বাংলা সাহিত্যে সমন্বয় নিয়ে আলোচনা
ফালাকাটা কলেজের উদ্যোগে এবং শীতলকুচি কলেজের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হল জাতীয় স্তরের আলোচনাচক্র। বিষয়: বাংলা সাহিত্যে সাম্প্রদায়িকতা ও সমন্বয়। মুখ্য বক্তা অধ্যাপিকা কৃষ্ণকলি বসু ইংরেজি ও বাংলা সাহিত্যে কী ভাবে সাম্প্রদায়িকতা এসেছে ও কী ভাবেই বা সমন্বয় ঘটেছে তার তুলনামূলক আলোচনা করেন। রেজাউল করিম তুলে ধরেছেন মধ্যযুগীয় মঙ্গলকাব্যে সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মসংঘাত ও সমন্বয়ের দিকগুলি। অধ্যাপক সুবোধ কুমার যশ তাঁর আলোচনায় গল্পসাহিত্যের প্রেক্ষিতে সাম্প্রদায়িক মনোভাব থেকে বেরিয়ে সাম্প্রদায়িকতাহীন সফল সমাজ গড়ার দিশা দেখিয়েছেন।
স্বাধীনতা পরবর্তী সাম্প্রদায়িকতা, দেশভাগজনিত বিচ্ছিন্নতা, আঞ্চলিক অসন্তোষের কথা জানান অধ্যাপক দীপক কুমার রায়। প্রধান অতিথি পঞ্চানন বর্মা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শুভ্রাংশুশেখর চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে জানা গেল ভারতীয় সংস্কৃতির প্রেক্ষিতে সাম্প্রদায়িকতার উৎস ও কারণ। সাহিত্য থেকে তুলে ধরেন উদাহরণও।
সাহিত্যে সাম্প্রদায়িকতা ও সমন্বয়ের গুরুত্ব এবং উপযোগিতার কথা জানান ফালাকাটা কলেজের অধ্যক্ষ ড. হীরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। দু’দিনের এই আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক অঙ্কুশ ভট্ট, দিলীপ কুমার রায়, দ্যুতিষ চক্রবর্তী, ইন্দ্রজিৎ রায়, রঘুনাথ ঘোষ, দেবকুমার মুখোপাধ্যায়, মানস মজুমদারের মতো বিশিষ্ট অধ্যাপকবৃন্দ। আলোচনার আসরটি মনোগ্রাহী হয়ে ওঠে অধ্যাপক সাবলু বর্মনের সঞ্চালনায়।
লেখা ও ছবি: অনিতা দত্ত।
যৌথ উদ্যোগে পালন ২২শে শ্রাবণ
কোচবিহার গোসাইর হাটের কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ কলেজ অফ এডুকেশন এবং গীতাঞ্জলি প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট যৌথ ভাবে পালন করল ২২শে শ্রাবণ। ছাত্রছাত্রীরা সঙ্গীত, নৃত্য, কবিতার মধ্য দিয়ে স্মরণ করল দিনটি। কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল মতিন এবং ড. আনন্দগোপাল ঘোষ ২২শে শ্রাবণের তাৎপর্য ও রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাভাবনা ব্যাখ্যা করেন। উপস্থিত ছিলেন শিবসুন্দর সাহা, প্রশান্ত সাহা এবং কলেজের অধ্যাপক ও অধ্যাপিকাবৃন্দ। পাশাপাশি ময়নাগুড়ি মনোরঞ্জন সাহা মেমোরিয়াল শিক্ষক শিক্ষণ মহাবিদ্যালয়ের আয়োজনে পালিত হল বিশ্বকবির প্রয়াণ দিবস। অধ্যক্ষ ড. অসীম রায় বিশ্বসাহিত্যের নিরিখে কবির সৃষ্ট সাহিত্যকর্মের তুলনামূলক আলোচনা করেন। ছিল উৎপল অধিকারীর কবিতাপাঠ এবং ‘জুতা আবিষ্কার’ কবিতা অবলম্বনে পরিবেশিত হয় আলেখ্য। অংশ নেন ঋতুপর্ণা সাহা ও লিপিকা রায়। তাহিরুল প্রামানিক শিক্ষক সমাজের প্রতি রবীন্দ্রনাথের অবদানের কথা তুলে ধরেন। আকাশজ্যোতি তরফদারের নৃত্যানুষ্ঠান ছিল উপভোগ্য। পরিচালক সমিতির সভাপতি মনোজ কুমার সাহা বালক কবি থেকে পরিণত রবীন্দ্রনাথের সৃষ্ট কর্ম নিয়ে আলোকপাত করেন। অনুষ্ঠানের উপরি পাওনা অধ্যক্ষ ড. রায়ের কণ্ঠে পরিবেশিত রবীন্দ্রসঙ্গীতটি।
প্রয়াণ দিবসে কবি-স্মরণ
মালদহ জেলা গ্রন্থাগার ও বইমেলা কমিটির পক্ষ থেকে স্মরণ করা হল বিশ্বকবির প্রয়াণ দিবস। শুরু পূবালী সংস্থার শিল্পীদের সম্মেলক গানে। পরে গাইলেন মুক্তি রায় ‘সুখের মাঝে তোমায় দেখেছি’ এবং ‘শেষ নাহি যে শেষকথা কে বলবে’। অসীম মৈত্র ও অর্পিতা মৈত্রর নিবেদনে ছিল ‘কান্না হাসির দোলদোলানো’ এবং ‘জগতে আনন্দ যজ্ঞে’। অরিন্দ্রজিৎ দত্তের কণ্ঠে শোনা গেল ‘শ্রাবণের ধারার মতো’ রবীন্দ্রসঙ্গীতটি। দ্বৈতনৃত্য পরিবেশন করেন উপমা দত্ত ও আস্থা দত্ত। রবীন্দ্রনাথের ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ কবিতা আবৃত্তি করে শোনালেন সুধাংশু উপাধ্যায়। সুচিমিতা দাসের পরিবেশনায় ছিল বেশ কয়েকটি রবীন্দ্রসঙ্গীত। নীল আকাশের কোলে কোলে, কার মিলন চাও বিরহী, ওগো আমার শ্রাবণ মেঘের খেয়াতরী। আন্তরিক পরিবেশনা। কবির জীবতকালে বিরহ, বিচ্ছেদ, মৃত্যু, শোক বিষয় হয়ে এল ‘কিছু দেখা পাওয়া, কিছু ছুঁয়ে যাওয়া’য় )তথ্য ও বিন্যাস : সুস্মিতা ঘোষ)। প্রিয়-পরিজনদের ব্যথা বিয়োগ ঘিরে কবির নিজস্ব উপলব্ধি ছুঁয়ে গেলেন মধুমিতা কর্মকার তার পাঠে। অপূর্ব উপস্থাপনা। ছিল বিপ্লব সেনগুপ্তের স্বরচিত কবিতাপাঠ এবং অন্বেষা চৌধুরী ও প্রেরণা নাগের নত্যানুষ্ঠানও।
লেখা ও ছবি: অনিতা দত্ত।
জোছনা পালক
কবিতা তখন ‘‘আরও একবার শব্দ জন্ম’’ দিয়েছে। সদ্যোজাতকের ‘‘স্বপ্নঘর’’ থেকে ‘‘জোছনা পালক’’-এ আঁকা কবিতাদের তুলে আনলেন সুশান্ত নন্দী। এক আকাশ জ্যোৎস্না মাখা সেই সব কবিতায় সাতরঙের কত যে টুকরো ছবি! জ্যোৎস্নায় আঁকা থাকে, ‘‘বিশ্বাস’’ থেকে ‘‘জন্মান্তর’’। কখনও ‘‘বৃষ্টিপথ’’-এর ‘‘গান’’ থেকে আজানের ধ্বনি, কখনও মেঘলা শরীরের ঘ্রাণ। মাত্র দুই তিন চারটি সমান্তরাল সরলরেখার শব্দবিন্যাসে, এমনই সব জলছবির ছোট্ট ক্যানভাস ‘‘জোছনা পালক’’। ছোট, তবুও তার গভীরতা ‘‘অনন্ত সৌন্দর্যের চেয়েও গভীরতর।’’
লেখা ও ছবি: সুদীপ দত্ত।
প্রসঙ্গ: উত্তর
দেবব্রত চাকি সম্পাদিত ‘‘উত্তর প্রসঙ্গ’’-এ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, বৃন্দাবন ঘোষ, মৃগাঙ্গ চক্রবর্তী এবং অন্যান্যরা পাঠককে উপহার দিলেন ‘‘গঙ্গাদূষণ ও ইলিশ সমস্যা: উৎস অনুসন্ধান’’, ‘‘রাম সেতু: অজানা কথা’’, ‘‘প্রাচীন ও সমকালীন কোচবিহারের শিল্পভাবনা’’, ‘‘বিলুপ্ত রাজধানী দেবীকোট’’, ‘‘উত্তর দিনাজপুর জেলার নদীকথা’’—এমন সব তথ্য সমৃদ্ধ প্রবন্ধ। প্রাপ্তি তালিকায় গতিশীল ভাষাও। ‘‘উত্তরবঙ্গ তথা উত্তর-পূর্ব ভারতচর্চার গ্রন্থপঞ্জী’’ তালিকাটি নিঃসন্দেহে মূল্যবান সংযোজন। আগ্রহী পাঠকের ব্যক্তিগত সংগ্রহে থাকার দাবি জানাতেই পারে কোচবিহারের এই সংকলন।
নাট্যতীর্থে গান-আবৃত্তির সন্ধ্যা
বালুরঘাট নাট্যতীর্থ মন্মথ মঞ্চে অনুষ্ঠিত হল আবৃত্তি সন্ধ্যা। আয়োজক আনন্দধারা ইনস্টিটিউট অফ পারফর্মিং আর্টস অ্যান্ড প্রোডাকশন। সূচনা হল শিক্ষার্থীদের আবৃত্তি ও গানের কোলাজে। যে আনন্দ ফুলের বাসে/ যে আনন্দ পাখির গানে সম্মেলক আবৃত্তির সঙ্গে পরিবেশিত আগুনের পরশমণি ছিল শ্রুতিনন্দন। শ্রাবন্তী, নিহিতা, মধুপর্ণী, সৃষ্টি, স্বর্ণাভ, নীপশ্রী, অন্বেষা, প্রচেতা, ঋতঙ্কর, সত্যমদীপ—এই খুদে শিল্পীদের গলায় মনোগ্রাহী উপস্থাপনা—‘ছড়ার মেলা’। তাদেরই সমবেত কণ্ঠে শোনা গেল ‘ঋণশোধ’ কবিতাটি। আবহ, আলোকসম্পাত, ও নৃত্য দিয়ে সাজানো ‘মেঘলা আকাশ’ অনুষ্ঠানে অন্য মাত্রা এনে দেয়। উদাত্ত কণ্ঠে ও সুস্পষ্ট উচ্চারণে তুহিনশুভ্র মণ্ডল, সঞ্জয় কর্মকার, একতা ভট্টাচার্য, বনানী মুখোপাধ্যায় ও সৌমেন সমাদ্দার সমবেত ভাবে শোনান রবীন্দ্রনাথ, সুকুমার রায়, ও শঙ্খ ঘোষ। নাচলেন সুচেতনা বন্দ্যোপাধ্যায়। শ্রাবন্তী বক্সি, সায়ন্তনী দাঁ ও ইশিতা সরকারের নিবেদনে ছিল ‘অন্য মা’ ‘ হিং টিং ছট’ ও ‘নেমন্তন্ন’ কবিতাগুলি। ব্রত চক্রবর্তীর ‘মিলিদি’ উর্মিলা মণ্ডলের কণ্ঠে বেশ উপভোগ্য। মধুপর্ণী ও মনস্বীনির দ্বৈত পরিবেশনায় ‘একটি পাখি’ ও ‘দুই পাখি’ কবিতা দুটিও সমান আন্তরিক। এ ছাড়া মিতশ্রী দেব, নবনীতা সরকার, অমৃতা মৌয়ার পরিবেশন করেন ‘পাখির পালক’, কৃষ্ণা বসুর ‘রাধিকা সংবাদ’ এবং ‘পাহাড় চূড়ায়’ কবিতাগুলি। বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী মলয় পোদ্দারের আবৃত্তি ছিল স্বকীয়তায় উজ্জ্বল।
ওড়িশি নৃত্যের কর্মশালা
রীনা স্টাডিজ গ্রুপ ফর ডান্স-এর উদ্যোগে শহর জলপাইগুড়িতে অনুষ্ঠিত হল ওড়িশি নৃত্য কর্মশালা। প্রশিক্ষক ছিলেন গুরু রতিকান্ত মহাপাত্রের সুযোগ্য ছাত্রী ঋতু সেনগুপ্ত। ১২ থেকে ১৫ অগস্ট চার দিনব্যাপী এই কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখানো হয় গুরু প্রণাম, পদচারণা, গ্রিবা, হস্ত, পদ-সহ অঙ্গ সঞ্চালনা, মুদ্রা, চালি (চলন)-সহ এই নৃত্যের নানা দিক। পাশাপাশি অভিনয় দর্পণ, নবরস, তাল, রাগও শেখানো হল।
শহর ও শহরতলির ৪৩ জন শিক্ষার্থী শিবিরে অংশগ্রহণ করেন। সংস্থার কর্ণধার সৌগত মুখোপাধ্যায় জানান, স্ব-অধীন বিষয়টিকে শিক্ষার্থীদের কাছে উপস্থাপন করার জন্যই এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল।