E-Paper

অসঙ্গতি নিয়ে ফের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টে জয় গোস্বামী

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর নিয়ে আগেই একগুচ্ছ মামলা দায়ের হয়েছে। এ বার কবি জয় গোস্বামী মামলা দায়ের করায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৪৯
কবি জয় গোস্বামীকে তলব নির্বাচন কমিশনের।

কবি জয় গোস্বামীকে তলব নির্বাচন কমিশনের। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এসআইআর-এর জেরে সাধারণ নাগরিকের হেনস্থা ও আতঙ্কের অভিযোগ নিয়ে এ বার কবি জয় গোস্বামী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন। তাঁর তরফে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করা হয়েছে।২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম না থাকার জন্য গত মাসে জয় গোস্বামীর কাছেও নোটিস এসেছিল। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এসআইআর সাধারণ মানুষের উপরে অভিশাপ নামিয়ে এনেছে। এর প্রক্রিয়ায় পরিশোধন প্রয়োজন। তাই সুপ্রিম কোর্টের কাছে যাওয়া।’’

নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে তথ্যগত অসঙ্গতির ( ‘লজিকাল ডিসক্রেপেন্সি’) ভিত্তিতে যে শুনানির নোটিস পাঠাচ্ছে, তা নিয়ে গত সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্ট একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছিল। তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশের সঙ্গে জন্মতারিখের প্রমাণপত্র হিসেবে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডও গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছিল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ। আজ সুপ্রিম কোর্টে ফের অভিযোগ উঠেছে, এর পরেও সমস্যা রয়ে যাচ্ছে। নতুন দায়ের হওয়া মামলার উল্লেখ করে এক আইনজীবী বলেন, ‘‘তথ্যগত অসঙ্গতির ফলে সমস্যা রয়ে যাচ্ছে। বিশেষত সাংস্কৃতির কারণে পদবি না মেলার ফলে। যেমন মুখোপাধ্যায় বা মুখার্জি আলাদা বলে ধরে নিয়ে তথ্যগত অসঙ্গতির প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। বহু ক্ষেত্রে আধার গ্রহণ করা হচ্ছে না।’’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘সংবিধানের ৩২-তম অনুচ্ছেদের আওতায় দায়ের করা মামলায় সব সমস্যার সমাধান করতে পারব না।’’ প্রসঙ্গত, সংবিধান প্রদত্ত অধিকার কার্যকর করার জন্য ওই অনুচ্ছেদের আওতায় সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চাওয়া যায়। প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘রোজ অন্তর্বর্তী মামলা দায়ের হচ্ছে। মনে হচ্ছে, গোটা প্রক্রিয়া স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।’’ গত ১৯ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের তথ্যগত অসঙ্গতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যে সব নির্দেশ গিয়েছিল, তা নিয়ে ২৩ ফেব্রুয়ারি শুনানি নির্ধারিত ছিল। আজ ফের এ বিষয়ে সমস্যা উঠে আসায় আগামী সোমবার শুনানি হবে বলে জানান প্রধান বিচারপতি। এর আগে তৃণমূলের দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়েনদের তরফে যে মামলা দায়ের হয়েছিল, তা বুধবার শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর নিয়ে আগেই একগুচ্ছ মামলা দায়ের হয়েছে। এ বার কবি জয় গোস্বামী মামলা দায়ের করায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সূত্রের খবর, তৃণমূলের দোলা সেন, পূর্ণেন্দু বসু ও অন্যান্যদের উদ্যোগে যে ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’ এসআইআর নিয়ে সরব, তাঁদের উদ্যোগেই জয়ের তরফে নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। জয় বলেন, ‘‘আমার কাছে যখন নোটিস এসেছিল, তখন আমি তিনটি অস্ত্রোপচারের পরে শয্যাশায়ী। আমার পরিবারের সদস্যরা নথি জমা দিয়েছেন। কিন্তু আমার থেকেও যাঁদের খারাপ অবস্থা, সংবাদপত্রে দেখছি, সেই রকম অসুস্থ বা বয়স্ক মানুষদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। নাগরিকদের মধ্যে ভয়ের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। এই চাপের ফলে মৃত্যু বা আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। এটা স্পষ্ট যে আইনের জালের মধ্যে দিয়ে অত্যাচারের পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই সুপ্রিম কোর্টের কাছে যাওয়া।’’

বিহারে এসআইআর শুরু হতেই তার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের তরফে আইনজীবী মনিন্দর সিংহ যুক্তি দিয়েছেন, নিরন্তর ভোটার হিসেবে যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। এক বার কেউ ভোটার তালিকায় ছিলেন বলে তিনি দাবি করতে পারেন না যে যোগ্যতা না থাকলেও তাঁকে ভোটার তালিকায় রেখে দিতে হবে। ইভিএমের মতো এসআইআর নিয়েও সংশয় তৈরি করা হচ্ছে। কমিশনের আর এক আইনজীবী ডি এস নায়ডু বলেন, ‘‘নাগরিকত্ব নির্ধারণ ও যাচাই করার মধ্যে ফারাক রয়েছে। নির্বাচন কমিশন নির্ধারণ করছে না। শুধু যাচাই করছে। এ দেশে ৭৫ বছরের ইতিহাসে নির্বাচন চুরির অভিযোগ ওঠেনি। এটা ব্যানানা রিপাবলিক নয়।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Joy Goswami Supreme Court of India Special Intensive Revision West Bengal SIR SIR hearing

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy