Advertisement
E-Paper

ভরা সভায় একসঙ্গে চলার ডাক সূর্যকান্তের

পুরভোটের মতোই এ বারও শাসকদলের হাত থেকে ভোট রক্ষা করতে ‘সকলে মিলে’ চলার ডাক দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। সোমবার শিলিগুড়ির আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েতের শিবমন্দির এলাকায় বিএড কলেজের মাঠে মহকুমা পরিষদের নিবার্চনী জনসভায় এ কথা জানান তিনি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০১:৫৪
শিলিগুড়ির শিবমন্দিরে সূর্যকান্ত মিশ্রের সভায় ভিড়। সোমবার বিশ্বরূপ বসাকের তোলা ছবি।

শিলিগুড়ির শিবমন্দিরে সূর্যকান্ত মিশ্রের সভায় ভিড়। সোমবার বিশ্বরূপ বসাকের তোলা ছবি।

পুরভোটের মতোই এ বারও শাসকদলের হাত থেকে ভোট রক্ষা করতে ‘সকলে মিলে’ চলার ডাক দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা সূর্যকান্ত মিশ্র। সোমবার শিলিগুড়ির আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েতের শিবমন্দির এলাকায় বিএড কলেজের মাঠে মহকুমা পরিষদের নিবার্চনী জনসভায় এ কথা জানান তিনি।

বিরোধী দলনেতা বলেন, ‘‘খালি বামপন্থীরাই নয় আপনি কংগ্রেস হতে পারেন, বিজেপি হতে পারেন বা বিক্ষুব্ধ তৃণমূলের কেউ হতে পারেন, যে প্রার্থী যেখানে আক্রান্ত হবেন আমরা বামপন্থীরা পাশে রয়েছি। আমাদের উপর নির্ভর করুন। আমরা সমান অধিকারের কথা বলছি। পুরসভা ভোটের সময়ও বলেছি। আবার এখনও বলছি।’’ সেই সঙ্গেই তাঁর বক্তব্য, ‘‘গ্রামে যখন ডাকাত পড়ে, কারও বাড়িতে আগুন লাগে তখন দল, ঝান্ডা দেখবেন না। তখন আগুন নেভাতে এক সঙ্গে জল ঢালেন। তেমনই ওই ডাকাতরা এলে তাদের তাড়াতে, হঠাতে সবাইকে এক হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’’

এ দিন সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়েই বিরোধী দলনেতা জানিয়ে দেন, যে রকম পুরভোটে তৃণমূলকে হঠিয়ে তাঁরা জিতেছেন, তেমনই মহকুমা পরিষদের ভোটেও তৃণমূলকে হঠাতে একমাত্র রাস্তা বামফ্রন্ট। অন্য কোনও বিকল্প নেই। কেন না বামপন্থীরাই সামনের সারিতে রয়েছে। তাই শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের ভোটে বামপন্থীদের জেতাতে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘‘আপনি যদি বামফ্রন্টের সমর্থক না হন, তবুও আমাদের ভোট দিন। কারণ তৃণমূলকে সরাতে বামেরাই পারে।’’

এর পরেই তিনি জানিয়ে দেন, ভোটের দিন এবং আগের দিন পাহারা দিতে হবে। নজরদারি চাই। তিনি বলেন, ‘‘অন্ধকারে জীবগুলি বেরিয়ে আসে। হায়নার মতো এখানে ওখানে ঘোরাঘুরি করবে আপনার অধিকার ছিনিয়ে নিতে। সমস্ত শক্তি দিয়ে আপনার অধিকার রক্ষা করতে হবে।’’ সভাতে এক জনকে দেখিয়ে বলেন, ছোটভাই লাল ঝান্ডা ধরে আছেন, কিন্তু ডান্ডা পলকা, পাতলা। তাঁর বক্তব্য, ‘‘বারবার বলছি যখন গরমে জন্তুগুলি হায়নার মতো বেরিয়ে আসবে। ডান্ডা পাতলা হলে হবে না। ডান্ডা যদি শক্তিশালী না হয়, মাথা বাঁচাতে পারবেন না। অধিকার রক্ষা করতে পারবেন না।’’

যা শুনে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেবের প্রতিক্রিয়া, ‘‘বিরোধী দলনেতা ঘুরিয়ে হুমকি দিয়ে গেলেন। উনি যেটা বলেছেন সেটা কোনও রাজনৈতিক কথা নয়। একটা দলের নীতি-আদর্শ চলে গেলে তাদের কিছু থাকে না। বামেদের এখন সেই অবস্থা।’’

উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নাম না করে সূর্যকান্তবাবুর কটাক্ষ, ‘‘এখানে একজন দাদা আছে। তিনি লাফালাফি করছেন। পুর ভোটের পর তাঁর চাকরিটা সুতোয় ঝুলছে। মহকুমা পরিষদের ভোটের পর সেই সুতোটা ছিড়ে যাবে।’’ উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া, ‘‘আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে ওঁকে দুশ্চিন্তা করতে হবে না। উনি নিজের দলকে সামলান।’’

তবে নির্বাচনের আগে দলের কর্মীদের মধ্যে যাতে আত্মতুষ্টি না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করে দেন। রাজ্য সরকারের সমালোচনার সময়ে অভিযোগ করেন, ‘‘এটা চোরেদের সরকার। ভয়ঙ্কর অবস্থা চলছে। তোলাবাজি চলছে। সব জায়গায় চুরি হচ্ছে। প্রশ্ন পত্র চুরি হচ্ছে। তা বিক্রি হচ্ছে। লোহা চুরি হচ্ছে। লোহা চোর বিধানসভাতে ঢুকে পড়েছে।’’ বিরোধী দলনেতা জানান, ক্ষমতায় আসার আগে তৃণমূল বলেছিল বামেদের বিরুদ্ধে সব ফাইল তদন্ত করে দেখা হবে। অথচ এখনও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সাদা পাঞ্জাবিতে এই সরকার কোনও কালি লাগাতে পারেনি। আর তৃণমূলেরই এক মন্ত্রী জেলে রয়েছেন। এ দিন মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, ‘‘আপনার মন্ত্রীরা অনেকে আছেন। তাদের নিয়ে বলছি না। আপনাকে বলছি। এই আঠেরোখাইয়ে আসুন আমাদের হারিয়ে দেখান।’’

এ দিন সভায় উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ির মেয়র তথা অশোক ভট্টাচার্য এবং জেলা বামফ্রন্টের শরিক দলের অন্য নেতারাও। পুরভোটের মুখে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস চালিয়ে ভোট লুঠের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। নিজেদের ভোট রক্ষা করতে তৃণমূল বিরোধী দলগুলিকে জোট বেঁধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনিই। তাঁর ওই উদ্যোগ সফল হওয়ার পর তা রাজ্য রাজনীতিতে আলোচিত হয়েছে। ফের এবার মহকুমা পরিষদের ভোটের আগে তিনি এবং জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক জীবেশ সরকার সংবাদ মাধ্যমের কাছে জানান, তৃণমূল বিরোধী ভোট যাতে ভাগ না হয় সে জন্য সেখানে বামেদের প্রার্থী নেই বা যেখানে তৃণমূল বিরোধী যে দলের প্রার্থী শক্তিশালী তাদেরকেই যেন বাসিন্দারা ভোট দেন। এ দিন অশোকবাবুও জানিয়ে দেন, ‘‘বর্তমান রাজ্য সরকারের কোনও নিয়ম নীতি নেই। মেয়াদ পার হওয়ার পরেও যথা সময়ে পুরসভা এবং শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদে ভোট করাতে পারেনি এই সরকার। মেয়াদ শেষ হওয়ার ৮ মাস পরে ভোট করানো হয়েছে। মানুষের সামনে দাঁড়াতে এই সরকার ভয় পাচ্ছে। ১৫ মাস পরে মহকুমা পরিষদের ভোট হচ্ছে। পঞ্চায়েত এলাকায় জনপ্রতিনিধিরা না থাকায় বাসিন্দাদের নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এ বার বাসিন্দাদের জবাব দেওয়ার সময়।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy