টেন্ডার না ডেকেই বরাত দেওয়া হয়েছে কলেজের তিনতলা ভবন নির্মাণের। এমনটাই অভিযোগ উঠল মালবাজারে।
পরিমল মিত্র স্মৃতি কলেজের অধ্যক্ষা একটি নির্মাণকারী সংস্থাকে পরিচালন সমিতির বৈঠকে আলোচনা না করেই কাজের বরাত দেবার কথা জানিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ। পদাধিকারবলে তিনি পরিচালন সমিতির সম্পাদক। তাঁর এই সিদ্ধান্তে সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভেরও সৃষ্টি হয়েছে।
গত নভেম্বরের গোড়ায় মালবাজারে এসে মালবাজার পরিমল মিত্র স্মৃতি কলেজে বিজ্ঞান শাখা খোলার জন্যে বিজ্ঞান ভবন নির্মাণ বাবদ এক কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী । ডিসেম্বর মাসে মালবাজার কলেজ সেই বরাদ্দের টাকাও পেয়ে যায়। এরপরেই লিখিত ভাবে গত ১৫ তারিখে কলকাতার একটি সংস্থাকে কলেজ ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
কিন্তু কোনও সংস্থাকে বরাত দেওয়া হবে,তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে আজ বুধবার কলেজের পরিচালন সমিতির বৈঠক ডাকা হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর নিয়মরক্ষার বৈঠকের মানে কী এই প্রশ্ন তুলেছেন কলেজের পরিচালন সমিতির একাধিক সদস্য। তাঁরা জানান গত ১৪ তারিখ পরিচালন সমিতির জরুরি বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে আলোচ্য বিষয়ের যে লিখিত প্রতিলিপি থাকে সেখানেও কলেজ ভবন নির্মাণের কোনও বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল না। অথচ তার একদিন পরেই নির্মাণ সংস্থাকে বরাত দেওয়ার লিখিত চিঠি পাঠানো হয়। এবারে এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর লাগাতে নিয়মরক্ষার বৈঠক ডাকা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
৫ লক্ষের বেশি টাকা ব্যয়ে যে কোনও নির্মাণ কাজে ই টেন্ডার বাধ্যতামূলক বলে দাবি করেন বিক্ষুদ্ধরা। কীভাবে এক কোটি টাকার কাজ বিনা টেন্ডারে করতে উদ্যোগী হয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ সেই প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। মালবাজার পরিমল মিত্র স্মৃতি কলেজের অধ্যক্ষা উমা মাজি জানান, কলেজের ই টেন্ডার আয়োজনের পরিকাঠামো নেই। তিনি বলেন,‘‘আমরা আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই বিজ্ঞান বিভাগ খুলতে চাইছি। তাই স্যাক্স বি নামের রাজ্য সরকারেরই একটি নির্মাণকারী সংস্থার সঙ্গে ভবন নির্মাণের ব্যাপারে প্রাথমিক কথাবার্তা হয়েছে। তার ভিত্তিতে আমরা চিঠি পাঠাই তবে কোন টাকাই এখনও দেওয়া হয়নি। আজকের বৈঠকে এই সংস্থাকেই কাজ দেওয়া হবে কিনা তা নিয়েই আলোচনার কথা রয়েছে।’’ তাঁর দাবি, গত ১৪ তারিখের বৈঠকে ভবন নির্মাণের বিষয় উল্লেখ না থাকলেও স্ট্যান্ডিং কমিটির পরিদর্শনের আলোচনার সূত্র ধরে নির্মাণকারী সংস্থাটির কথা আসে। তাই সব সদস্যেরাই বিষয়টি জানেন।
অধ্যক্ষার পাশে দাঁড়িয়েছেন পরিচালন সমিতির সভাপতি তথা মালবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন সাহাও। তার কথায়, ‘‘সরকারি সংস্থার বাইরে অন্য সংস্থাকে কাজ দেওয়া নিয়ে আমাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই সরকারি সংস্থাকেই কাজের বরাত দেওয়ার কথাবার্তা হয়েছে। চূড়ান্ত কিছুই হয়নি। কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে খুলুক, যাঁরা চান না তারাই অযথা বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করছেন।’’