Advertisement
E-Paper

বিদ্যুত্‌-বিভ্রাটে চাষে ক্ষতি, পথ অবরোধ

ঘন ঘন লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের সমস্যায় জেরবার গোটা এলাকা। সেই অভিযোগেই ঘণ্টা ছ’য়েক জাতীয় সড়ক অবরোধ ও সাব স্টেশনে চড়াও হয়ে ভাঙচুর করলেন একাংশ চাষি। মঙ্গলবার রাতে চাঁচল সাব স্টেশনে। বুধবার সকালে মালদহের গাজলের আলাল-এ ৮১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান চাষিরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০১৪ ০৩:১৯
আলাল-এ চাষিদের পথ অবরোধ। বুধবার বাপি মজুমদারের তোলা ছবি।

আলাল-এ চাষিদের পথ অবরোধ। বুধবার বাপি মজুমদারের তোলা ছবি।

ঘন ঘন লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের সমস্যায় জেরবার গোটা এলাকা। সেই অভিযোগেই ঘণ্টা ছ’য়েক জাতীয় সড়ক অবরোধ ও সাব স্টেশনে চড়াও হয়ে ভাঙচুর করলেন একাংশ চাষি। মঙ্গলবার রাতে চাঁচল সাব স্টেশনে। বুধবার সকালে মালদহের গাজলের আলাল-এ ৮১ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান চাষিরা। বিক্ষোভের জেরে মালদহের সঙ্গে চাঁচল, সামসি, হরিশ্চন্দ্রপুর যোগাযোগ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এলাকায় যান গাজল বিডিও শৌভিক মুখোপাধ্যায়, ডিএসপি সিদ্ধার্থ দর্জি-সহ পুলিশ-প্রশাসনের অফিসারেরা। তাঁরা বিদ্যুত বণ্টন কোম্পানির কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে চাষিদের আশ্বাস দেওয়ার পর দুপুর দু’টো নাগাদ অবরোধ ওঠে।

বিদ্যুত্‌ বিভ্রাটের জেরে বোরো ধানের খেতে জল সেচ করা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার রাত ৯টা নাগাদ চাঁচল সাবস্টেশনের মূল দরজা ভেঙে ঢুকে পড়েন শ’দেড়েক চাষি। স্টোর রুমে ভাঙচুর চালানোর সময় স্টোরের ম্যানেজার সব্যসাচী দাল বাধা দেওয়ায় তাঁকে চাষিদের একাংশ মারধর করে বলে অভিযোগ। নিরাপত্তারক্ষী বাধা দেওয়ায় তাঁর মোটর বাইক ও এক কর্মীর সাইকেল ভেঙে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। মিনিট ১৫ তাণ্ডব করে পুলিশ পৌঁছনোর আগেই বিক্ষোভকারীরা চলে যান। চাঁচলের আশাপুর ফিডার লাইনের আওতায় থাকা চাষিরা ওই ভাঙচুর চালান বলে বিদ্যুত বণ্টন কোম্পানির অফিসারদের অভিযোগ। এ দিন একই অভিযোগে আলালে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন কদমতলি, জোরগাছি, রাজারামচক, মহাকালবোনা, পাবনা পাড়া সহ ১৫টি গ্রামের ৫০০-রও বেশি চাষি। বিডিও ঘটনাস্থলে গেলে তাকে কার্যত জোর করেই মাঠের পরিস্থিতি দেখতে নিয়ে যান চাষিরা। পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

চাষিরা জানান, লো-ভোল্টেজের জেরে এলাকার ৮টি আরএলআই প্রকল্প পাশাপাশি স্যালো বন্ধ হয়ে রয়েছে। শুধু ওই ৮টি প্রকল্পের অধীনেই রয়েছে ৭০০ একর বোরো ধানের খেত। জলের অভাবে ধানগাছ লাল হতে শুরু করেছে। বাধ্য হয়েই তাঁদের পথে নামতে হয়েছে। চাষিদের অভিযোগ, “বেশির ভাগ সময় বিদ্যুত্‌ থাকে না। ঘনঘন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি যেটুকু সময় বিদ্যুত্‌ থাকে তখন এতটাই লো-ভোল্টেজ থাকে যে তাতে নদী থেকে জল তোলা যাচ্ছে না। চালানো যাচ্ছে না স্যালো পাম্প। ফলে জল সেচের অভাবে এলাকার বোরো ধান চাষ মার খেতে বসেছে।”

মহাকালবোনার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ৫ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। তিনি জানান, কমবেশি ধারদেনা করে সব চাষিরাই বোরো ধান চাষ করেছেন। জলের অভাবে ধানের খেত শুকিয়ে যেতে বসেছে। জোরগাছি এলাকার চাষি শচীন বিশ্বাস জানান, ফসল মার খেলে আমাদের পথে বসা ছাড়া উপায় থাকবে না। বাধ্য হয়েই পথে নামতে হয়েছে।

বিদ্যুত বণ্টন কোম্পানির উত্তর মালদহের ডিভিশনাল ম্যানেজার সুমিত চৌধুরী বলেন, “বোরো ধান চাষের মরসুম হওয়ায় অতিরিক্ত চাপ নিতে না পারায় বেশ কিছু এলাকায় লো-ভোল্টেজের সমস্যা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এই দিন থেকে বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” সাবস্টেশনে ভাঙচুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ ভাবে দফতরে চড়াও হয়ে মারধর-ভাঙচুরের ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। চাঁচলের ঘটনায় পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়েছে।”

irregularities of power supply farming chanchal
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy