Advertisement
E-Paper

স্কুলে যেতে দেয় না মা অভিমানে ঘর ছাড়ল শিশু

বাড়ির পাশেই প্রাথমিক স্কুল। সমবয়সী ছেলেমেয়েরা যখন স্কুলে যায় তখন তাকে যেতে হয় গোবর কুড়োতে। স্কুলে যাওয়ার কথা বললেই নাকি বকাবকি করেন মা। বাবা দিল্লিতে শ্রমিকের কাজ করেন। হঠাৎ হঠাৎ বাবা যখন বাড়ি আসেন তখন তাঁর কাছে স্কুলে যাবে বলে আবদার জানায় সে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০১৫ ০২:২৭

বাড়ির পাশেই প্রাথমিক স্কুল। সমবয়সী ছেলেমেয়েরা যখন স্কুলে যায় তখন তাকে যেতে হয় গোবর কুড়োতে। স্কুলে যাওয়ার কথা বললেই নাকি বকাবকি করেন মা। বাবা দিল্লিতে শ্রমিকের কাজ করেন। হঠাৎ হঠাৎ বাবা যখন বাড়ি আসেন তখন তাঁর কাছে স্কুলে যাবে বলে আবদার জানায় সে। বাবা তাকে স্কুলে পাঠাতে চাইলেও, তিনি বাড়ি ছাড়লেই অবস্থা যে কে সেই। গোবর কুড়োতে যাবে না বলায় দিন চারেক আগে বকাঝকার পাশাপাশি মা মারধরও করেন বলে অভিযোগ। আর তারপরেই রায়গঞ্জ থানার ঝিটকিয়ার মাধেপুর গ্রামের বাড়ি ছেড়ে অভিমানে ট্রেনে উঠে পড়েছিল মেহবুব আলম। বিহারের সালমারি স্টেশনে নেমে হাঁটতে হাঁটতে তিনদিন বাদে পৌঁছে গিয়েছিল হরিশ্চন্দ্রপুরের রাড়িয়ালে। বুধবার রাতে রাস্তার ধারে অপরিচিত বছর সাতেকের ছেলেটিকে কাঁদতে দেখেন বাসিন্দারা। এরপর তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান হরিশ্চন্দ্রপুরের আইসি। বৃহস্পতিবার চাঁচল চাইল্ড লাইনের মাধ্যমে মালদহের একটি হোমে ঠাঁই হয়েছে বাড়ি পালানো মেহবুবের। কেননা ওই বালক যে নিখোঁজ হয়েছে এমন কোনও অভিযোগ রায়গঞ্জ থানাতে করা হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

হরিশ্চন্দ্রপুরের আইসি বাবিন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ওর মা ওকে স্কুলে যেতে না দিয়ে গোবর কুড়োতে পাঠান বলে বালকের দাবি। তা নিয়ে বকাবকি, মারধরও করা হত বলে সে পুলিশকে জানিয়েছে। তাই অভিমানে বাড়ি ছেড়েছে। আমরা ওকে চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দিয়েছি। যাতে ও বাড়ি ফিরতে পারে।’’ চাঁচল চাইল্ড লাইনের সদস্য নিহারুল ইসলাম বলেন, ‘‘ওকে আপাতত হোমে রাখার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। মেহবুব যে অভিযোগ তুলেছে তা ঠিক কি না জানিনা। কোনও মা যে এমন করতে পারেন ওর কথা শুনে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে। ফলে মা-কে ডেকে কথা বলার পরেই তাকে বাড়ি পাঠানো হবে। মেহবুব যাতে পড়তে পারে তা দেখা হবে।’’ মেহবুব আলম নামে ওই বালকের বাবা সামাদ আলি দিল্লিতে শ্রমিকের কাজ করেন। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে মেহবুব বড়।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy