Advertisement
E-Paper

ধৃতদের হেফাজতে পেয়ে রহস্যভেদের আশায় পুলিশ

বর্ধন পরিবারের তিন সদস্যকে খুনের অভিযোগে ধৃতদের ১৪ দিনের জন্য হেফাজতে পেল পুলিশ। শুক্রবার শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হলে এসিজেএম দেবাঞ্জন ঘোষ তিনজনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০২:০১

বর্ধন পরিবারের তিন সদস্যকে খুনের অভিযোগে ধৃতদের ১৪ দিনের জন্য হেফাজতে পেল পুলিশ। শুক্রবার শিলিগুড়ি আদালতে তোলা হলে এসিজেএম দেবাঞ্জন ঘোষ তিনজনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

গত মঙ্গলবার সকালে মাটিগাড়ার লেনিনপুরের বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ পর্ষদের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী প্রদীপ বর্ধন, তাঁর স্ত্রী দীপ্তি দেবী এবং ছেলে পূর্ত দফতরের অস্থায়ী কর্মী প্রসেনজিতের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। গলায় ফাঁস দিয়েই তিনজনকে খুন করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তেই জানতে পারে পুলিশ। নিহতদের মোবাইল ফোন নিয়ে গিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। পরে একটি মোবাইলের সিম বদলে দুষ্কৃতীরা ব্যবহার করেছিল বলে পুলিশের দাবি।

সেই মোবাইল সহ বিভিন্ন সূত্র ধরে বর্ধন বাড়িতেই আগে কাজ করা তিন কাঠ মিস্ত্রিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। এ দিন ধৃত সহদেব বর্মন, দীপু সূত্রধর এবং চিরঞ্জিৎ মোদককে আদালতে তোলা হয়। শিলিগুড়ি আদালতের সরকারি আইনজীবী সুদীপ বাসুনিয়া বলেন, ‘‘পুলিশের আবেদন মতো ধৃত তিনজনকে চোদ্দদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।’’

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত দীপ্তি দেবীর বন্ধ হাতের মুঠো থেকে কয়েকটি চুল উদ্ধার হয়েছে। সেই চুলগুলি কার তা পরীক্ষার জন্যও আদালতের অনুমতি নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, খুনের সময় নিজেকে ছাড়ানোর জন্য দীপ্তি দেবী এক দুষ্কৃতীর চুলের মুঠি ধরে ফেলে। সে সময়েই কয়েকটি চুল ছিঁড়ে দীপ্তিদেবীর হাতে চলে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, দুষ্কৃতীদের কোনও একজনের চুলের নমুনার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া চুলের মিল পাওয়া গেলে, তা আদালতে অভিযোগ প্রমাণ করতে সাহায্য করবে।

ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পুলিশ বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর পেতে চাইছে। প্রথমত, বর্ধন বাড়িতে বেশি পরিমাণ নগদ টাকা থাকত না, এটা জানা সত্ত্বেও কেন সেই বাড়িতেই লুঠের পরিকল্পনা করল তারা? দ্বিতীয়ত, বাড়ি রং করার কাজে তিনজন মিস্ত্রি সেই বাড়িতেই রাতে থাকতেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় রংমিস্ত্রিরা যে সেই বাড়িতে থাকবেন না, সে খবর তিনজনের কাছে কে পৌঁছে দিয়েছিল তাও পুলিশ জানতে চাইছে। যে ভাবে সন্ধ্যার সময়ে ঢুকে তিনজনকে খুন করা হয়েছে, তাতে গোটা বিষয়ের পরিকল্পনায় আরও কয়েক জন জড়িত থাকতে পারে বলে পুলিশের একাংশের অনুমান। ধৃতদের সঙ্গে বড় চক্রের যোগসাজশ থাকতে পারে বলেও মনে করছে পুলিশ।

শিলিগুড়ি পুলিশের ডিসি (পশ্চিম) শ্যাম সিংহ বলেন, ‘‘ধৃতদের হেফাজতে পাওয়া গিয়েছে। তাদের থেকে পুরো পরিকল্পনা জানতে হবে। অনেক কিছু সূত্রই আমাদের হাতে আসছে।’’

দুষ্কৃতীদের হদিশ দিতে পুলিশের প্রশিক্ষিত কুকুর ‘তিস্তা’র ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন পুলিশের কর্তারা। দেহ উদ্ধারের পরেই গত মঙ্গলবার লেনিনপুরের বর্ধন নিবাসে নিয়ে আসা হয়েছিল শিলিগুড়ি কমিশনারেটের প্রশিক্ষিত কুকুর ‘তিস্তা’কে। দুষ্কৃতীদের তৈরি করা ফাঁস সহ ঘটনাস্থলের গন্ধ শুঁকিয়ে তিস্তাকে বাড়ির বাইরে নিয়ে আসে পুলিশ। এরপরে প্রশিক্ষিত কুকুরটি বাড়ি থেকে শিবমন্দির যাওয়ার সোজা সড়কের পরিবর্তে পিছনের দিকের সরু রাস্তা ধরে প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার ছুটে যায়। রঙ্গিয়া এলাকায় গিয়ে লচকা নদীর কাছাকাছি এসে কুকুরটি থমকে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, দুষ্কৃতীরা জেরায় কবুল করেছে, খুনের পর তারা ওই রাস্তা ধরে পালিয়ে যায়। লচকা নদীতে স্নানও করে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy