E-Paper

নথি মেলেনি ৭০ শতাংশেরই!

২০২৫ সালের সর্বশেষ তালিকায় রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। তার মধ‍্যে ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় যাঁদের নিজস্ব বা নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে মিল নেই (আন-ম‍্যাপড), তেমন ৩১ লক্ষ ২৫ হাজার মানুষকে শুনানির নোটিস পাঠিয়েছিল কমিশন।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৬:৫১

— ফাইল চিত্র।

রাজ্যে মোট ভোটারের তুলনায় ‘আন-ম‍্যাপড’ ভোটারের সংখ্যা নেহাতই সামান্য। কিন্তু তার পরেও তাঁদের নথির বৈধতা যাচাই করতে গিয়ে জেরবার অবস্থা শুনানি-আধিকারিকদের। কারণ, বেশির ভাগের নথি আপলোডই করা যাচ্ছে না কমিশনের সফটওয়্যারে! কমিশন জানিয়ে দিয়েছিল, তাদের তালিকাভুক্ত নথি ছাড়া অন‍্য কোনও কিছুই গ্রাহ্য হবে না। ফলে সফটওয়্যার তৈরি হয়েছে তেমনসুরক্ষাকবচ দিয়েই।

২০২৫ সালের সর্বশেষ তালিকায় রাজ্যের মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। তার মধ‍্যে ২০০২ সালের এসআইআর তালিকায় যাঁদের নিজস্ব বা নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে মিল নেই (আন-ম‍্যাপড), তেমন ৩১ লক্ষ ২৫ হাজার মানুষকে শুনানির নোটিস পাঠিয়েছিল কমিশন। মোট ভোটার সংখ্যার তুলনায় এর হার প্রায় ৪%। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তাতে ৩১.২৫ লক্ষ ভোটারের মধ্যে নোটিস পেতে বাকি ছিলেন প্রায় ৪৩ হাজার ভোটার। তবে এ কাজে বেশি সময় লাগার কথাই নয়। ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে শুনানির কাজ। নির্দিষ্ট রয়েছে অন্তত ৩২৩৪টি শুনানি কেন্দ্র। এক একটি কেন্দ্রে ১১ জন করে আধিকারিক দৈনিক প্রায় ১০০টি করে শুনানিকরে চলেছেন।

কিন্তু কমিশনের পদ্ধতিতে ধরা পড়েছে, নথি আপলোড করা গিয়েছে মোটে ৭.৪০ লক্ষের বা প্রায় ৩০%-এর। এই তথ্যের পরেই শুরু হয় খোঁজখবর। জেলা-কর্তারা জানাচ্ছেন, বাকি ভোটারদের নথি আপলোডই করা যাচ্ছে না। কারণ, সেগুলি সবই কমিশনের তালিকা বা নির্ধারিত বিধির বাইরের নথি। কমিশনের বিধিতে ‘বৈধ’ হিসাবে সেই নথিগুলির মধ্যে ৬.৭৮ লক্ষ নথি জেলাশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে পুনর্যাচাইয়ের জন‍্য। তার মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ১২০০টি নথির পুনর্যাচাই শেষ হয়েছে।

নথি নিয়ে কেন এই সমস্যা?

জেলাকর্তাদের একাংশ জানাচ্ছেন, এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকেই নানা ধরনের নথি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। তার অন্যতম ‘ডমিসাইল’ শংসাপত্র এবং ‘ফ্যামিলি রেজিস্টার’। এ নিয়ে কমিশন ও রাজ্যের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। রাজ্যের ব্যাখ্যা চেয়ে পাঠায় কমিশন। সূত্রের খবর, স্বরাষ্ট্র দফতর কমিশনকে জানিয়েছে, ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত রাজ্য সরকারি বিধি অনুযায়ী, ডমিসাইল শংসাপত্র দেওয়ার কথা প্রধানত অবাঙালিদের, যাঁরা রাজ্য ‘কোটায়’ সেনা বা আধা সেনায় চাকরি পেতেন। তবে সঙ্গে তারা এ-ও জানায়, বিভিন্ন ধরনের বৃত্তি, স্কুল-কলেজে ভর্তির মতো নানা কারণেও এই শংসাপত্র দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র দফতরের রিপোর্টের পরে সেই শংসাপত্র যে এসআইআরে গ্রাহ্য হবে না, তা ইতিমধ্যে জানিয়েছে কমিশন। ফলে জেলায় জেলায় হাজার হাজার এমন শংসাপত্র কার্যত অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে। আবার ‘ফ্যামিলি রেজিস্টার’ও দেওয়া হচ্ছিল বলে জেলা-কর্তাদের দাবি। তবে এ রাজ্যে এমন শংসাপত্রের সুনির্দিষ্ট বিধি না থাকার কারণে সেই নথিও গ্রহণযোগ্য হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে কমিশন। এক জেলা-কর্তার কথায়, “এমন নথিগুলি কার্যকর না থাকায় তা আপলোড করা যাচ্ছে না। কারণ, বহু মানুষ এগুলি ছাড়া কমিশনের তালিকাবদ্ধ ১৩টি নথির মধ্যে আর কিছুই দিতে পারছেন না। অনেকে শুধু আধার দিচ্ছেন। অথচ কমিশনের নিয়মে আধারের সঙ্গে অন্য একটি নথিও দাখিল করার কথা।”

এই পরিস্থিতিতে নথি না থাকা ব্যক্তিদের কী হবে, তা নিয়ে চর্চা রয়েছে প্রশাসনে। কমিশন সূত্রের বক্তব্য, অন্তত আগামী ১ ফ্রেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুনানির কাজ হবে। আবার যে ১৩টি নথির তালিকা কমিশন প্রকাশ করেছে, তা এমন ভাবেই রয়েছে, যার সঙ্গে মানানসই যে কোনও একটি নথি দিলেই চলে। তবে রাজ্য সরকারের নিজস্ব নিয়ম বা বিধিতে যে নথি গ্রহণযোগ্যই নয়, তা কমিশনও গ্রহণ করতে পারে না। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে। জেলাশাসকদের বলা হয়েছে, তাঁরা এমন সব ঘটনা ও নথির রিপোর্ট পাঠালে, তা খতিয়ে দেখবে কমিশন। তবে বিভিন্ন জনজাতি, প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দা, চা-বাগান ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিধি ইতিমধ্যে অনেক শিথিল হয়েছে। জেলাশাসক নিজে সেই ভোটার ও এলাকার বাসিন্দাদের শুনানি করে ছাড়পত্র দিতে পারেন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Special Intensive Revision SIR SIR hearing

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy