ভারতীয়রা কম ঘুমোচ্ছেন। ৪৬ শতাংশের চোখে ঘুমই নেই। এমন দাবি ঘিরেই আলোচনা শুরু হয়েছে। টানা ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম তো দূরে থাক, ৬ ঘণ্টাও নিশ্চিন্তে ঘুমোন না এ দেশের অধিকাংশ মানুষ। সমীক্ষায় দাবি এমনই। কেন ঘুম আসে না, তার কারণ অনেক হতে পারে। কেউ আঙুল তুলেছেন ডিজিটাল আসক্তিকে, কেউ আবার পেশাগত ক্ষেত্রকে। কারণ যা-ই হোক, সমাধানের উপায় শুধু ওষুধ হতে পারে না। অনিদ্রাকে যদি জব্দ করতে হয়, তা হলে ব্যায়ামই ভরসা হতে পারে। কঠিন ব্যায়াম নয়, শরীরে সহ্য হয় এমন সহজ কিছু ব্যায়াম ও যোগাসন দু’চোখের পাতায় ঘুম নিয়ে আসতে পারে।
বিস্ময়কর ভাবে ঘুম কমে যাচ্ছে মানুষের জীবন থেকে। জীবিকার চাপে নিদ্রাহীন হয়ে পড়ছেন মানুষ। আবার ডিজিটাল আসক্তির যুগে রাতে শুয়েও ঘুম নেই। মানসিক ক্লান্তি যতই থাক, মোবাইলের পর্দায় স্ক্রলিং, ওয়েবসিরিজের আরও একটা পর্ব দেখে নেওয়ার অদম্য ইচ্ছা, ঘুম তাড়িয়ে দিচ্ছে অনায়াসে। এই আসক্তি কাটিয়ে ওঠা সহজ নয়, তবে খুব কঠিনও নয়। যদি আসক্তির জায়গাটা অদলবদল করে নেওয়া যায়। মোবাইল হাতে নেওয়ার বদলে খানিক ব্যায়াম করে নিলে চোখেরও শান্তি, মনেরও।
আরও পড়ুন:
হাঁটাহাঁটি, সাইকেল চালানো বা অ্যারোবিক ব্যায়াম করলে অনিদ্রার সমস্যা দূর হতে পারে। তবে তা নিয়মিত করতে হবে। এই ধরনের শারীরিক কসরত করার সুবিধা না থাকলে, ঘরে বসেই নানা ধরনের যোগাসন করা যেতে পারে।
বিপরীত করণী
প্রথমে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। তার পর পা দু’টি জোড়া করে উপরের দিকে তুলুন। নিতম্ব দু’হাতের চেটো দিয়ে ঠেলে উপরের দিকে তুলতে হবে। কোমর এবং পা যেন সোজা থাকে। পা শূন্যে তোলার পর শ্বাসপ্রশ্বাস যেন স্বাভাবিক থাকে। ওই অবস্থায় থেকে মনে মনে এক থেকে দশ পর্যন্ত গুনতে হবে। তার পর আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে হবে।
মালাসন
হাঁটু মুড়ে উবু হয়ে বসুন। পিঠ যেন টান টান থাকে। দু’পা যথা সম্ভব কাছাকাছি রাখুন। হাত দু’টি নমস্কারের ভঙ্গিতে একসঙ্গে জড়ো করুন। প্রণাম করার ভঙ্গিতে দু’টি হাত এমন ভাবেই রাখবেন যেন দু’টি কনুই দুই হাঁটু স্পর্শ করতে পারে। টানা ৩-৪ মিনিট এই আসনে থাকার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় আসুন।
আরও পড়ুন:
পশ্চিমোত্তাসন
এই আসনটি করতে সবার প্রথমে চিত হয়ে শুয়ে দু’হাত মাথার দু’পাশে উপরের দিকে রাখুন। পা দু’টি একসঙ্গে জোড়া রাখুন। এ বার আস্তে আস্তে উঠে বসে সামনে ঝুঁকে দু’হাত দিয়ে দুই পায়ের বুড়ো আঙুল স্পর্শ করুন। কপাল দু’পায়ে ঠেকান। হাঁটু ভাঁজ না করে পেট ও বুক ঊরুতে ঠেকান। কিছু ক্ষণ এই ভঙ্গিতে থাকার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুন।