ইস্টার্ন বাইপাসে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের বর্জ্যের দুর্গন্ধ দূর করার কাজ শুরু করতে উদ্যোগী হল পুর কর্তৃপক্ষ। সব কিছু ঠিক থাকলে এ মাসের মাঝামাঝি বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের কাজে মহারাষ্ট্রের এক বিশেষজ্ঞের অধীনে ওই কাজ শুরু হবে বলে পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। সোমবার পুরসভায় ওই বিশেষজ্ঞ এসআর মালের সঙ্গে এ ব্যাপারে বৈঠক করেন মেয়র অশোক ভট্টাচার্য, সাফাই বিভাগের মেয়র পারিষদ মুকুল সেনগুপ্ত, পুরসভার সাফাই বিভাগ বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান অরবিন্দ ঘোষ এবং পুর আধিকারিকরা। মেয়র বলেন, ‘‘পরীক্ষামূলক ভাবে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের বর্জ্যর দুর্গন্ধ দূর করতে কাজ শুরু করা হচ্ছে। তা ঠিক মতো হলে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ করার জন্য ‘প্রজেক্ট’ তৈরি করে সরকারি প্রকল্পের টাকায় তা করার জন্য পাঠানো হবে।’’
পুরসভা সূত্রেই জানা গিয়েছে, ব্যাক্টেরিয়ার মাধ্যমে বিশেষ প্রক্রিয়ায় দুর্গন্ধ দূর করা হবে। যে পরিমাণ বর্জ্য জমে রয়েছে তা একবার দুর্গন্ধ মুক্ত করতে অন্তত ১০ লক্ষ টাকা খরচ হবে। তবে শুধু দুর্গন্ধ মুক্ত করাই নয় প্রক্রিয়াকরণ করে ওই বর্জ্য নষ্ট করার পরিকল্পনা নিতে মত দিয়েছেন ওই বিশেষজ্ঞ। পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দুর্গন্ধ মুক্ত করার কাজটি সফল হলে পরবর্তী পরিকল্পনার জন্য ডিটেল প্রজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরি করা হবে। বিশেষজ্ঞ এসআর মালে ভারত সরকারের স্বচ্ছ অভিযান প্রকল্পের বিশেষ কমিটিরও অন্যতম সদস্য। ওই প্রকল্পে শিলিগুড়ি শহরের বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য তিনিও উদ্যোগী হবেন।
ডাম্পিং গ্রাউন্ডের আবর্জনায় আগুন ধরে এলাকা ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছে বলে অভিযোগ। রবিবার ওই অভিযোগে পুরসভার আবর্জনা ফেলার গাড়ি ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ঢুকতে দেননি এলাকার বাসিন্দারা। মেয়র কলকাতায় ছিলেন। এ দিন শহরে ফিরে বেলা ১টা নাগাদ ডাম্পিং গ্রাউন্ডে যান তিনি। সেখানে আগুন নেভানোর কাজ করছে দমকল কর্তৃপক্ষ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাফাইয়ের কাজে যে সমস্ত কর্মীরা রয়েছেন তাঁরাই আবর্জনা নষ্ট করতে আগুন ধরিয়ে দেন। পুর কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছেন। অভিয়োগ, এলাকা ধোঁয়ায় ভরে ওঠায় তাতে অনেকের চোখ জ্বলছে, মাথা ব্যাথা করছে।
মেয়রের কাছে এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে গঠিত সচেতনতা জাগরণ কমিটি অভিযোগ করেন শুধু গন্ধ দূর করলেই সমস্যা মিটবে না। কমিটির তরফে সুজিত বিশ্বাস বলেন, ‘‘আমরা দাবি রেখেছি এখান থেকে ডাম্পিং গ্রাউন্ড সরাতে হবে। ৩০ লক্ষ টাকা শুধু প্রতি মাসে গন্ধ দূর করতে খরচ হবে বলে শুনেছি। বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ করার প্রকল্প করতে একশো কোটি টাকারও বেশি প্রয়োজন। তা হবে কি না সেই প্রশ্ন রয়েই গিয়েছে। তবে আমরা চাই ডাম্পিং গ্রাউন্ড এখান থেকে সরানো হোক। যেখানে নিয়ে যাওয়া হবে সেখানে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে প্রক্রিয়াকরণ করা হোক।’’
সেই সঙ্গে তাঁদের অভিযোগ ডাম্পিং গ্রাউন্ড লাগোয়া যে রাস্তা, নিকাশি নালা তৈরি হচ্ছে তার কাজ নিম্ন মানের। মেয়র সমস্যা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।