E-Paper

শিল্পাঞ্চলের ভোটে লড়াই 

বড়জোড়ায় তৃণমূলের দ্বন্দ্ব বরাবরের। দলের অন্দরের খবর, এখানে একাধিক গোষ্ঠী রয়েছে। একে অন্যের যাত্রাভঙ্গে দক্ষ।

রাজদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪১
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এক জন রাজনীতির অঙ্গনে নতুন। অন্য দু’জন জেলা রাজনীতিতে চেনা মুখ। মূলত এই তিনের লড়াই দেখতে অপেক্ষায় শিল্পাঞ্চল বড়জোড়া কেন্দ্রের বাসিন্দারা। প্রথমজন তৃণমূল প্রার্থী গৌতম মিশ্র ওরফে শ্যাম। রাজনীতির জগতে তিনি নতুন। তবে ব্যবসায়ী এবং নানা সেবামূলক কাজে পরিচিতি রয়েছে। অন্য জন বিজেপি প্রার্থী বিল্লেশ্বর সিংহ, দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি। তৃতীয়জন সিপিএম প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী।

একসময়ে সিপিএমের অন্যতম ঘাঁটি বলে পরিচিত বড়জোড়ায় রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে কোনও দলই টানা জেতেনি। ২০১১-তে তৃণমূল জেতে। ২০১৬ সালে বড়জোড়াবাসী বেছে নেন সিপিএমের সুজিত চক্রবর্তীকে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আবার বড় ব্যবধানে এগিয়ে যায় বিজেপি। কিন্তু ২০২১-এর বিধানসভায় ফের জেতে তৃণমূল। আবার ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে এখানে বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে যায়। বিদায়ী বিধায়ক অলক মুখোপাধ্যায়ের বদলে তৃণমূল এখানে গৌতমকে প্রার্থী করে তাঁর ‘সমাজকর্মী’ ভাবমূর্তিকে সামনে রেখে প্রচার শুরু করেছে। দলের এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কাজে আসবে কি না তা ফলাফলেই বোঝা যাবে। তবে লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি, মানছে সব পক্ষই।

বড়জোড়ায় তৃণমূলের দ্বন্দ্ব বরাবরের। দলের অন্দরের খবর, এখানে একাধিক গোষ্ঠী রয়েছে। একে অন্যের যাত্রাভঙ্গে দক্ষ। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই আশঙ্কাতেই নির্বাচনের মুখে রাজনৈতিক বৃত্তের বাইরে থাকা ব্যবসায়ী গৌতমকে সকালে দলে যোগ দেওয়া করিয়ে বিকেলে প্রার্থী বলে ঘোষণা করা হয়েছে। গৌতম সব নেতাকে নিয়ে শুরুতেই বৈঠক করে একজোট করার চেষ্টা করেন। পাশাপাশি, বিজেপিকে দুর্বল করতে তিনিও গেরুয়া শিবিরের কর্মীদের ভাঙিয়ে দলে টানতে শুরু করেছেন। সেই সঙ্গে অতীতে গৌতমের কাছে সুবিধাপ্রাপ্ত বিভিন্ন ক্লাব, সংগঠনের মাধ্যমেও তলায় তলায় তাঁর হয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। বড়জোড়ার একটি সংগঠনের এক সদস্য বলেন, “অতীতে দাদা (গৌতম মিশ্র) আমাদের পাশে বার বার দাঁড়িয়েছেন। আজ প্রতিদান দেওয়ার পালা। সে কথা এলাকায় ঘুরে ঘুরে জনে জনে মনে করিয়ে দিচ্ছি।’’

তবে বড়জোড়ার যুব প্রজন্মের অনেকেই কর্মসংস্থানের দাবি তুলে তৃণমূল সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এক যুবকের আক্ষেপ, “পড়াশোনা শিখেও চুক্তিভিত্তিক কাজ করতে হচ্ছে। সরকারি নিয়োগ নেই। এলাকায় বড়মাপের কলকারখানাও হল না। জীবনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার মোক্ষম সময় পার হয়ে যাচ্ছে। এই সরকার তো কেবল ভাতা-বিশ্বাসী।” আবার বড়জোড়ার বধূ মৌসুমী মণ্ডল, সঙ্গীতা পাল বলেন, “আমরা সাধারণ গৃহবধূ। লক্ষ্মীর ভান্ডার আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যে সরকার বদলে গেলে যদি এই প্রকল্প বন্ধ হয়ে যায় তখন আর কোনও পথ থাকবে না।” বড়জোড়ার বিদায়ী বিধায়ক তৃণমূলের অলক মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের প্রার্থী পরিচিত সমাজকর্মী। তাঁকে জেতাতে সবাই একজোট হয়ে লড়াই করবেন।’’

পাল্টা বিজেপি প্রার্থী বিল্লেশ্বর সিংহের কটাক্ষ, “তৃণমূল প্রার্থীকে ফলাও করে সমাজকর্মী বলা হলেও তিনি আসলে ট্রাক মালিকদের একটি সংগঠনের কর্মকর্তা। ওই সংগঠনের সদস্যদের সংগৃহীত অর্থের একাংশ উন্নয়নের কাজে ব্যয় করেন। আমরা ক্ষমতায় এলে গৃহবধূদের অন্নপূর্ণা ভান্ডারে তিন হাজার টাকা করে অনুদান দেব। সরকারি চাকরিতে স্বচ্ছ নিয়োগ হবে। এলাকায় দূষণমুক্ত বড় শিল্প আনব।”

দু’পক্ষের তারজা চলছেই। তারই মাঝে বাম ভোট এককাট্টা করে চমক দিতে গ্রামে গ্রামে ছুটে বেড়াচ্ছেন সিপিএম প্রার্থী সুজিত। তিনি বলেন, “কেন্দ্র ও রাজ্যে দুর্নীতি ও ভাঁওতাবাজির সরকার দেখে মানুষ ক্লান্ত। একশো দিনের কাজ বন্ধ করেছে, শিল্পায়ন আটকেছে। গরিব মানুষের প্রাপ্য সুযোগ সুবিধা সব বন্ধ করে দিয়েছে। মানুষ এ বার যোগ্য জবাব দেবে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

barjora

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy