গলায় বা বুকে জ্বালা হলে তার নেপথ্য কারণ অম্বলের সমস্যা, এ কথা তো সকলেরই জানা। কিন্তু সে মুহূর্তে কোন ধরনের খাবার খাওয়া উচিত, কোন খাবার নয়, তা নিয়ে ধন্দে থাকেন অনেকেই। নিয়মিত বুকজ্বালার সমস্যা হলে কেবল ওষুধের উপর ভরসা করলে চলবে না। তারই সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ভাবনাচিন্তা করতে হবে। চিকিৎসকেরা বলছেন, এমন কিছু কম অ্যাসিডযুক্ত খাবার রয়েছে, যেগুলি পেটকে শান্ত রাখে, অ্যাসিডের প্রভাব কমায় এবং অস্বস্তি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স তখনই হয়, যখন পেটের অ্যাসিড উপরের দিকে উঠে খাদ্যনালিতে চলে আসে। এতে বুকের মধ্যে জ্বালাভাব, টক ঢেকুর বা অস্বস্তি তৈরি হয়। খাবারের ধরন এই সমস্যাকে বাড়াতেও পারে, আবার কমাতেও পারে। তাই কম অ্যাসিডযুক্ত, হালকা খাবার বেছে নেওয়াই মূল কৌশল।
কষ্ট কমানোর জন্য কোন কোন খাবার বেছে নেবেন?
১. পেঁপে: অত্যন্ত পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর ফল। হজমশক্তি বৃদ্ধি করে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা প্যাপেইন এনজ়াইম প্রোটিন হজমে সাহায্য করে এবং প্রচুর ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যরক্ষা করে।
২. কলা: কম অ্যাসিডযুক্ত ফল হিসাবে কলা খুবই নিরাপদ। এটি পেটের ভিতরের আস্তরণকে সুরক্ষা দিতে পারে।
৩. রাঙাআলু: দ্রবণীয় ফাইবারে ভরপুর এই সব্জি। রাঙাআলু মৃদু অ্যাসিডিক হয়। যার ফলে রাঙাআলু খেলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা কমতে পারে।
৪. আদা: প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে টাটকা আদা। এটি হজমের প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে, ফলে অস্বস্তি কমে।
৫. ওট্স: ফাইবারে ভরপুর এবং পেটের অতিরিক্ত অ্যাসিড শোষণ করতে সাহায্য করে ওট্স। ফলে বুকজ্বালা কমে এই খাবারটি খেলে।
৬. পপকর্ন: পাকস্থলির অতিরিক্ত অ্যাসিড শোষণ করতে পারে পপকর্ন। কম ফ্যাট এবং বেশি ফাইবারযুক্ত এই খাবার তাই স্বস্তি দিতে পারে।
৭. ইসবগুল: পাকস্থলির ভিতরে একটি সুরক্ষামূলক জেল-জাতীয় আস্তরণ তৈরি করে ইসবগুল। ফলে অ্যাসিডের প্রভাব কমিয়ে হজমে সাহায্য করে এটি।