E-Paper

আশ্বাসের হিসাব কি মিলবে, নাকি শূন্যই থাকবে খাতা

প্রথম দফার নির্বাচনে ১৫২টি আসনে প্রার্থী নির্বাচিত করতে ভোট দিয়েছেন প্রায় তিন কোটি ২৪ লক্ষ মানুষ। অঙ্কের হিসাবে তা ৯২ শতাংশেরও বেশি।

সৌমেন্দু রায়

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:২১
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

‘ভোট দিয়ে যা, আয় ভোটার আয়/ মাছ কাটলে মুড়ো দিব, গাই বিয়োলে দুধ দিব/ দুধ খেতে বাটি দিব...’

দাদাঠাকুর সেই কবেই ভোটপ্রার্থীদের উদ্দেশে ‘ভোট- ছড়া’ রচনা করেছিলেন। ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোট অন্য যে কোনও ভোটের তুলনায় অনন্য। এ বারের নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই বিশেষ নিবিড় সংশোধনের জন্য একটি অন্য মাত্রা পেয়েছে ভোট-যুদ্ধ। এসআইআরে ৯০ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছে। তা নিয়ে প্রথম থেকেই সরগরম রাজ্য-রাজনীতি।

প্রথম দফার নির্বাচনে ১৫২টি আসনে প্রার্থী নির্বাচিত করতে ভোট দিয়েছেন প্রায় তিন কোটি ২৪ লক্ষ মানুষ। অঙ্কের হিসাবে তা ৯২ শতাংশেরও বেশি। যা ২০২১ সালের নির্বাচনের তুলনায় ১২.২৮ শতাংশেরও বেশি। প্রথম দফায় মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত ভোটদানের হার চমকে দিয়েছে। এ বার কিন্তু ভুয়ো ভোট বা ভোটে কারচুপির অভিযোগ সে ভাবে ওঠেনি। প্রাণহানিও ঘটেনি। পরিযায়ী শ্রমিকদের অনেকেই ঘরে ফিরে ভোটদানে অংশগ্রহণ করেছেন।

ভোটকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম ছাড়া প্রথম দফার ভোট-পর্ব এমন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হওয়া সম্ভব ছিল না। এসআইআর-আবহে মানুষ নিজেদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে ভোটদানে আরও বেশি ভাবে উপস্থিত থেকেছেন।

ভোট শেষ হয়, ফের আসে, জনগণ হিসেব করতে বসে— সত্যিই কি সমাধান হয়েছে বেহাল নিকাশির, পানীয় জলের অভাবের, শিক্ষকহীন স্কুলের, এলাকার পরিবেশ দূষণের, বেহাল রাস্তার, মা-বোনেদের নিরাপত্তার, উচ্চশিক্ষার, দমকল কেন্দ্রের, কাটমানি ছাড়া সরকারি পরিষেবার, বেকার ছেলে-মেয়েদের চাকরির অভাবের। অনেক ক্ষেত্রে সেই হিসেব মেলে। অনেক ক্ষেত্রে হিসেবের খাতায় শূন্যই থেকে যায়।

এ সব ভেবেই হয়তো এক বাঙালি-কবি তাঁর ‘রাজা-প্রজা’ কবিতায় একটি পঙ্‌ক্তিতে লিখেছিলেন—

‘রাজায় রাজায় যুদ্ধ বেঁধে রাজ্যই হয় ধ্বংস।/ যেটি প্রাপ্য তা যদি সব পেত সবাই ঠিকঠাক,/ তা হলে কি উঠত এমন রাজ্য জুড়ে হাঁক-ডাক?/ কে-ই বা চায় আনতে ঘরে, খাল কেটে এ কুমির/ চোখে দেখতে সর্বনাশটা,প্রিয় মাতৃভূমির’।

৪ মে ভোটের ফল বেরোবে। অনেক নেতা জিতবেন। অনেকে হারবেন। কেউ মন্ত্রী হবেন, কেউ নয়। তার পরে হয়তো কিছু নেতা সমাজ মাধ্যমে লিখবেন ‘কর্ণকুন্তী সংবাদ’-এর কর্ণের মতোই—

‘জয়ী হোক, রাজা হোক,পাণ্ডব সন্তান/ আমি রব নিষ্ফলের, হতাশের দলে...’

শিক্ষাকর্মী-গবেষক,গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Election

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy