বিষাক্ত সাপে কাটা রোগীকে প্রায় ১০০ ভায়েল অ্যান্টি স্নেক ভেনম বা সর্পাঘাতের প্রতিষেধক দিয়ে বাঁচাল আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালের চিকিৎসকরা। সাধারণত সর্পদষ্ট রোগীকে ১০-৩০ ভায়েল এএসভি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। চিকিৎসকদের ধারণা, শঙ্খচূড় সাপে ছোবল দেওয়ায় ওই রোগীকে বাঁচাতে এত এএসভি লেগেছে।
গত মঙ্গলবার বিকেলে তপসিখাতার বাসিন্দা বছর পঞ্চান্নর সুকুমার দাস নিজের পানের বরজে গিয়েছিলেন গাছের পরিচর্যা করতে। সেখানেই তাঁকে বাঁ পায়ে সাপে ছোবল দেয়। তবে তিনি সাপটিকে দেখতে পাননি। যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে তিনি বাড়ি যান। পরিবারের লোকেরা তাঁর পায়ে বাঁধন দিয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। চিকিৎসকরা তাঁকে এএসভি দেওয়া শুরু করেন। ওই দিন তাঁকে ৩০ ভায়েল এএসভি দেওয়া হয়। বুধবার দুপুরের পরে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে ফের চিকিৎসকরা এএসভি ভায়েলের পরিমাণ বাড়ান। পরে তাঁকে সিসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালের চিকিৎসক পার্থপ্রতিম দাস বলেন, “নিউরোটক্সিন বিষ ধীরে ধীরে তাঁর প্রভাব বাড়ায়। সাপে কাটা রোগী সময় মত হাসপাতালে এলে সে ক্ষেত্রে ১০-৩০ ভায়েল এএসভি দিয়ে তাঁদের বাঁচানো যায়। এ ক্ষেত্রে প্রায় তিনগুণের বেশি এএসভি লাগে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রফেসর চিকিৎসক দয়ালবন্ধু মজুমদারের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি সাপের বিষের রোগ নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি জানিয়েছেন শঙ্খচূড় ছোবল দিলে সে ক্ষেত্রে ১০০ ভায়েল এএসভি লাগে। রোগী এখন সুস্থ রয়েছে।”
সুকুমারবাবুর ছেলে সুব্রত দাস জানান, ‘‘বাবা সাপটিকে দেখেননি। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন প্রচুর ওষুধ লেগেছে। বাবা আপাতত সুস্থ।’’