এক মাসের মধ্যে যে পুরবোর্ড ভাঙার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূলের দার্জিলিং সভাপতি তথা পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব, সেখানকার মেয়র অশোক ভট্টাচার্যের উদ্যোগকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন তাঁরই দলের নেতা ভাইচুং ভুটিয়া। যে দিন দুপুরে মন্ত্রী হুমকি দিয়েছেন, সেই বিকেলেই তাঁর দলের নেতা পুরবোর্ডের মেয়রকে প্রশংসা করেছেন। শুক্রবার শিলিগুড়ি পুরসভার নাগরিক কনভেনশনে মেয়র অশোক ভট্টাচার্য হাতিয়ার করলেন ভাইচুঙের সেই চিঠিটি। অশোকবাবুর কটাক্ষ, ‘‘মন্ত্রী নাকি বলেছেন, অগস্টেই বোর্ড ভেঙে দেবেন। উনি আগে নিজেদের সব নেতা-কাউন্সিলরকে একজোট করে দেখান। তার পরে না হয় হুমকি দেবেন।’’
ঘটনাচক্রে, গত বিধানসভা ভোটে অশোকবাবুর বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন ভাইচুঙ-ই। বিধানসভা ভোটে হারার পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাইচুংকে উত্তরবঙ্গ ক্রীড়া উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান করেন।
গত বছর প্রথমে শিলিগুড়ি পুরসভা, পরে মহকুমা পরিষদের ভোটে তৃণমূলকে হারিয়ে দেন অশোক ভট্টাচার্য। অন্য দলগুলিকে সঙ্গে নিয়ে এই লড়াই লড়েছিলেন তিনি, যার নাম হয়ে গিয়েছিল ‘শিলিগুড়ি মডেল’। গত বৃহস্পতিবার টিএমসিপি-র কনভেনশনে গৌতম দেব দাবি করেন, অগস্টেই ‘শিলিগুড়ি মডেল’ ধুলিসাৎ হয়ে তৃণমূলের পতাকা উঠবে। মন্ত্রীর এই দাবির তীব্র প্রতিবাদে নামে বামেরা। অগণতান্ত্রিক ভাবে তৃণমূল বোর্ড ভাঙতে চাইছে বলে অভিযোগ করে এ দিন শুক্রবার সকালে জেলা বামফ্রন্ট নেতৃত্ব সাংবাদিক বৈঠক করেন। মেয়র অশোকবাবু, মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি তাপস সরকাররা মন্ত্রী গৌতমবাবুকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছোড়েন। তার পরে নাগরিক সভায় পড়ে শোনানো হয় ভাইচুঙের চিঠিও।
এ দিনই শহর পরিষ্কার রাখতে পুরসভা একটি মোবাইল অ্যাপলিকেশনের উদ্বোধন করেছে। সেই উপলক্ষে নাগরিক কনভেনশনও ছিল। কনভেনশনে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ জানাতে মেয়র নিজেই গৌতম এবং ভাইচুংকে ফোন করেছিলেন। গৌতমবাবু তো বটেই, তৃণমূলের অন্য কোনও কাউন্সিলরই ওই কনভেনশনে আসেননি। তবে হাজির না থাকলেও প্রশংসা করে চিঠি পাঠিয়েছেন ভাইচুং। মেয়রকে সম্বোধন করে তিনি লিখেছেন, ‘‘পুরসভার উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। এই নতুন উদ্যোগে আমার সমর্থন রয়েছে। আপনাকেও (মেয়রকে) অভিনন্দন।’’ আরও জানিয়েছেন, শারীরিক অসুস্থতার জন্যই তিনি আসতে পারেননি।
ভাইচুং কেন চিঠি লিখলেন, তা নিয়েও দলে বিভ্রান্তি রয়েছে। ভাইচুং অবশ্য এ দিন ফোন তোলেননি। তৃণমূলের এক জেলা নেতার দাবি, শিলিগুড়ি পুরবোর্ড হাতে আসুক, তা দলের রাজ্য নেতৃত্বও চান। তবে আগ বাড়িয়ে হুমকি-হুঁশিয়ারি দিলে জনমানসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে, এটা রাজ্য নেতৃত্বকে বুঝিয়েই ভাইচুং সক্রিয় হয়েছেন। পর্যটনমন্ত্রী গৌতমবাবু এ দিন বলেন, ‘‘ভাইচুং কেন চিঠি লিখেছেন বা কী লিখেছেন, তা আমি জানি না। দলের যা বক্তব্য তা গত কাল বলে দিয়েছি।’’ মন্ত্রীর হুঁশিয়ারির প্রতিবাদে আগামী ৮ অগস্ট প্রতিবাদ মিছিল করবে বামেরা।