Advertisement
E-Paper

ছাঁকা জল তুলেই কোনওমতে চালু একটা মাত্র ইউনিট

গঙ্গায় জল সঙ্কটের দরুণ মাস খানেকের মধ্যে দু’বার ফরাক্কা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এ বিষয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক মইনুল হক।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০১৬ ০২:৩২
এ ভাবেই জল ছেঁকে চলছে কাজ। — নিজস্ব চিত্র

এ ভাবেই জল ছেঁকে চলছে কাজ। — নিজস্ব চিত্র

গঙ্গায় জল সঙ্কটের দরুণ মাস খানেকের মধ্যে দু’বার ফরাক্কা তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এ বিষয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক মইনুল হক।

তিনি বলেন, ‘‘ভারত-বাংলাদেশ জলবণ্টন চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে বিপুল জল দিতে হচ্ছে। আর তাতেই ফিডারল ক্যানালে জল টান পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এই অবস্থায় জলবণ্টন চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা দরকার।’’

এনটিপিসির ফরাক্কার প্রকল্প থেকে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ পায় পশ্চিমবঙ্গ। ৩৩ শতাংশ। বিহার পায় ২০ শতাংশ। চুক্তি মতো বাংলাদেশ ১ এপ্রিল থেকে ৩৫ হাজার কিউসেক জল পেতে শুরু করেছে। আর এতেই শুক্রবার থেকেই জল সঙ্কট শুরু হয়। ফিডার ক্যানালের জলস্তর কমে যাওয়ায় ১৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষম ৫টি ইউনিট বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফরাক্কা তাপবিদুৎ কেন্দ্রের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শৈবাল ঘোষ জানান, অত্যাধুনিক কুলিং টাওয়ারের মাধ্যমে বার্জের উপর পাম্প বসিয়ে ফিডার ক্যানাল থেকে নিজেদের ইনটেক ক্যানালে যথাসম্ভব জল তুলে কোনওরকমে ষষ্ঠ ইউনিটটি চালু রাখা হয়েছে।

তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (মানব সম্পদ) মিলন কুমার জানান, ২১০০ মেগাওয়াটের ৬টি ইউনিট চালাতে ইনটেক ক্যানালে একটানা ৩০০০ হাজার কিউসেক জল সরবরাহ প্রয়োজন। এর জন্য ফিডার ক্যানালে কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ হাজার কিউসেক জল প্রবাহ থাকতে হবে।

১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ৩০ বছরের ভারত-বাংলাদেশ জল বণ্টন চুক্তি সম্পাদিত হয়। গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৫ মাস ধরে এই চুক্তি মতো ১০ দিনের ব্যবধানে পরিবর্তিত হয় দুই দেশের মধ্যে এই জল বণ্টনের পরিমাণ। আর তাতেই সঙ্কটের মুখে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ। ফরাক্কা ব্যারাজের এক কর্তা বলেন, “ চুক্তি মতো ১ থেকে ১০ মার্চ ফরাক্কা থেকে ৩৫ হাজার কিউসেক জল পাওয়ার কথা বাংলাদেশের। ১১ থেকে ২০ মার্চ জলের প্রবাহ মাত্রা কমে গেলেও বাংলাদেশকে সেই ৩৫ হাজার কিউসেক পরিমাণ জলই দেওয়া হয়। ফলে ১১ মার্চ প্রথম অচল হয়ে
যায় ৬টি ইউনিট। এবারে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ১০ দিনের ব্যবধানে ৩৫ হাজার কিউসেক জল পাবে বাংলাদেশ। এর মধ্যে বৃষ্টি না হলে জল সঙ্কট কাটবে না।’’ এ দিকে বার বার উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। এনটিপিসির হিসেবে প্রতিদিন গড়ে ১২ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।

farakka thermal power plant
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy