ক্ষুদিরামের মৃত্যু দিনে কলেজে শহিদ দিবস পালনের অনুষ্ঠান করতে গেলে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেত্রী, সমর্থকরা ডিএসও’র ছাত্রীদের উপর হামলা চালিয়ে মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠল।
মঙ্গলবার শিলিগুড়ি মহিলা কলেজের ঘটনা। মারধরে জখম ডিএসও’র এক ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। ওই ঘটনায় টিএমসিপি’র দুই ছাত্রীর নাম করে পুলিশে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে এ দিন বিকেলে কোর্ট মোড় থেকে হাসমিচক পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করে ডিএসও। আজ, বুধবার শিলিগুড়ির স্কুল কলেজগুলিতে তারা ছাত্র ধমর্ঘট ডেকেছে। নৈতিক ভাবে ওই ধর্মঘটকে সমর্থন করছে এসএফআই।
তাদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো এবং মারধরের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে টিএমসিপি। টিএমসিপি’র কলেজের নেত্রী তথা ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক মালা মণ্ডল বলেন, ‘‘কলেজে এ দিন ভর্তি চলছিল। ডিএসও’র ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে শহিদ দিবাস পালন করছিল। সে সময় তাদের কয়েকজন অন লাইনে আবেদন না করলেও ভর্তির জন্য দাবি করে। তা নিয়ে কথা কাটাকাটি বচসা বাধে। ডিএসও’র এক ছাত্রী পড়ে গেলে তাঁকে আমরাই হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন।’’ কলেজের অধ্যক্ষ রুমা ভৌমিক জানান, তিনি বাইরে রয়েছেন। তাই কিছু বলতে চারছেন না। কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে এ ব্যাপারে আর কেউ কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
জখম তথা ইতিহাস বিভাগে অনার্সের প্রথমবর্ষের ছাত্রী পঞ্চমী রায় শিলিগুড়ি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অভিযোগ, তাঁকে লাঠি, জুতো দিয়ে মাথায় মারা হয়েছে। সিঁড়ি থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। ডিএসও’র কলেজ ইউনিটের তরফে রিনা মণ্ডল বলেন, ‘‘অন্যায় ভাবে টিএমসিপি’র সমর্থকরা আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে, মারধর করেছে। তারই প্রতিবাদে ছাত্র ধর্মঘট ডাকা হয়েছে।’’
এসএফআই এ দিন হিলকার্ট রোডে মিছিল করে হাসমিচকে যায়। শিক্ষাক্ষেত্রে তৃণমূলের সন্ত্রাসের প্রতিবাদে, বিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলির উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখান। শিক্ষামন্ত্রীর কুশপুতুল পোড়ান হয়। এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক সৌরভ সরকার জানান, রাজ্যে তৃণমূল বিরোধী ছাত্রছাত্রীদের উপর হামলা চালাচ্ছে শাসক দলের ছাত্র সংগঠন। তাই ধমর্ঘটকে আমরা নৈতিক ভাবে সমর্থন করছি।’’
অন্য দিকে এ দিন আবেদনকারী সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের ভর্তির ব্যবস্থার দাবিতে বাগডোগরা কলেজের অধ্যক্ষের দফতর ঘেরাও করে ছাত্র পরিষদ। অধ্যক্ষকে তারা স্মারকলিপিও দেন। কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাস কোর্সে সব বিভাগ মিলিয়ে ১৩৫০ আসন রয়েছে। অনার্সে রয়েছে ৪৫০ টি আসন। সে জায়গায় এ বছর অনার্স পাস মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজারের বেশি আবেদন পড়েছে। অনার্সে ১৫০ আসন ফাঁকা রয়েছে। তাই পাস কোর্সে যাঁরা ভর্তি হয়েছেন তাদের যোগ্যতা থাকলে আবেদন করতে বলা হয়েছে। সমস্ত আসনে ভর্তির পরেও প্রচুর ছাত্রছাত্রী ভর্তি হতে পারবেন না সে জন্য অন্তত ২০ শতাংশ আসন বাড়ানোর দাবি তুলেছে ছাত্র পরিষদ। বেলা সাড়ে ১২ টা থেকে দুটো পর্যন্ত ঘেরাও অবস্থান চলে। পরে কলেজের পরিচালন সমিতির বৈঠকে বিষয়টি আলোচনা করার আশ্বাস দিলে ঘেরাও ওঠে। ছাত্র পরিষদকে ভর্তি নিয়ে আন্দোলন করতে দেখে আসরে নামে টিএমসিপি’ও। তারাও আবেদনকারী সমস্ত ছাত্রছাত্রীদের ভর্তির ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দেয়। অধ্যক্ষ সুভাশিস মিশ্র বলেন, ‘‘ছাত্র সংগঠনগুলির দাবির বিষয়টি কলেজের পরিচালন সমিতির বৈঠকে পেশা করা হবে। সেখানে কী আলোচনা হয় তা ছাত্র সংগঠনগুলিকে পরবর্তীতে জানানো হবে।’’