Advertisement
E-Paper

আলুর দাম নিয়ে ফাটকার নালিশ

এতদিন বাজারে একমাত্র সস্তা সব্জি বলতে ছিল আলু। ফাটকা কারবারের জেরে এবার সেটাও মহার্ঘ হতে দেখে মাথায় হাত পড়েছে ক্রেতাদের। বিক্রেতাদের আশঙ্কা, কালী পুজোর আগে দাম দ্বিগুণ বাড়তে পারে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০১৫ ০২:৩৬

এতদিন বাজারে একমাত্র সস্তা সব্জি বলতে ছিল আলু। ফাটকা কারবারের জেরে এবার সেটাও মহার্ঘ হতে দেখে মাথায় হাত পড়েছে ক্রেতাদের। বিক্রেতাদের আশঙ্কা, কালী পুজোর আগে দাম দ্বিগুণ বাড়তে পারে। যদিও হিমঘরে পর্যাপ্ত আলু মজুত থাকার পরেও কেন দাম বাড়ছে সেই বিষয়ে উত্তরবঙ্গ আলু ব্যবসায়ী সমিতির কর্তারা স্পষ্টভাবে কিছু জানাতে পারছেন না। প্রশাসনের তরফে দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য মজুত আলুর তথ্য জানতে খোঁজ শুরু হয়েছে।

খুচরা সব্জি ব্যবসায়ীরা জানান, দুর্গা পুজো শেষ হতেই পাইকারি বাজারে আলুর দাম বাড়তে শুরু করে। দাম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিয়মের বালাই নেই। সকালে যে দামে আলু মিলছে বিকেলে কেজি প্রতি আরও ২ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারেও লাফিয়ে দাম বাড়ছে। চারদিন আগেও লাল আলু ১২ টাকা কেজি দামে বিক্রি হয়েছে। মঙ্গলবার ক্রেতাদের সেটাই ১৫ টাকা থেকে ১৭ টাকা কেজি দামে কিনতে হয়েছে। সাদা আলুর দাম ১০ টাকা কেজি থেকে বেড়ে হয়েছে ১২ টাকা। এভাবে আলুর দাম বাড়তে দেখে ক্রেতারা তো বটেই অবাক খুচরো বিক্রেতারাও।

তাঁদের মতে, নতুন আলু উঠতে এখনও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। অতিবৃষ্টির জন্য এবার আলু চাষের জমি সময় মত তৈরি করা সম্ভব হয়নি। চাষিদের হাতে খুব সামান্য পরিমাণ আলু রয়েছে। যতটুকু আছে সেটা বীজের জন্য। হিমঘরে মজুত আলু মূলত ব্যবসায়ীদের। ময়নাগুড়ি পুরাতন বাজারের সব্জি ব্যবসায়ী পরিমল রায় বলেন, “বাড়তি লাভের জন্য ব্যবসায়ীরা পরিমাণ মত আলু হিমঘর থেকে বের না করায় সঙ্কটের সৃষ্টি হচ্ছে। ওই কারণে দাম লাফিয়ে বাড়ছে।” একই মত জলপাইগুড়ি দিনবাজারের সব্জি বিক্রেতা গৌতম বসাকের। তিনি বলেন, “আলুর দাম বাড়ার কথা নয়। কিন্তু যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে সেটা চলতে থাকলে কালী পুজোর আগে ২০ টাকা কেজি দামে আলু কিনতে হবে।”

Advertisement

এদিকে ফাটকা কারবারের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেও কেন আলুর দাম বাড়ছে সেটা তাঁদের কাছেও স্পষ্ট নয় বলে দাবি করেন উত্তরবঙ্গ আলু ব্যবসায়ী সমিতির কর্তারা। সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গের পঞ্চাশটি হিমঘরে এখনও ৩৩ লক্ষ প্যাকেট আলু মজুত রয়েছে। প্রতি প্যাকেটে ৫০ কেজি আলু আছে। নতুন আলু বাজারে আসার আগে সেগুলি ছাড়তে হবে।

ওই পরিস্থিতিতে আলুর দাম বৃদ্ধি হওয়ার কারণ নেই বলে মনে করেন সমিতির সম্পাদক কার্ত্তিক দাস। তাঁর কথায়, “কেন দাম বাড়ছে সেটা বলা শক্ত। যে পরিমাণ আলু মজুত আছে তাতে দাম বৃদ্ধির কথা নয়। মনে হচ্ছে পুজোর সময় হিমঘর বন্ধ থাকায় ওই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”

কিন্তু আলু ব্যবসায়ীদের ওই সাফাই মানতে নারাজ খুচরো সব্জি ব্যবসায়ীরা। তাঁদের প্রশ্ন ফাটকাবাজি না হলে রাতারাতি দাম বাড়ছে কেমন করে? একই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে প্রশাসনিক মহলে। জলপাইগুড়ির মহকুমাশাসক সীমা হালদার বলেন, “মজুত থাকা সত্ত্বেও কেন আলুর দাম বাড়ছে সেটার খোঁজ চলছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy