হাতে আর কয়েক ঘণ্টা। তার পরেই বিস্ফোরণ ঘটবে! এজলাসে বসে এমনই উড়ো মেল পেলেন বিচারক। মুহূর্তের মধ্যে শোরগোল। কলকাতা থেকে পশ্চিম বর্ধমান জেলা ও দায়রা জজ আদালত, চুঁচুড়া থেকে ব্যাঙ্কশাল কোর্ট এবং মুর্শিদাবাদ জেলা আদালকত, সর্বত্র উড়ো মেল ঘিরে আতঙ্ক শুরু হয়। সর্বত্র পুলিশকুকুর নিয়ে তল্লাশি তলছে। ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে আদালত চত্বর। উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বিচারকদের বড় অংশই এখন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরের কাজে ব্যস্ত। তার সঙ্গে এই উড়ো মেলের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটাও দেখার।
এই ঘটনার পর বিচারক থেকে সাধারণ মানুষ সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিল রাজ্য পুলিশ-প্রশাসন। মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী বলেন, ‘‘বিচারকদের সব রকম সুরক্ষা দেবে। তাঁরা যাতে এসআইআরের কাজ নির্বিঘ্নে করতে পারেন, তার জন্য সাহায্য করা হবে।’’ রাজ্যের ডিজিপি পীযূষ পাণ্ডে বলেন, ‘‘আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’’ ওই সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার। তিনি জানান, কোথা থেকে এই মেলগুলো পাঠানো হল, তা খুঁজে বার করতে সক্রিয় পুলিশের সাইবার সেল। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’’
পশ্চিম বর্ধমান জেলা ও দায়রা জজ আদালত সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ মুখ্য বিচারকের কাছে একটি মেল আসে। তাতে বলা হয়, আদালত চত্বরে বোমা রাখা রয়েছে। ১টা নাগাদ উড়িয়ে দেওয়া হবে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকুকুর দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থলে ডিসি সেন্ট্রাল ধ্রুব দাস-সহ অন্যান্য আধিকারিক উপস্থিত হয়েছেন। আইনজীবী শেখর কুন্ডু জানান, একটি জামিনের আবেদনের শুনানি চলছিল, তখনই মুখ্য বিচারক দেবপ্রসাদ নাথ একটি মেলের কথা শোনান। তার পরেই শোরগোল শুরু হয়।
ব্যাঙ্কশাল আদালতে তল্লাশিতে কলকাতা পুলিশ। ছবি: সারমিন বেগম।
কিছু ক্ষণের মধ্য়ে কলকাতার নগর ও দায়রা আদালতেও হুমকি মেল আসে। বোমাতঙ্কে আদালত চত্বর থেকে বেরিয়ে যান অনেকে। দুর্গাপুর আদালতেও একই ঘটনা ঘটেছে। এখন সর্বত্রই তল্লাশি চলছে। তবে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন:
একই ভাবে হুমকি-মেল ঘিরে আতঙ্ক ছড়ায় হুগলির চুঁচুড়া আদালতে। জেলা জজের কাছে মেল যায়। তাতে লেখা, খানিক ক্ষণ বাদে আরডিএক্স বিস্ফোরণ ঘটবে! সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি পুলিশ কমিশনার এবং জেলার পুলিশ সুপারকে জানানো হয়। সময় নষ্ট না-করে আদালতে ছোটে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চ। আদালতে উপস্থিত কারও মধ্যে যাতে আতঙ্ক না-ছড়ায়, সেটাও দেখা হচ্ছে। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করে পুলিশ। সেখানেও সন্দেহজনক কিছু মেলেনি। চুঁচুড়া আদালতের আইনজীবী কিশোর মণ্ডল বলেন, ‘‘জেলার বিভিন্ন আদালতেই এই হুমকি-মেল এসছে। আমার অনুমান, এসআইআরের কারণে যাঁদের স্বার্থে আঘাত লাগছে, তাঁদের কেউ এমন কাজে যুক্ত থাকতে পারেন।’’ চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার কোটেশ্বর রাও জানান, আদালত চত্বর এবং সমস্ত প্রবেশপথে তল্লাশি করা হয়েছে। স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের পক্ষ থেকে সমস্ত জায়গায় বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে আদালত চত্বরে নিরাপত্তার জন্য যা যা করণীয়, তা-ই করছেন তাঁরা।
তবে পুলিশ মনে করছে, হুমকি দিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। সর্বত্র তল্লাশি হয়েছে। কে বা কারা এর নেপথ্যে রয়েছেন, খুঁজে বার করার চেষ্টা করছে পুলিশ।