। পুলিশ এবং জিআরইএফের সহায়তায় প্রবল ঠান্ডার মধ্যে শিশু-সহ ৪৬ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। ১৭ মাইলের আর্মি ট্রানজ়িট ক্যাম্পে সকলকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর। রাস্তা পরিষ্কার না-হওয়া পর্যন্ত সেখানেই রাখা হচ্ছে তাঁদের।