কোলন বা বৃহদন্ত্রের ক্যানসারে কেন কমবয়সিরাই আক্রান্ত হচ্ছেন, তা নিয়ে বিশ্ব জুড়ে গবেষণা চলছে। ক্যানসার যে এখন আর কেবল বয়সকালের রোগ নয়, তা তো প্রমাণিত। সমীক্ষা বলছে, ত্রিশ থেকে চল্লিশের কোঠায় কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। এর কারণ কেবল অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নয়। বরং এর নেপথ্যে রয়েছে বৃহদন্ত্রের গঠনগত কিছু ত্রুটি ও জিনের কারসাজি।
‘অ্যাডভান্সড সায়েন্স’ জার্নালে গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাসের গবেষকেরা কোলন ক্যানসারের কারণ নিয়ে তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। বিজ্ঞানীদের দাবি, বয়স্কদের তুলনায় কমবয়সিদের বৃহদন্ত্রের কোষগুলি অনেক বেশি শক্ত ও পুরু হয়ে যায়। সে কারণে ওই কোষগুলির অস্বাভিক বিভাজনের পথ খুলে যায়। অনেক সময়ে দেখা যায়, কোষগুলিতে ক্ষত বা ফাইব্রোসিস হয়েছে। তখন ক্যানসারের আদর্শ পরিবেশ তৈরি হয়। এই বিষয়ে একমত আমেরিকার সাউথওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরাও। তাঁদের যুক্তি, কোষ এমন শক্ত হয়ে যাওয়া বা কোষের দেওয়াল পুরু হয়ে ওঠার কারণ হল, অতিরিক্ত কোলাজেন। কী কারণে কমবয়সিদের বৃহদন্ত্রে এত অধিক পরিমাণে কোলাজেনের সঞ্চয় হচ্ছে, তা গবেষণা করে দেখা হচ্ছে।
‘মাইক্রোইনডেন্টেশন টেস্ট’ নামক একটি পরীক্ষা করে এই বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন গবেষকেরা। তাঁরা পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৯ জন ও পঞ্চাশের কম বয়সি ১৪ জন তরুণের কোলনের কোষগুলি পরীক্ষা করে দেখেছেন, বেশির ভাগেরই কোষে ক্ষত তৈরি হয়েছে। কোষের দেওয়াল অস্বাভাবিক শক্ত হয়ে গিয়েছে, যা ক্যানসারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন:
খাদ্যাভ্যাসই কি এর একমাত্র কারণ? তা মানতে রাজি নন বিজ্ঞানীরা। কেবল অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়ার কারণেই যে এমন হচ্ছে, তা নয়। এর নেপথ্যে জিনের কারসাজি রয়েছে বলেও মত তাঁদের। নির্দিষ্ট কিছু জিনের মিউটেশন বা রাসায়নিক বদলের কারণে কোলন ক্যানসার হতে পারে। এই জিনগুলি বংশগত ভাবেই আসে। এর মধ্যে রয়েছে এপিসি জিন,এমএলএইচ১, এমএসএইচ২, পিএমএস২ ও ইপিসিএএম। এই জিনগুলির কোনও একটি যদি তার বিন্যাসে বদল আনে, তা হলে ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। গবেষকেরা পরীক্ষা করে দেখছেন, ঠিক কোন কোন জিন কোলনের কোষের বদল ঘটাচ্ছে। সেই জিনগুলিকে শনাক্ত করতে পারলেই, ক্যানসার হওয়ার আগে তা প্রতিরোধের উপায় বার করা সম্ভব হবে।
কোলন ক্যানসার প্রাথমিক ভাবে ধরা পড়লে তার নিরাময় সম্ভব। তবে ছড়িয়ে পড়লে তা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত কোষগুলিকেও আলাদা ভাবে চেনা যায়। এগুলিকে বলা হয় ‘স্পেশ্যাল মার্কার’। কারণ, কোষগুলির গঠনে বদল আসে। আর বদলের কারণই হতে পারে জিন। যদি জিনগত ভাবে এই পরিবর্তনকে রোখা যায়, তা হলে ক্যানসার হওয়ার আর কোনও আশঙ্কাই থাকবে না।