স্কুল ও কলেজ চলছে একই ভবনে। দুপুরে স্কুল হওয়ায় সকালে চলছে কলেজ। তবে ওই স্কুলের মধ্যে সকালের দিকে একটি প্রাইমারি স্কুলও রয়েছে। কাজেই প্রাইমারি থেকে কলেজ হয় একটি ভবনের মধ্যেই। ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রীরা চলে আসায় সকাল ১০টার মধ্যেই স্কুল ছাড়তে হয় কলেজের পড়ুয়াদের। একই স্কুলে কলেজ ও স্কুল চলায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের।
চোপড়ার হাইস্কুলে দু’টি শিক্ষাবর্ষ এই ভাবেই ক্লাস করতে হয়েছে চোপড়া কমলাপাল মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের। তবে কলেজের নিজস্ব ভবনের কাজ শেষ হয়েছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের টাকায় প্রায় সাড়ে ৪ কোটির বেশি টাকা খরচ করে তৈরি হয়েছে সেই কলেজ। কেবল বিদ্যুৎ সংযোগের কাজটুকুই বাকি রয়েছে। কলেজের সামনে মোড়ের কাছ সাড়ে ৪ কোটি টাকার হিসেব উল্লেখ করে একটি ব্যানারও লাগানো হয়েছে। নতুন ভবনে কলেজের পঠনপাঠনের কবে থেকে শুরু হবে, তা বলতে পারেননি কলেজ কর্তৃপক্ষ।
তবে এই শিক্ষা বর্ষ থেকে তা স্থানান্তরিত হবে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে চোপড়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নির্মল বিশ্বাস বলেন, ‘‘কলেজের ভবনের কাজ শেষ হয়েছে। ৫ জুন কলেজের পরিচালন সমিতির বৈঠক রয়েছে. সেখানে কলেজের নিজ ভবনে ক্লাস, নতুন ভর্তি প্রক্রিয়া সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা হবে। চলতি শিক্ষা বর্ষে কলেজের নিজস্ব ভবনে ক্লাস শুরু করতে না পারলে সমস্যায় পড়তে হবে।’’
চোপড়ার ওই কলেজে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষ মিলে মোট ছাত্র সংখ্যা প্রায় ১ হাজার। কেবল মাত্র সেখানে কলা বিভাগের পাশ কোর্স পড়ানো হয়। সেই কলেজে স্থায়ী শিক্ষক তো দূরের কথা নেই স্থায়ী কোনও অধ্যক্ষও। স্কুলের এক শিক্ষককে সেখানে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কলেজে শিক্ষক শিক্ষিকার সংখ্যা ৮ জন। তবে সবাই অস্থায়ী। এমনকী কলেজের অশিক্ষক কর্মচারী রয়েছেন অস্থায়ী পদেই। ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, চোপড়ার ওই কলেজের প্রতিদিন সকাল ৭-১০ টা পর্যন্ত ক্লাস হয়। এর ফলে চোপড়ার অনেক প্রত্যন্ত এলাকার ছেলেমেয়েরা গাড়ির অভাবে কলেজে আসতেও সমস্যায় পড়েন। তবে অনেক ছাত্রছাত্রী কলেজের জন্য বেরিয়েও যখন কলেজ এসে পৌঁছন তত ক্ষণে কলেজ ছুটি হয়ে স্কুল শুরু হয়ে যায়।
শুধু কলেজেরই নয়, সমস্যায় পড়তে হয় স্কুল কর্তৃপক্ষকেও। বিশেষ করে কলেজের পরীক্ষার দিনগুলিতে। হয় সে দিন স্কুল ছুটি দিতে হয়, নয়তো কলেজের পরীক্ষার ফাঁকে ইউনিট টেস্ট নেওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুল সূত্রে খবর, স্কুলের ভবনটি বড় হলেও ছাত্র সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। তবে কলেজের পরীক্ষার সময় ক্লাস চালু রাখলে সমস্যায় পড়তে হয় কলেজের ছাত্রছাত্রীরও। বিষয়টি নিয়ে চোপড়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত বসাক বলেন, ‘‘কলেজে শুরু হওয়ার সময় একটি জায়গার দরকার ছিল। সেই কারণে এই স্কুলটি ব্যবহার করেছেন। স্কুলের মধ্যে কলেজ চালানোয় সমস্যায় পড়তে হয়। তবে কলেজের নিজস্ব ভবন সম্পূর্ণ হয়েছে। কলেজ চাইলেই নিজস্ব ভবনে ক্লাস শুরু করতে পারে। তা হলে কলেজের ছাত্রছাত্রীদেরও ক্লাস করতে সুবিধা হবে।’’
অপর দিকে কলেজের নিজস্ব ভবনেই নতুন শিক্ষা বর্ষ থেকে পঠনপাঠনের দাবি তুলেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের ছাত্রসংসদের ইউনিট সভাপতি ফতেবুর রহমান বলেন, ‘‘কলেজ সকালে হওয়ায় সমস্যায় পড়তে হয় ছাত্রছাত্রীদেরই। কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি রেখেছি, চলতি বছরের পঠনপাঠন যাতে নিজের কলেজেই সম্পূর্ণ হয়।’’