ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ায়, ট্রাইবুনালে আবেদন করতে দুর্গাপুরে উপচে পড়ছে বাসিন্দাদের ভিড়। ভগৎ সিংহ স্টেডিয়ামে লম্বা লাইন সামলাতে পুলিশের সঙ্গে থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। লাইনে দাঁড়ানো বাসিন্দাদের কারও ক্ষোভ, ২০০২ সালের তালিকায় বাবা-মায়ের নাম ছিল। তবু তাঁর নাম বাদ পড়েছে। কারও অভিযোগ, নথি জমা দেওয়ার পরে শুনানির সময়ে আশ্বাস মিলেছিল, নাম বাদ যাবে না। অথচ, এখন নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইবুনালে আবেদনের জন্য ভোর থেকে লম্বা লাইন পড়ছে। অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সোম ও মঙ্গলবার যাঁরা এসেছিলেন, তাঁদের চড়া রোদে অপেক্ষা করতে হয়। তুলনায় বুধবার রোদের তেজ কম ছিল। রবীন্দ্রপল্লি সি-ব্লকের বাসিন্দা দুধেশ্বর বিশ্বকর্মা জানান, তাঁর নিজের-সহ পরিবারের তিন জনের নাম বাদ পড়েছে। শুনানির সময়ে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই, জমির দলিলের নথি জমা দেন। কর্মসূত্রে বাইরে থাকায় ২০০২ সালে ভোটার কার্ড করাতে পারেননি। তাঁর কথায়, “সব নথি আছে। অথচ, ভোটার তালিকায় নাম উঠল না।”
লেবারহাটের বাসিন্দা রাজকুমার সিংহ জানান, তাঁর স্ত্রীর নাম বাদ পড়েছে। তিনি বলেন, “আমার স্ত্রীর কম বয়সে বাবা-মা মারা যান। স্ত্রী তাঁর দাদার নাম যোগ করে আবেদন করেছিল। কিন্তু কাজ হয়নি। শুনানিতে সব কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, নাম বাদ যাবে না। তা-ও নাম বাদ পড়েছে!”
লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা মঙ্গল পাসোয়ান বলেন, “কাজকর্ম ফেলে গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা চরম দুর্ভোগ ছাড়া কিছু নয়। বাড়ির ছ’জনের মধ্যে মাত্র এক জনের নাম রয়েছে ভোটার তালিকায়। ২৯ মার্চও বাকিদের নাম তালিকায় ছিল। ৩০ মার্চ থেকে উধাও!” তিনি জানান, ২০০২ সালের তালিকায় মা-বাবার নাম রয়েছে। সে তালিকা তিনি জমা দিয়েছিলেন শুনানিতে। তাঁর ক্ষোভ, “তবু আমাদের নাম বাদ পড়ে গেল!” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা বলেন, “পাঁচ বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এসেছি। বাড়িতে আর দেখার কেউ নেই। গরমে কষ্ট পাচ্ছে ছেলে। অসহায় লাগছে।”
কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তীর অভিযোগ, “মনোনয়ন-পর্ব শেষ। এখনও অনেকে জানেন না, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি না। এমন নির্বাচন দেশে আগে কখনও হয়নি। অসহায় হাজার হাজার মানুষ।” এই পরিস্থিতির জন্য তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলেছেন বিজেপির জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল। তাঁর দাবি, “তৃণমূল যদি এসআইআর নিয়ে প্রথম থেকে মানুষকে বিভ্রান্ত না করত, তাহলে এ ভাবে এত মানুষকে বিপাকে পড়তে হত না। তৃণমূলের প্ররোচনায় অনেকে বিষয়টিকে সে ভাবে গুরুত্ব দেননি। ওদের উপরে যাঁরা ভরসা করেছিলেন, তাঁদের ফর্ম পূরণে গোলমাল করেছে তৃণমূল। সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতি।” অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসনের পাল্টা দাবি, ‘‘যে ভাবে এসআইআরের নামে হাজার হাজার মানুষকে দুর্ভোগে রাখা হয়েছে, ভোটাধিকার নিয়ে সংশয়ে ফেলা হয়েছে, সব জবাব ভোটবাক্সে পাবে বিজেপি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)