এসআইআর-সংক্রান্ত সভা থেকে বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফাকে ‘অবোধ শিশু’ বলে টিপ্পনী কাটছেন তৃণমূল প্রার্থী শান্তনু কোনার। তার পরেই সৌমেনের উদ্দেশে তাঁর কটাক্ষ, “তুমি ছাল-চামড়া তুলে নেব বলছ। ভোটের ফল বেরোনোর পর এই বুলি যেন থাকে। তোমার বিরুদ্ধে কোনও মন্তব্য করব না, সেই উচ্চতায় পৌঁছতে পারনি। তোমার বক্তব্যের জবাব বুথ বা অঞ্চল সভাপতি দেবে।” সৌমেনের পাল্টা কটাক্ষ, ‘দাদা রাগ করবেন না। মাথায় বরফ চাপান। বুকে কাঁপুনি ধরেছে, ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে জবাব দেব।” ভাতারে তৃণমূল ও বিজেপির দুই যুবপ্রার্থীর মধ্যে ‘নারদ-নারদ’ চলছে। দু’টি দলেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রয়েছে। এখনও পুরনো নেতা-কর্মীদের ভোটের ময়দানে নামাতে পারেনি তারা। তার মধ্যেই হারানো ভোট বাক্সে ফেরাতে গ্রামের পর গ্রাম চষছেন সিপিএম প্রার্থী হাসিনা খাতুন।
ভাতার থেকেই জিতে রাজ্যের মন্ত্রী হয়েছিলেন কলকাতার বাসিন্দা ভোলানাথ সেন। ভাতারের মানুষ যাঁকে এক কথায় ‘রূপকার’ বলে মানেন। ১৯৮২-এ তিনি ভাতারে হেরে যান। সৌমেন প্রয়াত সেই কংগ্রেস নেতাকে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছেন। ভোলানাথের স্মরণ করে ভোট চাইতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। সঙ্গে দাবি করছেন, “ভাতারের রূপকারকে যাঁরা হারিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁরাই এখন তৃণমূল।” শুনে শান্তনুর পাল্টা কথায়, “এক জন ধর্মনিরপেক্ষ মানুষের গায়ে সাম্প্রদায়িক তকমা দিল বিজেপি। এর জবাব ভোটবাক্সেই দেবেন জনগণ।” ১৯৮২ থেকে ২০১১ পর্যন্ত ভাতারে টানা জিতেছিল সিপিএম। তার মধ্যেও সদ্যোজাত তৃণমূল ১৯৯৮ পঞ্চায়েত ভোটে এরুয়ার পঞ্চায়েতে সিপিএমকে হারিয়ে দিয়েছিল। ২০০৮ থেকে ওই পঞ্চায়েত তৃণমূলের দখলে। ২০১১ সালে বনমালী হাজরা বিধায়ক হয়েছিলেন। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে তিনি আর টিকিট পাননি। ২০১৬-এ আউশগ্রামের সুভাষ মণ্ডল বিধায়ক হন। তৃণমূলের অন্দরে ভূমিপুত্রকে প্রার্থী করার দাবি ওঠে। ২০২১ সালে বিধায়ক হন এরুয়ারের মানগোবিন্দ অধিকারী। এ বার আবার দল তাঁর পরিবর্তে জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শান্তনুকে প্রার্থী করেছে।
বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, “২০১৯ লোকসভার পরে তৃণমূল প্রার্থী বিজেপিতে গিয়েছিলেন। এখনও বিরোধী দলনেতার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। পিঠ বাঁচাতে উনি ভোটের পরে বিজেপিতে যোগ দেবেন।” তাঁর দাবি, “আমি এ বার ভাতারে ২০১১ সালের ভোটের ছায়া দেখতে পাচ্ছি। আমরাই জিতব।” শান্তনুর জবাব, “তুমি তো শিশু। আমরা সিপিএমকে জব্দ করা ছেলে। দল প্রার্থী করেছে বলে ল্যাজ গজায়নি। আমরা সব পারি। শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষের পদের ভাবমূর্তি রক্ষা করছি।” দলের নির্দেশ না মেনে সৌমেন প্রথম দিনই মনোনয়ন জমা দিয়েছে। তা নিয়েও শান্তনু কটাক্ষ করছেন। সৌমেনের তীর্যক মন্তব্য, “দাদা রাগ করবেন না, মাথায় বরফ চাপান।” শান্তনুর ঘনিষ্ঠ মহল দাবি করছে, সৌমেনের গা থেকে এখনও সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের গন্ধ যায়নি।
তৃণমূল ও বিজেপির প্রার্থীর চাপান-উতোরে ধামা চাপা পড়ে যাচ্ছে ভাতারের উন্নয়ন-অনুন্নয়ন প্রসঙ্গ। সিপিএমের প্রার্থী হাসিনা খাতুন গ্রামে গ্রামে গিয়ে সেই কথাই তুলে ধরছেন। তিনি বলেন, “ভোটে আমরা উন্নয়ন, অনুন্নয়নের কথা তুলে ধরছি। কেন্দ্র ও রাজ্যের শাসক দলের ব্যর্থতা তুলছি। ভাল ফল করব বলেই আশা।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)