উত্তরের চা শিল্পের জন্য আগামী আর্থিক বাজেটে আলাদা প্যাকেজ ঘোষণার দাবি তুলল উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ীদের অন্যতম সংগঠন ফোসিন। সম্প্রতি ফোসিনের তরফে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষেই কেন্দ্র আগামী অর্থ বর্ষের (২০১৬-১৭) জন্য বাজেট ঘোষণা করবে।
ফোসিনের তরফে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে, উত্তরবঙ্গে অর্থনীতির একটি বড় অংশ দাঁড়িয়ে রয়েছে চা শিল্পের উপর। এই শিল্পে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে বিরাট সংখ্যক কর্মসংস্থান হয়েছে। বাগানকে ঘিরে নানা ছোট বড় সহায়ক শিল্পও গড়ে উঠেছে। কিন্তু বর্তমানে পাহাড়, সমতলে চা শিল্পে যা অবস্থা তা গত ১০০ বছরেও দেখা যায়নি। বাগান বন্ধ, শ্রমিক মালিক-বিরোধ, ম্যানেজার খুন, পাতার দাম কম সব রকম সমস্যাই রয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারে উত্তরবঙ্গের বাগানগুলি নিয়ে সদর্থক ভূমিকা নিলেও আর একটু বেশি দরকার।
ফোসিনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস দাবি করেনন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকারের এই অঞ্চলের চা বাগান নিয়ে ভাবছে এটা খুব ভাল বিষয়। তবে বাজেটে এর জন্য আলাদা প্যাকেজ একটা থাকা দরকার।’’ তিনি জানান, প্যাকেজে টাকার পরিমাণ নিয়ে তাঁরা কিছু বলেননি। ১০০ কোটিও হতে পারে আবার ৫০০ কোটিও হতে পারে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী কয়েক দফায় এই অঞ্চলের বাগানগুলিতে ঘুরে গিয়েছেন। তাই শ্রমিক কল্যাণ, পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য-শিক্ষা বিভিন্ন খাতে ওই প্যাকেজ হতে পারে।
পাহাড় ও সমতল মিলিয়ে উত্তরের আটটি জেলায় প্রায় ২৮৬টি বড় চা বাগান রয়েছে। অন্তত ৫০ হাজার ক্ষুদ্র চা বাগান রয়েছে। ছোট বাগানগুলি মূলত পাতা বিক্রি করে চলে। সেখানে বড় চা বাগানগুলির একাংশেই সমস্যা তৈরি হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সমস্যা জর্জর প্রায় ৪১টি চা বাগান রয়েছে। কোথাও মালিকপক্ষ বাগান ছেড়ে চলে গিয়েছেন, কোথাও বা মালিকপক্ষ চা আইন মেনে কাজ করছেন না বলে অভিযোগ। শ্রমিকরা বকেয়া পাওনা পাচ্ছেন না। চিকিৎসার সঠিক বন্দোবস্ত না থাকার অভিযোগও উঠেছে। গত কয়েক বছরে বাগানগুলিতে বহু শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্য সরকার বন্ধ বাগানগুলিতে অন্ত্যোদয় যোজনায় চাল-গম, স্বাস্থ্য শিবির, ১০০ দিনের কাজ, রেশন দোকান, অঙ্গনওয়াড়ি চালানোর কাজ করছে বলেও বহুবার দাবি করেছে। এমনকী, ১০০ কোটি টাকার প্যাকেজ চলছে বলেও কয়েক দফায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণাও করেছেন।
তবে রাজ্য সরকার বিরোধী বিভিন্ন দল এবং সংগঠনের দাবি, অনেক সময়ই বিভিন্ন বাগানে রাজ্য সরকারের সাহায্য পর্যাপ্ত হচ্ছে না। রাজ্য সরকারের দাবি, চা আইন অনুসারে বাগানের মূল দায়িত্ব কেন্দ্রের। জমি লিজে দেওয়ার সুবাদে বাগানের চা থেকে কিছু কর আদায় করে সরকার। আইন অনুসারে আবার বাগানগুলিকে রাজ্য প্রয়োজন হলেও সরাসরি বাগানগুলি অধিগ্রহণও করতে পারে না। এই আইনও সহজ করার দাবি তুলেছে রাজ্য। ফোসিনের কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, বাগান নিয়ে আইন সংশোধন থেকে সরাসরি আর্থিক সাহায্য সবই কেন্দ্র পারে। তাই তাঁরা কেন্দ্রের দ্বারস্থ হয়েছেন।
বাগান ছাড়াও উত্তরবঙ্গকে নর্থ-ইস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন পলিসি-এর আওতায় আনার দাবিও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে জানিয়েছে ফোসিন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জানান, শিলিগুড়ি-তথা উত্তরবঙ্গ উত্তর পূর্বাঞ্চলের গেটওয়ে। একপাশে সিকিম, অসমের অন্য দিকে বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, চিনের মত প্রতিবেশীরা। ওই ‘প্রমোশন পলিসি’তে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি শিল্প, বাণিজ্যে নানা সুযোগ সুবিধা পায়। কিন্তু উত্তরবঙ্গ একই অবস্থানে থেকেও কিছুই পায় না। কর ছাড়, প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা চালু, ভিন্ন বাণিজ্য নীতি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য সুযোগ বাড়ানো, আয়কর ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানোর দাবিও জানানো হয়েছে। বাগডোগরাকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তকমা দেওয়ার দাবিও জানিযেছে ফোসিন।