ট্রাকের সঙ্গে জিপের মুখোমুখি ধাক্কায় মৃত্যু হল চার জনের। রবিবার সকালে শিলিগুড়ির সেবক লাগোয়া সাত মাইল এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।
মৃতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। ঘটনায় জখমদের কয়েক জনকে সেবক রোডের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ধনবাহাদুর প্রধান (৪৬) জিপটি চালাচ্ছিলেন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যুহয়, তাঁর, আরেক ব্যক্তির এবং তিনিয়া কারকি (৫) নামে শিশুটির। জখম আরও তিন জনকে শিলিগুড়ির সেবক রোডের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হলে সন্ধেয় মৃত্যু হয় তাঁদের মধ্যে মীনা কারকি (২৮) নামে মহিলার। তিনিয়া তাঁরই মেয়ে বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় সেনা ছাউনি থেকে কয়েক জন জওয়ানই প্রাথমিক ভাবে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। শিলিগুড়ি পুলিশের এসিপি (পূর্ব) পিনাকী মজুমদার বলেন, ‘‘ঘটনায় সন্ধে পর্যন্ত চার জনের মৃত্যু হয়েছে। ট্রাকের চালক প্রথমে পালিয়ে গেলেও পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মৃতদের পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।’’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল দশটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে। সিকিমের নামচি থেকে শিলিগুড়ির দিকে আসছিল যাত্রী বোঝাই জিপটি। তাতে ১০ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। সাতমাইলের সোরিয়া পার্ক এলাকায় আসতেই উল্টো দিক থেকে আসা একটি ট্রাক হঠাৎই একই লেনে ঢুকে পড়ে। গতিতে থাকা জিপের চালক শেষ মুহূর্তে আর সামলাতে পারেননি বলে পুলিশের অনুমান। ট্রাকের সঙ্গে জিপের মুখোমুখি ধাক্কা লাগে। জিপটি উল্টে রাস্তার পাশে অগভীর নয়ানজুলিতে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মত্যু হয় তিন জনের। শিলিগুড়ি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সকলকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। উদ্ধার কাজে হাত লাগানো এক জওয়ান বলেন, ‘‘গাড়িটি বেশ জোরেই ছিল। হঠাৎই ট্রাকটি রাস্তার বাঁ দিক থেকে ডান দিকে ঢুকে পড়ে।’’
গোপাল থাপা নামে জিপের এক যাত্রীর খোঁজ মিলছে না বলে পরিবারের সদস্যদের দাবি। দুর্ঘটনার পর নামচির বাসিন্দা গোপাল থাপাকে খুঁজতে ঘটনাস্থলে যান তাঁর আত্মীয়েরা। রীতা প্রধান নামে তাঁর এক আত্মীয়া বলেন, ‘‘গোপালবাবুর মোবাইল থেকে কেউ আমাদের জানায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। তার পর থেকে মোবইল সুইচড অফ। সম্ভাব্য সমস্ত হাসপাতালে খুঁজেও তাঁকে পাচ্ছি না।’’ পরে তাঁরা ভক্তিনগর থানায় নিখোঁজের অভিযোগও দায়ের করেন।